
বৃহস্পতিবার বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ১৯৭৫ সালের জরুরি অবস্থার কথা মনে করিয়ে দিলেন। তিনি বলেন, ওই সময়টা ভারতের গণতন্ত্রের সহনশীলতার এক কঠিন পরীক্ষা নিয়েছিল।
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম X-এ একটি পোস্টে জয়শঙ্কর সেই সময় সাংবিধানিক মূল্যবোধ ও স্বাধীনতা রক্ষার জন্য যারা রুখে দাঁড়িয়েছিলেন, তাঁদের প্রশংসা করেন। তিনি লিখেছেন, "আজ জরুরি অবস্থা ঘোষণার বর্ষপূর্তিতে সেই সময়ের কথা মনে পড়ছে, যা ভারতের গণতন্ত্রের সহনশীলতাকে চরম পরীক্ষার মুখে ফেলেছিল। যাঁরা সাংবিধানিক মূল্যবোধ ও স্বাধীনতা রক্ষার জন্য রুখে দাঁড়িয়েছিলেন, তাঁদের সাহসিকতাকে আমি কুর্নিশ জানাই।"
তিনি আরও যোগ করেন, জরুরি অবস্থার ইতিহাস আমাদের প্রতিদিন মনে করিয়ে দেয় যে গণতন্ত্রকে রক্ষা করা, শক্তিশালী করা এবং যত্ন নেওয়া কতটা জরুরি।
প্রসঙ্গত, ১৯৭৫ সালের ২৫ জুন, তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ফখরুদ্দিন আলি আহমেদ সংবিধানের ৩৫২ নং ধারা প্রয়োগ করে "অভ্যন্তরীণ গোলযোগ"-এর কারণ দেখিয়ে জরুরি অবস্থা জারি করেন। এই জরুরি অবস্থা ১৯৭৫ সালের ২৫ জুন থেকে ১৯৭৭ সালের ২১ মার্চ পর্যন্ত বলবৎ ছিল।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ১৯৭৫ সালের জরুরি অবস্থাকে সংবিধানের উপর "সরাসরি আক্রমণ" বলে অভিহিত করেছেন। এই সময়ে যাঁরা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষা করেছিলেন, তাঁদের প্রতি তিনি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।
জরুরি অবস্থা জারির ৫১তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে একটি X পোস্টে মোদী নাগরিক স্বাধীনতা হরণ এবং কুখ্যাত MISA (Maintenance of Internal Security Act) আইনের অধীনে রাজনৈতিক নেতাদের গ্রেপ্তারের কথা স্মরণ করেন। তিনি লিখেছেন, "আজ আমরা ভারতের ইতিহাসের অন্যতম অন্ধকার অধ্যায়, জরুরি অবস্থার সময় যাঁরা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে দৃঢ়ভাবে রক্ষা করেছিলেন, তাঁদের সকলকে শ্রদ্ধা জানাই। জরুরি অবস্থা ছিল আমাদের সংবিধানের উপর এক সরাসরি আক্রমণ। সেই সময় নাগরিক স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয়েছিল, মত প্রকাশের স্বাধীনতায় বাধা দেওয়া হয়েছিল এবং রাজনৈতিক নেতা, সাংবাদিক, সমাজকর্মীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। আমাদের গণতন্ত্রের ভিত্তি যে প্রতিষ্ঠানগুলো, তাদের উপরও আক্রমণ করা হয়েছিল।"
তিনি আরও বলেন, "একই সাথে, এই সময় অগণিত সাধারণ নাগরিকের অসাধারণ সাহসও দেখা গিয়েছিল, যাঁরা চুপ করে না থেকে আমাদের সংবিধানে লেখা আদর্শকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরেছিলেন।"
প্রধানমন্ত্রী সাংবিধানিক মূল্যবোধ রক্ষার প্রতি তাঁর প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি পোস্টে লেখেন, “আমাদের সকলের জন্য, আমাদের সংবিধান হল ১৪০ কোটি ভারতীয়র আকাঙ্ক্ষা, অধিকার এবং কর্তব্যের প্রতীক। আমরা সাংবিধানিক মূল্যবোধ রক্ষার জন্য আমাদের সম্মিলিত প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করছি। সংবিধানের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে আমরা এমন একটি ভারত গড়ব যা ন্যায়, স্বাধীনতা, সাম্য এবং ভ্রাতৃত্বের প্রতি সর্বদা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে।”