Satellites: 'শুধু ইসরোর পক্ষে সম্ভব নয়, ভারতের আরও ৩০০ স্যাটেলাইট দরকার', মহাকাশ গবেষণায় নয়া পদক্ষেপের ডাক

Published : Sep 07, 2026, 02:44 PM IST
Satellites: 'শুধু ইসরোর পক্ষে সম্ভব নয়, ভারতের আরও ৩০০ স্যাটেলাইট দরকার',  মহাকাশ গবেষণায় নয়া পদক্ষেপের ডাক

সংক্ষিপ্ত

Satellites: ইসরো চেয়ারম্যান ভি নারায়ণন জানিয়েছেন, আগামী বছরগুলিতে ভারতের ২০০-৩০০টি নতুন স্যাটেলাইটের চাহিদা তৈরি হবে। এই বিপুল চাহিদা একা ইসরোর পক্ষে মেটানো সম্ভব নয়। তাই দেশের শিল্প সংস্থা এবং স্টার্টআপগুলোকে আরও বেশি করে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

Satellites: ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ISRO-র চেয়ারম্যান ভি নারায়ণন দেশের শিল্পপতি, স্টার্টআপ এবং শিক্ষাবিদদের মহাকাশ খাতে আরও বেশি করে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, স্যাটেলাইট এবং উৎক্ষেপণের চাহিদা এতটাই বাড়ছে যে, "এই কাজ শুধু ইসরোর পক্ষে একা করা সম্ভব নয়"।

বেঙ্গালুরু স্পেস এক্সপো ২০২৬-এর নবম সংস্করণে ভাষণ দেওয়ার সময় নারায়ণন বলেন, ভারতের মহাকাশ কর্মসূচি এখন একটি নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করছে। এই পর্বে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ, প্রযুক্তিগত উন্নতি, উচ্চাকাঙ্ক্ষী মিশন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়বে।

তিনি বলেন, "আজ মহাকাশ থেকে আমাদের পরিষেবা দিচ্ছে মাত্র ৫৬টি অ্যাসেট। কিন্তু চাহিদা প্রচুর। আগামী ৬ থেকে ৭ বছরের মধ্যে অন্তত ২০০ থেকে ৩০০টি স্যাটেলাইট তৈরি করে পাঠাতে হবে। আর এই কাজটা শুধু ইসরো একা করতে পারবে না।"

নারায়ণন আরও জানান, সরকার বেসরকারি অংশগ্রহণের পথ সহজ করতে সংস্কার এনেছে। IN-SPACe বেসরকারি মহাকাশ কার্যকলাপের অনুমোদন দিচ্ছে এবং NewSpace India Limited (NSIL) বাণিজ্যিকীকরণে সাহায্য করছে।

শিল্প সংস্থাগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা

নারায়ণন দেশের মহাকাশ কর্মসূচিতে ভারতীয় শিল্প সংস্থাগুলোর অবদানের কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, একটি রকেট উৎক্ষেপণের বাজেটের প্রায় ৮০ শতাংশই ভারতীয় শিল্প সংস্থাগুলোর কাছে যায়।

তিনি বলেন, "যখনই কোনো রকেট—সে পিএসএলভি, জিএসএলভি বা এলভিএম৩ হোক—মহাকাশে যায়, দয়া করে বুঝবেন, তার বাজেটের ৮০ শতাংশই ভারতীয় শিল্প সংস্থাগুলোর কাছে যায়। এর মানে হলো, ভারতীয় মহাকাশ কর্মসূচির সাফল্যের কারণই হলো শিল্প ও শিক্ষাজগতের সঙ্গে অংশীদারিত্ব।"

তিনি ভারতের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমের বৃদ্ধির কথাও উল্লেখ করেন। বর্তমানে প্রায় ৪৫০টি স্টার্টআপ সংস্থা মহাকাশ খাতে কাজ করছে। নারায়ণন বলেন, ভারতের লক্ষ্য পূরণ করতে হলে উৎক্ষেপণের সংখ্যা অনেকটাই বাড়াতে হবে।

