Death Penalty in India: ভারতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ক্ষেত্রে কি এবার ইতিহাস অতীত হতে চলেছে? গলায় দড়ির বদলে কি প্রয়োগ করা হবে প্রাণঘাতী ইনজেকশন বা অন্য কোনো কম যন্ত্রণাদায়ক পথ? দীর্ঘদিন ধরে চলা এই বিতর্কে এবার স্পষ্ট বার্তা দিল সুপ্রিম কোর্ট।

Death Penalty in India ভারতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ক্ষেত্রে কি এবার ইতিহাস অতীত হতে চলেছে? গলায় দড়ির বদলে কি প্রয়োগ করা হবে প্রাণঘাতী ইনজেকশন বা অন্য কোনো কম যন্ত্রণাদায়ক পথ? দীর্ঘদিন ধরে চলা এই বিতর্কে এবার স্পষ্ট বার্তা দিল সুপ্রিম কোর্ট। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ক্ষেত্রে আপাতত ঝুলিয়ে ফাঁসি দেওয়ার প্রচলিত পদ্ধতিকেই বহাল রাখল শীর্ষ আদালত। বিষাক্ত ইনজেকশন বা অন্য উপায়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার আর্জি জানিয়ে দায়ের করা জনস্বার্থ মামলাটি খারিজ করে দিয়েছেন বিচারপতি বিক্রম নাথ ও বিচারপতি সন্দীপ মেহতার বেঞ্চ।

মামলকারীর আর্জি ও আদালতের পর্যবেক্ষণ

২০১৭ সালে বর্ষীয়ান আইনজীবী ঋষি মালহোত্রার দায়ের করা ওই জনস্বার্থ মামলায় দাবি করা হয়েছিল, বর্তমান ফাঁসির প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক, নিষ্ঠুর ও অমানবিক। সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদে বর্ণিত মৌলিক অধিকারের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে সেখানে বলা হয়, একজন অপরাধীর মর্যাদাপূর্ণ মৃত্যুর অধিকার রয়েছে। ফাঁসির বদলে বিষাক্ত ইনজেকশন দেওয়া, মাথায় গুলি করা, বৈদ্যুতিক চেয়ার বা গ্যাস চেম্বারের মতো আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, যাতে যন্ত্রণা কম হয় এবং দ্রুত মৃত্যু ঘটে।

কী বললেন বিচারপতিরা

তবে সেই আবেদন খারিজ করে বিচারপতিদের বেঞ্চ জানান, ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার আওতায় ফাঁসি দেওয়ার যে বিধান রয়েছে, তা বজায় থাকছে। আদালতের মতে, আগের রায়গুলোকে পুনর্বিবেচনা করে নতুন কোনো বৃহত্তর বেঞ্চে পাঠানোর মতো যথেষ্ট আইনি যুক্তি এই মুহূর্তে নেই।

ভবিষ্যতে কি বদলের সম্ভাবনা রয়েছে

শীর্ষ আদালত যদিও আবেদন খারিজ করেছে, তবুও পরিবর্তনের দরজা পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়নি। রায়ে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছে, ভবিষ্যতে যদি বৈজ্ঞানিক বা চিকিৎসাবিজ্ঞানের কোনো নতুন এবং অকাট্য তথ্য সামনে আসে, তবে মৃত্যুদণ্ডের বিকল্প পদ্ধতি পর্যালোচনা করার পূর্ণ স্বাধীনতা কেন্দ্রীয় সরকারের রয়েছে। কেন্দ্র চাইলে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে এক বিশেষ কমিটি গঠন করে ফাঁসির বিকল্প পদ্ধতিগুলি খতিয়ে দেখতে পারে।

কী বক্তব্য অ্যাটর্নি জেনারেলের

উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে অ্যাটর্নি জেনারেল ইতিপূর্বেই আদালতকে জানিয়েছিলেন যে, ফাঁসির বদলে ইনজেকশন বা বন্দীদের মৃত্যুর পদ্ধতি বেছে নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি প্রশাসনিক বা ব্যবহারিক দিক থেকে খুব একটা যুক্তিযুক্ত নয়। তবে সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের পর পরিষ্কার, আইনত ফাঁসি বহাল থাকলেও ভবিষ্যতে নতুন বৈজ্ঞানিক গবেষণার ওপর ভিত্তি করে সরকার চাইলে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নিয়মে পরিবর্তন আনতেই পারে।