
কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রী মনসুখ মান্ডব্যের লাগাতার হস্তক্ষেপের পর, দেশের প্রধান ডেলিভারি সংস্থাগুলিকে ১০ মিনিটের মধ্যে ডেলিভারির বাধ্যবাধকতা- এই শর্ত তুলে নিতে রাজি করানো হয়েছে বলে মঙ্গলবার সূত্র মারফত জানা গেছে। ডেলিভারির সময়সীমা নিয়ে উদ্বেগ দূর করতে ব্লিংকিট, জেপ্টো, জোম্যাটো এবং সুইগির মতো প্রধান প্ল্যাটফর্মগুলির সঙ্গে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সূত্র অনুযায়ী, ব্লিংকিট ইতিমধ্যেই এই নির্দেশ মেনে তাদের ব্র্যান্ডিং থেকে ১০ মিনিটে ডেলিভারির প্রতিশ্রুতি সরিয়ে দিয়েছে। আগামী দিনে অন্যান্য সংস্থাগুলোও একই পথে হাঁটবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হলো গিগ কর্মীদের জন্য আরও বেশি নিরাপত্তা এবং উন্নত কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করা।
সূত্র জানিয়েছে, এই পরিবর্তনের অংশ হিসেবে ব্লিংকিট তাদের ব্র্যান্ড মেসেজিং আপডেট করেছে। কোম্পানির প্রধান ট্যাগলাইন "১০ মিনিটে ১০,০০০-এর বেশি পণ্য ডেলিভারি" থেকে পরিবর্তন করে "৩০,০০০-এর বেশি পণ্য আপনার দোরগোড়ায়" করা হয়েছে।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে গিগ কর্মীদের কাজের পরিবেশ নিয়ে জনমানসে ব্যাপক বিতর্ক ও আলোচনা চলছে।
সাম্প্রতিক সংসদ অধিবেশনে, আপ-এর রাজ্যসভার এক সদস্য ভারতের গিগ কর্মীদের "যন্ত্রণা ও দুর্দশার" কথা তুলে ধরেন, যারা প্রচণ্ড চাপ এবং কখনও কখনও প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে কাজ করেন।
আপ সাংসদ রাঘব চাড্ডা কুইক কমার্স এবং অন্যান্য অ্যাপ-ভিত্তিক ডেলিভারি ও পরিষেবা ব্যবসার জন্য নিয়ন্ত্রণের দাবি জানিয়েছিলেন এবং গিগ কর্মীদের জন্য সামাজিক সুরক্ষা সুবিধার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়েছিলেন। সংসদে তার ভাষণে, তিনি গিগ কর্মীদের জন্য মর্যাদা, সুরক্ষা এবং ন্যায্য বেতনের আহ্বান জানান।
প্রথমবারের মতো, 'গিগ কর্মী' এবং 'প্ল্যাটফর্ম কর্মী'-এর সংজ্ঞা এবং সম্পর্কিত বিধানগুলি সামাজিক সুরক্ষা কোড, ২০২০-এ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা ২১ নভেম্বর, ২০২৫ থেকে কার্যকর হবে।
এই কোডে গিগ কর্মী এবং প্ল্যাটফর্ম কর্মীদের জন্য জীবন ও অক্ষমতা বীমা, দুর্ঘটনা বীমা, স্বাস্থ্য ও মাতৃত্বকালীন সুবিধা, বার্ধক্য সুরক্ষা ইত্যাদি বিষয়ে উপযুক্ত সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা তৈরির বিধান রয়েছে। কোডটি কল্যাণমূলক প্রকল্পগুলিতে অর্থায়নের জন্য একটি সামাজিক সুরক্ষা তহবিল প্রতিষ্ঠার বিধান দেয়। এছাড়াও, গিগ কর্মী এবং প্ল্যাটফর্ম কর্মীদের কল্যাণের জন্য একটি জাতীয় সামাজিক সুরক্ষা বোর্ড প্রতিষ্ঠার কথাও বলা হয়েছে।
এছাড়াও, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রক ২৬.০৮.২০২১ তারিখে অসংগঠিত কর্মী, প্ল্যাটফর্ম কর্মী, পরিযায়ী শ্রমিক ইত্যাদির একটি বিস্তারিত জাতীয় ডেটাবেস তৈরির জন্য ই-শ্রম পোর্টাল চালু করেছিল।