
ঝাড়খণ্ডে ছাত্র বিক্ষোভ সোমবার এক নতুন মাত্রা পেল। পরীক্ষার দুর্নীতি এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অস্বচ্ছতার অভিযোগে ঝাড়খণ্ড লোকতান্ত্রিক ক্রান্তিকারী মোর্চা (JLKM)-র নেতা দেবেন্দ্র নাথ মাহাতো 'বিধানসভা ঘেরাও' অভিযানে যোগ দেন। তবে তাঁর আসার ভঙ্গি ছিল চোখে পড়ার মতো। টানা ৯ দিন অনশনের পর, তিনি একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে বিক্ষোভে সামিল হন এবং বলেন, রাজ্য সরকারকে "ছাত্রদের দাবি শুনতেই হবে।"
ঝাড়খণ্ডের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী শিবু সোরেনের ছবি হাতে নিয়ে ছাত্রনেতা মাহাতো বলেন, "অনশনে থাকলেও এই কাঁটাতারের বেড়া আমাদের আটকাতে পারবে না। আমি অ্যাম্বুলেন্সে করে এখানে এসেছি। সরকারকে আমাদের কথা শুনতেই হবে।"
তিনি সাধারণ মানুষের কাছে আবেদন করে বলেন, তাঁকে যেন নায়ক বানানো না হয়। "আমি কোনও ভগবান বা মসিহা নই, আমি একজন সাধারণ মানুষ। আমার ব্যক্তিগত জীবনে কোনও পরিবর্তন আসবে না। কিন্তু অনশনের চেয়েও বেশি কষ্ট দিচ্ছে এই কাঁটাতারের বেড়া। ছাত্ররা তিন-তিনটে ব্যারিকেড টপকে এসেছে। সরকার কেন ছাত্রদের দাবি না মেনে রাজ্যে অরাজকতা চাইছে?"
পাশাপাশি, তিনি মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের কাছে আবেদন করেন, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে যেন পুলিশি পদক্ষেপ না নেওয়া হয়। "আজ মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের জন্মদিন। উনি এমন কোনও পদক্ষেপ যেন না নেন, যাতে দিল্লির যন্তর মন্তরের মতো দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা এখানেও ঘটে। এমন কিছু করবেন না যাতে কারও রক্ত ঝরে বা কেউ আহত হয় এবং ভিড় আরও উত্তেজিত হয়ে ওঠে। গ্রেফতারি একটি আইনি প্রক্রিয়া, কিন্তু রক্তপাত যেন না হয়। সরকার যদি দাবি না মানে, তবে গণতন্ত্রের হত্যাকারী হিসেবেই ইতিহাসে তাদের মনে রাখা হবে। আমি অনশন ভাঙব না," বলেন তিনি। গত নয় দিন ধরে জয়পাল সিং মুন্ডা স্টেডিয়ামে অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন মাহাতো। এই স্টেডিয়ামই এখন বিক্ষোভের মূল কেন্দ্র।
পরীক্ষায় দুর্নীতির অভিযোগে বিধানসভা ঘেরাও অভিযানে রাঁচিতে প্রচুর সংখ্যক ছাত্রছাত্রী জড়ো হন। কড়া নিরাপত্তা এবং ব্যারিকেডের মধ্যেই বিক্ষোভকারীরা মানবশৃঙ্খল তৈরি করে বিধানসভার দিকে এগিয়ে যান। এক বিক্ষোভকারী সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে জানান, "আমরা আজ থামব না। আমাদের প্রথম দাবি JSSC-CGL পরীক্ষা বাতিল করতে হবে এবং দ্বিতীয়ত, সিবিআই তদন্ত করতে হবে।" অন্য এক বিক্ষোভকারী বলেন, "ব্যারিকেড খুললে আমরা এগোব, তার আগে পর্যন্ত আমরা এখানেই বসে থাকব।"
রাজ্য সরকারের সমালোচনা করে এক প্রতিবাদী বলেন, "ঝাড়খণ্ড খনিজ সম্পদে ভরপুর একটি রাজ্য। গোটা দেশ ও বিশ্ব ঝাড়খণ্ডের খনিজ ব্যবহার করছে, আর এখানকার ছাত্রছাত্রীরা সরকারের নীতির কারণে অন্ধকারে ডুবে আছে। আজ আমরা শান্তিপূর্ণভাবে তার জবাব চাই।" বিক্ষোভকারীরা আরও অভিযোগ করেন যে, মিছিলে যোগ দিতে আসা অনেককে নিরাপত্তা কর্মীরা গাড়িসহ আটকে দিচ্ছে।
এদিকে, ঝাড়খণ্ডের মন্ত্রী ইরফান আনসারি জানিয়েছেন, সরকার যুবকদের পাশেই আছে। মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের বাইরে বিজেপির বিক্ষোভের সমালোচনা করে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “বিজেপি যুবকদের পথভ্রষ্ট করতে ওস্তাদ। আমরা যুবকদের সঙ্গে আছি, সরকার আপনাদের সঙ্গে আছে। আমরা আলোচনা করছি এবং একটি সমাধান খুঁজে বের করব। আপনারা শান্তি বজায় রাখুন।”