
লাদাখের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় ইতিহাস গড়ল ভারতীয় বায়ুসেনা। চিন সীমান্তের কাছে নিউমা (Nyoma) বিমানঘাঁটিতে ১৩,৬২৯ ফুট উচ্চতায় সফলভাবে অবতরণ করল বায়ুসেনার IL-76MD ভারী সামরিক পরিবহন বিমান। বায়ুসেনার দাবি, এই ধরনের বিমানের ক্ষেত্রে গোটা বিশ্বে এটিই সর্বোচ্চ উচ্চতায় অবতরণের নজির। এই সাফল্য ভারতের সামরিক পরিবহণ ক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করবে বলে মনে করা হচ্ছে। IL-76MD রুশ প্রযুক্তিতে তৈরি চার ইঞ্জিনের একটি ভারী সামরিক পরিবহন বিমান। ভারতীয় বায়ুসেনায় এই বিমানকে ‘গজরাজ’ নামেও ডাকা হয়। সেনা, সামরিক সরঞ্জাম, ট্যাঙ্ক, ভারী যানবাহন এবং প্রয়োজনীয় রসদ পরিবহনে এই বিমানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
কিন্তু এত বড় বিমানকে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৩ হাজার ফুটেরও বেশি উচ্চতায় অবতরণ করানো মোটেই সহজ কাজ নয়। কারণ, পাহাড়ি এলাকায় উচ্চতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাতাসের ঘনত্ব কমে যায়। এর ফলে বিমানের ইঞ্জিনের কার্যক্ষমতা এবং ডানার লিফট তৈরির ক্ষমতা প্রভাবিত হয়। পাশাপাশি পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি, আবহাওয়ার পরিবর্তন এবং রানওয়ের পরিস্থিতিও পাইলটদের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। সমস্ত প্রতিকূলতা সামলে সফলভাবে অবতরণ করেছে বায়ুসেনার IL-76MD।
পূর্ব লাদাখের নিউমা বিমানঘাঁটি ভারতের সামরিক কৌশলের দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বা LAC-এর কাছাকাছি অবস্থিত এই বিমানঘাঁটি সীমান্ত এলাকায় সেনাবাহিনীর রসদ সরবরাহ এবং সামরিক যোগাযোগ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে পারে। ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে তৎকালীন বায়ুসেনা প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল এপি সিং C-130J বিশেষ সামরিক পরিবহণ বিমানে অবতরণ করে এই বিমানঘাঁটির উদ্বোধন করেছিলেন। প্রায় ২.৭ কিলোমিটার রানওয়েযুক্ত এই বিমানঘাঁটিতে যুদ্ধবিমান, পরিবহণ বিমান এবং হেলিকপ্টার পরিচালনার পরিকাঠামো রয়েছে। নিউমা বিমানঘাঁটির উন্নয়ন সীমান্ত এলাকায় ভারতের সামরিক প্রস্তুতি বাড়ানোর বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিউমায় IL-76MD-র সফল অবতরণ ভারতের কৌশলগত বিমান পরিবহন ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। লাদাখের মতো দুর্গম এলাকায় সড়কপথে সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম পৌঁছে দেওয়া অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। তুষারপাত, প্রতিকূল আবহাওয়া এবং পাহাড়ি রাস্তার কারণে যোগাযোগ ব্যবস্থাও ব্যাহত হতে পারে। সেক্ষেত্রে ভারী পরিবহন বিমান ব্যবহার করে সেনা, সরঞ্জাম এবং প্রয়োজনীয় রসদ দ্রুত পৌঁছে দেওয়ার অতিরিক্ত সুযোগ তৈরি হবে। বিশেষ করে পূর্ব লাদাখের সীমান্ত এলাকায় সেনাবাহিনীর রসদ সরবরাহ এবং দ্রুত মোতায়েনের ক্ষেত্রে এই সাফল্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। বায়ুসেনার মতে, এই অভিযান শুধু একটি বিমান অবতরণের ঘটনা নয়, বরং অত্যন্ত প্রতিকূল পরিবেশেও ভারতের সামরিক বিমান পরিবহনের সক্ষমতার প্রমাণ।