
ভারতীয় বিমান বাহিনীকে আরও শক্তিশালী করার জন্য ভারত এখন ষষ্ঠ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান (6th Gen Fighter) কর্মসূচিতে যোগদানের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটিকে দেওয়া প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের (MoD) তথ্য অনুসারে, ভারত ইউরোপের দুটি প্রধান গোষ্ঠীর মধ্যে একটিতে যোগদানের কথা বিবেচনা করছে। এর লক্ষ্য হল উন্নত সামরিক প্রযুক্তির প্রতিযোগিতায় ভারত যেন পিছিয়ে না পড়ে তা নিশ্চিত করা। প্রতিবেদন অনুসারে, বিশ্বের দুটি প্রধান গোষ্ঠী বর্তমানে ষষ্ঠ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান তৈরি করছে। একটি হল যুক্তরাজ্য-ইতালি-জাপানের অংশীদারিত্বে গঠিত গ্লোবাল কমব্যাট এয়ার প্রোগ্রাম (GCAP), যা পূর্বে টেম্পেস্ট নামে পরিচিত ছিল এবং অন্যটি হল ফ্রান্স-জার্মানি-স্পেনের ফিউচার কমব্যাট এয়ার সিস্টেম (FCAS)। ভারতীয় বিমান বাহিনী এই প্রযুক্তিতে অংশ নিতে এই গোষ্ঠীগুলির মধ্যে একটিতে যুক্ত হতে চায়, যাতে ভবিষ্যতের যুদ্ধের চাহিদা সময়মতো মেটানো যায়।
ষষ্ঠ প্রজন্মের যুদ্ধবিমানের প্রয়োজন কী?
যেখানে পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমানগুলো মূলত স্টেলথ প্রযুক্তি, সেন্সর ফিউশন এবং নেটওয়ার্ক-ভিত্তিক যুদ্ধের ওপর জোর দেয়, সেখানে ষষ্ঠ প্রজন্মের প্ল্যাটফর্মগুলো এমন এক অত্যন্ত সংযুক্ত 'সিস্টেমের সমষ্টি' (systems of systems)-র ধারণা দেয়, যা এক ঝাঁক চালকবিহীন ড্রোন নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম। এছাড়া এতে থাকবে উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) সহায়তায় পরিচালিত সহযোগী চালকবিহীন যুদ্ধবিমান এবং পরবর্তী প্রজন্মের সেন্সর ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধ-ব্যবস্থা (electronic warfare suites) মোতায়েনের সক্ষমতা। অধিক শক্তি ও দক্ষতার জন্য 'অ্যাডাপ্টিভ-সাইকেল ইঞ্জিন', লেজারের মতো 'নির্দেশিত-শক্তি অস্ত্র' (directed-energy weapons) এবং শত্রুর নজর এড়িয়ে চলার অত্যন্ত উচ্চ সক্ষমতা বা 'অত্যন্ত কম দৃশ্যমানতা' (extremely low observability)—এগুলোও ষষ্ঠ প্রজন্মের যুদ্ধবিমানের প্রত্যাশিত বৈশিষ্ট্যগুলোর অন্তর্ভুক্ত। প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটি উল্লেখ করেছে যে আধুনিক যুদ্ধ দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে এবং উন্নত যুদ্ধবিমানের প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে। চিনও তার নিজস্ব ষষ্ঠ প্রজন্মের বিমান নিয়ে কাজ করছে এবং তাদের বিমানের কিছু ছবি প্রকাশ করেছে। এছাড়াও, পাকিস্তানকে তাদের পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান দিতে পারে বেজিং। যা ভারতের জন্য চ্যালেঞ্জ আরও বাড়িয়ে তুলছে।
ভারতের নিজস্ব প্রকল্প কতদূর এগিয়েছে?
ভারতও নিজস্ব পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান এএমসিএ (AMCA) নিয়ে কাজ করছে। প্রতিরক্ষা কমিটির মতে, এর নকশা চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং এর উৎপাদন নিয়ে আলোচনা চলছে। ভারতীয় বিমান বাহিনী ২০৩৫ সালের মধ্যে এই ধরনের ছয়টি স্কোয়াড্রন অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা করছে, যা দেশের বিমান শক্তিকে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করবে।
ইঞ্জিন এবং প্রযুক্তি নিয়ে কী প্রস্তুতি চলছে?
ভারত একটি শক্তিশালী ১১০-১২০ কিলোনিউটন (kN) ইঞ্জিন তৈরির জন্য একটি ফরাসি সংস্থার সঙ্গে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই ইঞ্জিনটি ভবিষ্যতের দেশীয় যুদ্ধবিমানে লাগানো হবে। এই পদক্ষেপ ভারতের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিকে আত্মনির্ভরশীলতার দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে এবং বিদেশি দেশগুলির উপর নির্ভরতা কমাবে।