
দিল্লির সত্য নিকেতনে অভিশপ্ত বহুতল ভবন ভেঙে পড়ায় মৃতের সংখ্যা বেড়েই চলছে। এখনও পর্যন্ত ছয়জনের মৃত্যুর তথ্য সামনে এসেছে। দিল্লি পৌর নিগম (এমসিডি) রবিবার সত্য নিকেতন এলাকার ১৩ নম্বর সম্পত্তির ভবনটি তিন দিনের মধ্যে ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে। "ভগ্নপ্রায় বা বিপজ্জনক অবস্থা"-র কথা উল্লেখ করে এমসিডি জানিয়েছে, এই ভবনটি বাসিন্দা ও আশপাশের মানুষদের জন্য বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দক্ষিণ অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলী (বিল্ডিং)-১ কর্তৃক জারি করা এমসিডি-র নির্দেশ অনুযায়ী, ওই চত্বরটি বসবাসযোগ্য অবস্থায় ছিল এবং তা বিপজ্জনক বলে চিহ্নিত হয়েছে। ১৯৫৭ সালের দিল্লি পৌর নিগম আইনের ৩৪৮ ধারা এবং ৪৯১ ধারার সঙ্গে সংযুক্ত করে এই নির্দেশ জারি করা হয়েছে।
পুরসভার তরফে ভবনের মালিক বা বাসিন্দাদের নির্দেশ পাওয়ার তিন দিনের মধ্যে সেটি ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে কোনও বিপদ এড়ানো যায়। এমসিডি আরও জানিয়েছে, নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে নির্দেশ পালন না হলে, তারা নিজেরাই ভবনটি ভেঙে ফেলবে এবং ভাঙার খরচ কর বকেয়া হিসেবে মালিকের কাছ থেকে আদায় করা হবে।
এদিকে, সত্য নিকেতনের বহুতল ধসের ঘটনায় গভীর রাতের উদ্ধারকাজে আরও একটি দেহ উদ্ধারের পর মৃতের সংখ্যা বেড়ে ছয়ে দাঁড়িয়েছে। জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ), দমকল বিভাগ, দিল্লি পুলিশ-সহ একাধিক সংস্থার দল উদ্ধারকাজে নিয়োজিত রয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া ব্যক্তিদের খোঁজে এনডিআরএফের সারমেয় বাহিনীর সাহায্যে ক্রমাগত তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে আম আদমি পার্টি (আপ)-র নেতা সঞ্জীব ঝা দিল্লি সরকার ও এমসিডি-র বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, ভবন নিরাপত্তা ও নিয়ম-নীতি নিয়ে বারবার আশ্বাস দেওয়া সত্ত্বেও এই ধরনের ঘটনা রুখতে কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
এএনআই-কে তিনি বলেন, আগেও এই একই ধরনের ঘটনা ঘটেছিল। তখন ভবনের উচ্চতা ও নিয়ম-নীতি নিয়ে বড় বড় কথা বলা হয়েছিল, কিন্তু ছয় মাস পরে ফের একই রকম ঘটনা ঘটল। তাঁর কটাক্ষ, এই সমস্ত ঘোষণা আসলে টাকা তোলার একটা অজুহাত মাত্র—ভবনের উচ্চতা সীমিত করার হুমকি দেওয়া বা নিয়ম ভাঙার অভিযোগ তুলে আসলে তোলাবাজি চালানো হয়।
সঞ্জীব ঝা আরও বলেন, প্রকৃতপক্ষে যদি ব্যবস্থা নেওয়া হতো, তাহলে এই ধরনের ঘটনা বারবার ঘটত না। তাঁর মতে, এই দায় সরকারের উপরেই বর্তায়। আগের ঘটনাগুলির পর যদি যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হতো, তাহলে পরবর্তী দুর্ঘটনাগুলি এড়ানো সম্ভব হতো। তিনি প্রশ্ন তোলেন, শহরে এত ক্ষতিগ্রস্ত ভবন চোখে পড়া সত্ত্বেও এমসিডি বা স্থানীয় বিজেপি নেতারা কেন তা দেখতে পান না। তাঁর ভাষায়, দিল্লিকে ধ্বংস করে দেওয়া তোলাবাজির চক্র ছাড়া আর কিছুই যেন তাঁদের চোখে পড়ে না।