
India Space Economy: কেন্দ্রীয় মহাকাশ প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং শনিবার জানিয়েছেন, আগামী ৭ থেকে ৮ বছরের মধ্যে ভারতের মহাকাশ অর্থনীতি ৯ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ৪০-৪৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই লক্ষ্য পূরণে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানো, দ্রুত সরকারি অনুমোদন এবং বাজারে টানা চাহিদা থাকাটা খুব জরুরি (India Space Economy)।
নয়াদিল্লিতে ব্লুমবার্গ নিউ ইকোনমি ফোরামের "স্পেস, সভরেনটি অ্যান্ড নিউ ইকোনমি" নামের এক গোলটেবিল বৈঠকে এই কথা বলেন। তিনি জানান, ভারতকে এখন শুধু প্রযুক্তির চমক দেখালে চলবে না, বরং বিশ্ববাজারে পাল্লা দেওয়ার মতো বাণিজ্যিক মহাকাশ কোম্পানি তৈরি করতে হবে। মহাকাশ দপ্তরের এক বিবৃতি অনুযায়ী, মন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, "ভারতীয় সংস্থাগুলিকে বিশ্ববাজারে জায়গা করে নিতে হলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। পাশাপাশি, ব্যবসার টেকসই মডেল এবং দ্রুত সরকারি ছাড়পত্র পাওয়াটাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।"
এই পূর্বাভাস সত্যি হলে ভারতের মহাকাশ অর্থনীতি বর্তমানের চেয়ে প্রায় পাঁচ গুণ বড় হবে। তবে এর জন্য বেসরকারি কোম্পানিগুলোকে এমন পণ্য বানাতে হবে যার বাজারে ভালো চাহিদা আছে এবং স্থায়ী ক্রেতা পাওয়া যায়। জিতেন্দ্র সিং মনে করিয়ে দেন, ২০১৯-২০২০ সালে মহাকাশ খাত বেসরকারি সংস্থার জন্য খুলে দেওয়ার পর দারুণ ফল পাওয়া গেছে। এখন মূল লক্ষ্য হল, আমাদের প্রযুক্তিগত ক্ষমতাকে লাভজনক ব্যবসায় বদলে ফেলা।
মন্ত্রী বাজারে চাহিদার কথা মাথায় রেখে বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো বেসরকারি মহাকাশ কোম্পানিগুলোর প্রধান ক্রেতা হিসেবে কাজ করতে পারে। এতে বাজারে আসার আগেই নতুন প্রযুক্তি তৈরি ও পরীক্ষা করা সহজ হবে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “সরকারি ক্রেতাদের সাহায্য পেলে সংস্থাগুলো তাদের প্রযুক্তির কার্যকারিতা প্রমাণ করতে পারবে এবং দ্রুত বাণিজ্যিক উৎপাদনে যেতে পারবে।” তিনি আরও বলেন, দ্রুত এক্সপোর্ট লাইসেন্স দেওয়া, ব্যবসার খরচ কমানো এবং সাপ্লাই চেইন মজবুত করা প্রয়োজন। মহাকাশ সংক্রান্ত পণ্যের ক্ষেত্রে জিএসটি (GST) নিয়মে যে বদল আনা হয়েছে, তার আসল সুবিধা যেন ব্যবসায়ীরা পান, সেদিকেও নজর দিতে বলেছেন মন্ত্রী।
তিনি বিনিয়োগের প্রসঙ্গে জানান, দেশি ও বিদেশি মূলধন টানার পাশাপাশি নিজেদের প্রযুক্তিগত ক্ষমতা বাড়ানো এবং কৌশলগত স্বাধীনতা বজায় রাখাও অত্যন্ত জরুরি।
তিনি স্যাটেলাইট যোগাযোগ, আর্থ অবজারভেশন এবং জিওস্পেশিয়াল প্রযুক্তির বাণিজ্যিক সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন। পরিকাঠামো নজরদারি, কৃষি, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং প্রতিরক্ষার মতো ক্ষেত্রে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। জিতেন্দ্র সিংয়ের মতে, ভারতের মহাকাশ খাতের পরবর্তী বড় লাফ নির্ভর করছে বেসরকারি বিনিয়োগ, বাজারের চাহিদা, সঠিক নিয়মকানুন এবং আন্তর্জাতিক চুক্তির ওপর। এগুলো ঠিকঠাক মিললেই বিশ্বমানের কোম্পানি গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।