
ঝাড়খণ্ডের মন্ত্রী সুদিব্য কুমার রবিবার গভীর রাতে গিরিডির মার্সি হাসপাতালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এই খবর জানিয়েছে। বুকে ব্যথার কারণে তাঁকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। ডাক্তাররা অনেক চেষ্টা করেও তাঁকে বাঁচাতে পারেননি, তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়।
মার্সি হাসপাতালের ডাক্তার শাহজাদ শেখ মন্ত্রীর শারীরিক অবস্থা নিয়ে বিস্তারিত জানান। তিনি বলেন, “রাত প্রায় ২:১৫ নাগাদ রোগী সুদিব্য কুমারকে আমাদের কাছে আনা হয়। গত দু'ঘণ্টা ধরে তাঁর বুকে ব্যথা ছিল। যখন তাঁকে এখানে আনা হয়, তখন তিনি অ্যাসপিরেট করেছিলেন, অর্থাৎ তাঁর বমি ফুসফুসে চলে গিয়েছিল। আনার সঙ্গে সঙ্গেই তাঁকে ইনটিউবেট করা হয়। ইসিজি-তে হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ ছিল। ১০-১৫ মিনিটের মধ্যেই রোগী কলাপ্স করেন। সঙ্গে সঙ্গে সিপিআর শুরু করা হয়। সিপিআর চলাকালীন সমস্ত পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়, কিন্তু সব চেষ্টা সত্ত্বেও রোগীকে মৃত ঘোষণা করা হয়।”
ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন সুদিব্য কুমারের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি সুদিব্য কুমারকে নিজের বড় ভাই এবং একজন একনিষ্ঠ সহকর্মী হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
এক্স-এ একটি পোস্টে সোরেন বলেন, “গভীর রাতে আমার বড় ভাই, আমাদের প্রিয় সুদিব্য কুমার সোনু জির মৃত্যুর হৃদয়বিদারক খবর পেলাম। এই খবরটা মেনে নেওয়া আমার জন্য খুব কঠিন। সোনু ভাইয়ের চলে যাওয়া আমার জীবনে এমন এক শূন্যতা তৈরি করেছে, যা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না।”
সুদিব্য কুমারের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের কথা মনে করে সোরেন বলেন, “সোনু ভাইয়া আমার কাছে শুধু একজন সিনিয়র সহকর্মী বা রাজনৈতিক সহযোগী ছিলেন না। তিনি ছিলেন বড় ভাইয়ের মতো—স্নেহশীল, পথপ্রদর্শক এবং প্রত্যেক কঠিন সময়ে আমার পাশে শক্তভাবে দাঁড়িয়ে থাকতেন। তাঁর সঙ্গে কাটানো মুহূর্ত এবং তাঁর থেকে পাওয়া শিক্ষা সারাজীবন আমার সঙ্গে থাকবে।”
সোরেন আরও বলেন, সুদিব্য কুমার ঝাড়খণ্ড আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং ঝাড়খণ্ডের পরিচিতি ও অধিকারের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। তিনি যোগ করেন, “ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার একজন একনিষ্ঠ সৈনিক হিসেবে তিনি ঝাড়খণ্ডের পরিচিতি, অধিকার এবং গর্বের লড়াইয়ে নিজের গোটা জীবন উৎসর্গ করেছেন। ঝাড়খণ্ডিয়াতের প্রতি তাঁর নিষ্ঠা এবং তাঁর অদম্য মনোভাব চিরকাল মনে থাকবে।”
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, মন্ত্রীর মৃত্যু তাঁর জন্য একটি ব্যক্তিগত ক্ষতি। তিনি আরও বলেন, “সোনু ভাইয়া, আপনার চলে যাওয়াটা আমার জন্য ব্যক্তিগত ক্ষতি। আপনার অভাব সারাজীবন অনুভব করব। আপনার স্নেহ, আপনার সংগ্রাম এবং ঝাড়খণ্ডের প্রতি আপনার দায়বদ্ধতা আমি সারাজীবন সঙ্গে নিয়ে চলব। আপনাকে চিরকাল মনে থাকবে, ভাইয়া।”
ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা (জেএমএম) তাদের বর্ষীয়ান নেতা ও মন্ত্রীর মৃত্যুতে শোক জানিয়েছে। দল বলেছে, তাঁর মৃত্যু দল, সরকার এবং রাজ্যের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।
এক্স-এ একটি পোস্টে জেএমএম জানায়, “ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার একজন একনিষ্ঠ সৈনিক হিসেবে তিনি ঝাড়খণ্ডের পরিচিতি, অধিকার এবং গর্বের লড়াইয়ে নিজের গোটা জীবন উৎসর্গ করেছেন। ঝাড়খণ্ডিয়াতের প্রতি তাঁর নিষ্ঠা এবং তাঁর অদম্য মনোভাব চিরকাল মনে থাকবে। আজ তাঁকে স্মরণ করতে গিয়ে মন বারবার ভাবছে জীবন কতটা ঠুনকো। যে কণ্ঠস্বর গতকাল পর্যন্ত আমাদের মধ্যে ছিল, তা এখন কেবল স্মৃতিতে। সোনু ভাইয়া, আপনার চলে যাওয়াটা আমার জন্য ব্যক্তিগত ক্ষতি। আপনার অভাব সারাজীবন অনুভব করব। আপনার স্নেহ, আপনার সংগ্রাম এবং ঝাড়খণ্ডের প্রতি আপনার দায়বদ্ধতা আমি সারাজীবন সঙ্গে নিয়ে চলব। আপনাকে চিরকাল মনে থাকবে, ভাইয়া।”
দলটি আরও যোগ করে, “ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার একনিষ্ঠ সহকর্মী এবং ঝাড়খণ্ড সরকারের মন্ত্রী সুদিব্য কুমারের অকাল মৃত্যুতে ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা পরিবার হতবাক ও শোকাহত। তাঁর চলে যাওয়া দল, সরকার এবং ঝাড়খণ্ডের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। তাঁর সংগ্রাম, সেবা এবং অবদান চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে। ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা পরিবারের পক্ষ থেকে আন্তরিক সমবেদনা। ঈশ্বর যেন প্রয়াত আত্মার শান্তি দেন এবং এই কঠিন সময়ে শোকসন্তপ্ত পরিবার ও সকল সহকর্মীকে শক্তি জোগান।”
এদিকে, জেএমএম মুখপাত্র মনোজ পাণ্ডে সুদিব্য কুমারের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে বলেন, তাঁর মৃত্যু দল এবং রাজ্যের রাজনীতির জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। এএনআই-কে তিনি বলেন, "আমাদের সহকর্মী এবং ক্যাবিনেট মন্ত্রী আর আমাদের মধ্যে নেই। তাঁর হার্ট অ্যাটাক হয়েছিল; যদিও তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, কিন্তু বাঁচানো যায়নি। এটা একটা মর্মান্তিক খবর, জেএমএম এবং ঝাড়খণ্ডের রাজনীতির জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি... সুদিব্য কুমার একজন অসাধারণ ব্যক্তিত্ব ছিলেন; তিনি আমার বন্ধুও ছিলেন। এটা বিশ্বাস করা কঠিন যে তিনি আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন।"