তাঁর কথায়, "আমি যখন ১৯৮৪ সালে ইসরোতে যোগ দিই, তখন তিন বছরে একটা লঞ্চ হতো, তারপর দু'বছরে একটা। আজ আমরা মাসে একটা করে উৎক্ষেপণ করছি। কিন্তু আমাদের বছরে প্রায় ৫০টা লঞ্চ দরকার। তাই আমাদের সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।"

বেসরকারি খাতের বৃদ্ধি নিয়ে IN-SPACe-এর বক্তব্য

IN-SPACe-এর চেয়ারম্যান পবন গোয়েঙ্কাও ভারতের বেসরকারি মহাকাশ খাতের দ্রুত সম্প্রসারণের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ২০১৪ সালে যেখানে মাত্র একটি স্পেস স্টার্টআপ ছিল, আজ তা বেড়ে ৪৫০-এর বেশি হয়েছে।

গোয়েঙ্কা বলেন, "২০১৪ সালে একটি স্পেস স্টার্টআপ থেকে শুরু করে এখন আমাদের ৪৫০-এর বেশি স্টার্টআপ রয়েছে। শুধু এই বছরেই ১৬০ মিলিয়ন ডলারের বেশি বেসরকারি পুঁজি এসেছে।"

তিনি স্কাইরুট অ্যারোস্পেসের অগ্রগতির উদাহরণ দেন। এই সংস্থাটি ভারতের প্রথম বেসরকারি রকেট তৈরি করে এবং পরে অরবিটাল লঞ্চের ক্ষমতা অর্জন করে। তিনি এটিকে বেসরকারি শিল্প, ইসরো এবং ইন-স্পেসের মধ্যে ক্রমবর্ধমান অংশীদারিত্বের একটি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, "এই অংশীদারিত্বই ভারতের আসল শক্তি। ছয় দশক ধরে তৈরি হওয়া একটি জাতীয় মহাকাশ সংস্থার গভীর অভিজ্ঞতা এখন তরুণ এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষী বেসরকারি শিল্পের সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করছে। ইসরো এবং শিল্প একসঙ্গে এগিয়ে চলেছে।"

বিশ্বব্যাপী মহাকাশ অর্থনীতির লক্ষ্য

গোয়েঙ্কা বলেন, ভারত একটি সম্পূর্ণ মহাকাশ অর্থনীতি তৈরি করছে, যেখানে ইসরো, ইন-স্পেস, এনএসআইএল, বেসরকারি কোম্পানি, এমএসএমই, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বিনিয়োগকারীরা যুক্ত।

তিনি ভারতীয় সংস্থাগুলোকে ভ্যালু চেইনে আরও ওপরে ওঠার এবং বিশ্ব বাজারে পরিষেবা দেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে ভারতকে উৎপাদন, প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং মহাকাশ-খাতের অংশীদারিত্বের একটি কেন্দ্র হিসেবে দেখার জন্য অনুরোধ করেন।

বেঙ্গালুরু স্পেস এক্সপোতে সরকারি প্রতিনিধি, মহাকাশ সংস্থা, আন্তর্জাতিক অংশীদার, শিল্প নেতা, স্টার্টআপ এবং শিক্ষাবিদরা বিশ্বব্যাপী মহাকাশ খাতে উদ্ভাবন, নীতি এবং বৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা করতে একত্রিত হয়েছেন।

আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।

PREV
Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

8th Pay Commission: AICPI-IW-এর সূচক আরও বৃদ্ধির ইঙ্গিত! ২০২৭ জানুয়ারি নাগাদ মহার্ঘ ভাতা ৬৬-৬৭%-এ পৌঁছাতে পারে
Old Monk: 'ওল্ড মঙ্ক' নাকি আসল RUM নয়! বোম্বে হাইকোর্টে চাঞ্চল্যকর দাবি করল খাদ্য সুরক্ষা কর্তৃপক্ষ, কারণ জানুন