
আজ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে গোটা দেশের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক রয়েছে। মূলত পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত নিয়ে কথা হবে। পাশাপাশি দেশে জ্বালানি সমস্যা নিয়েও কথা হতে পারে। তেমনই অনুমান ওয়াকিবহাল মহলের। এই বৈঠকেই আগেই গোটা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে আবারও হতে পারে লকডাউন। এই অবস্থায় দেশের পেট্রোলিমায় মন্ত্রী লকডাউন নিয়ে বড় তথ্য দিয়েছেন।
পশ্চিম এশিয়ার সংকটকে কেন্দ্র করে ভারতে আবার লকডাউন হতে পারে, এমন একটা গুজব ছড়িয়ে পড়েছে। কিন্তু কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী শুক্রবার সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এই খবর পুরোপুরি মিথ্যে। তিনি বলেছেন, মহামারীর সময়ের মতো দেশে লকডাউন করার কোনও প্রশ্নই ওঠে না। এই ধরনের গুজব ছড়ানোকে তিনি "দায়িত্বজ্ঞানহীন ও ক্ষতিকর" বলে সমালোচনা করেছেন।
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম X-এ পুরী লেখেন, "ভারতে লকডাউনের গুজব সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, ভারত সরকারের এমন কোনও প্রস্তাব বিচারাধীন নেই। এই সময়ে আমাদের শান্ত, দায়িত্বশীল এবং ঐক্যবদ্ধ থাকা উচিত। আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয়।"
বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট নিয়েও তিনি সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তিনি বলেন, "আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এখনও টালমাটাল। আমরা জ্বালানি, সাপ্লাই চেন এবং জরুরি পণ্যের ওপর প্রতি মুহূর্তে নজর রাখছি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে আমরা দেশের নাগরিকদের জন্য জ্বালানি এবং অন্যান্য জরুরি জিনিসের জোগান স্বাভাবিক রাখতে সবরকম ব্যবস্থা নিচ্ছি। যে কোনও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত। ভারত বরাবরই আন্তর্জাতিক অনিশ্চয়তার মুখে দৃঢ়তার পরিচয় দিয়েছে এবং আমরা সময়মতো সক্রিয়ভাবে কাজ চালিয়ে যাব।"
আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লেও প্রধানমন্ত্রী সাধারণ মানুষকে তার আঁচ থেকে বাঁচাতে সরকারের কোষাগারের ওপর চাপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। গত এক মাসে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি প্রায় ৭০ ডলার থেকে বেড়ে প্রায় ১২২ ডলারে পৌঁছেছে। এর ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পেট্রোল-ডিজেলের দাম আকাশছোঁয়া।
মন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, "দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলিতে দাম প্রায় ৩০%-৫০%, উত্তর আমেরিকায় ৩০%, ইউরোপে ২০% এবং আফ্রিকান দেশগুলিতে ৫০% বেড়েছে।"
পুরী X-এ আরও লেখেন, "রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর গত ৪ বছর ধরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশের মানুষকে বাঁচাতে সরকারের কোষাগারের ওপর চাপ নিয়েছেন। তেল সংস্থাগুলির বিপুল ক্ষতি (পেট্রোলে প্রায় ২৪ টাকা/লিটার এবং ডিজেলে ৩০ টাকা/লিটার) সত্ত্বেও সরকার করের বোঝা নিজের কাঁধে নিয়ে দাম নিয়ন্ত্রণে রেখেছে।" তিনি উল্লেখ করেন, মোদী সরকারের সামনে দুটি পথ খোলা ছিল, "হয় অন্য দেশের মতো ভারতেও দাম বাড়ানো, অথবা আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা থেকে দেশের মানুষকে বাঁচাতে নিজেদের কোষাগারের ওপর চাপ নেওয়া।"
পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার পেট্রোল ও ডিজেলের রফতানির ওপর কর বসিয়েছে। পুরী বলেন, "যেসব শোধনাগার বিদেশে তেল রফতানি করবে, তাদের এখন থেকে রফতানি কর দিতে হবে।"
কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনও এই বিষয়ে সরকারের দ্রুত পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন। তিনি X-এ লেখেন, "পশ্চিম এশিয়ার সংকটের কারণে পেট্রোল ও ডিজেলের ওপর কেন্দ্রীয় শুল্ক লিটার প্রতি ১০ টাকা কমানো হয়েছে। এর ফলে গ্রাহকরা দাম বাড়ার হাত থেকে রক্ষা পাবেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সবসময়ই সাধারণ মানুষকে জরুরি পণ্যের জোগান ও দামের অস্থিরতা থেকে রক্ষা করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এছাড়া, ডিজেলের রফতানির ওপর লিটার প্রতি ২১.৫ টাকা এবং এটিএফ-এর ওপর লিটার প্রতি ২৯.৫ টাকা শুল্ক বসানো হয়েছে। এর ফলে দেশের বাজারে এই পণ্যগুলির জোগান নিশ্চিত হবে।"
শুক্রবার সরকার পেট্রোলের ওপর শুল্ক কমিয়ে লিটার প্রতি ৩ টাকা এবং ডিজেলের ওপর শুল্ক শূন্য করে দিয়েছে। ডিজেল রফতানির ওপর উইন্ডফল ট্যাক্স লিটার প্রতি ২১.৫ টাকা করা হয়েছে। এই পদক্ষেপ এমন সময়ে নেওয়া হল যখন ইরান-মার্কিন-ইজরায়েল যুদ্ধের কারণে পশ্চিম এশিয়ায় সংকট তৈরি হয়েছে। তেহরান হরমুজ প্রণালীতে অবরোধ তৈরি করায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। এই প্রণালী দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০-২৫ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ও গ্যাস সরবরাহ হয়, যা মোট সরবরাহের পাঁচ ভাগের এক ভাগ। এই সংকটের আগে ভারত এখান থেকে ১২-১৫ শতাংশ তেল কিনত। এই সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিও জারি করা হয়েছে বলে সরকারি সূত্রে খবর।