
পশ্চিম এশিয়ায় চলতে থাকা সংঘাতের আবহে ভারতীয় সেনা এবার আরও শক্তিশালী ব্রহ্মস সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইল কেনার জন্য বড়সড় অর্ডার দেওয়ার কথা ভাবছে। প্রতিরক্ষা আধিকারিকরা ANI-কে জানিয়েছেন, বর্তমানে ভারতীয় সেনার হাতে ৪৫০ কিলোমিটারেরও বেশি পাল্লার ক্রুজ মিসাইল রয়েছে। এবার তারা ৮০০ কিলোমিটারের বেশি দূরে আঘাত হানতে সক্ষম ব্রহ্মস ক্রুজ মিসাইলের নতুন সংস্করণ কিনতে চলেছে।
আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক হওয়ার কথা। সেখানেই সেনার এই পরিকল্পনায় সবুজ সঙ্কেত দেওয়া হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
গত বছর মে মাসে ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর সময় ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের আবহে এই মিসাইলগুলি নিজেদের কার্যকারিতা দারুণভাবে প্রমাণ করেছিল। যুদ্ধের সময় ভারতীয় প্রতিরক্ষা বাহিনী একাধিক জায়গায় পাকিস্তানের বিমানবাহিনীর ঘাঁটি ধ্বংস করতে ব্রহ্মস মিসাইল ব্যাপকভাবে ব্যবহার করেছিল।
ইরান, আমেরিকা এবং ইজরায়েলের মধ্যে চলতে থাকা সংঘাতও দূরপাল্লার মিসাইলের গুরুত্ব চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। ভারতীয় সেনা এখন নতুন প্রজন্মের যুদ্ধের চাহিদা মেটাতে প্রচুর পরিমাণে ড্রোন এবং মিসাইল নিজেদের বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করার দিকে নজর দিচ্ছে। ইতিমধ্যেই সেনা বড় পদক্ষেপ করেছে এবং বাহিনীর কাঠামোয় বড়সড় রদবদল এনেছে। এর অধীনে আর্টিলারি এবং ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টে বিশেষ ড্রোন রেজিমেন্ট এবং প্লাটুন তৈরি করা হচ্ছে।
পাশাপাশি, প্রতিরক্ষা বাহিনী একটি বিশেষ মিসাইল ফোর্স তৈরির কথাও ভাবছে এবং নিজেদের অস্ত্রভান্ডারে মিসাইলের সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। সেনা নিজেদের ওয়ার্কশপেই ড্রোন তৈরি করা শুরু করেছে এবং বড় আকারে এর উৎপাদনও চলছে। ব্রহ্মস সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইল ভারত ও রাশিয়ার যৌথ উদ্যোগে তৈরি হয় এবং এর একটি বড় অংশ এখন দেশীয় প্রযুক্তিতেই তৈরি হচ্ছে।
সেনার তিনটি বাহিনীর (স্থল, নৌ এবং বায়ু) কাছেই এই মিসাইল রয়েছে, যা আকাশ থেকে উৎক্ষেপণ, জাহাজ-বিধ্বংসী এবং ভূমি থেকে আক্রমণের কাজে ব্যবহার করা হয়। ভারত এখন ‘ব্রহ্মস নেক্সট-জেনারেশন’ মিসাইল তৈরির পরিকল্পনাও করছে, যা তেজসের মতো দেশীয় যুদ্ধবিমানগুলিতেও লাগানো যাবে।