
সোমবার কেরল বিধানসভায় মহিলা সুরক্ষা প্রকল্প নিয়ে সরকারের ভূমিকার কড়া সমালোচনা করলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন। স্পিকার এই বিষয়ে আলোচনার অনুমতি না দেওয়ায় বিরোধী শিবির ক্ষোভ প্রকাশ করে। স্পিকারের বক্তব্য ছিল, মুখ্যমন্ত্রী ইতিমধ্যেই সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন, তাই এই নিয়ে আলোচনার প্রয়োজন নেই। কিন্তু বিজয়ন মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যকে "আপত্তিকর এবং দুর্ভাগ্যজনক" বলে উল্লেখ করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, তাঁর সরকারের আমলে চালু হওয়া এই প্রকল্পের সুবিধাভোগী বাছাই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ছিল।
প্রকল্পের কাঠামো এবং যোগ্যতার মানদণ্ড ব্যাখ্যা করে বিজয়ন বলেন, “মুখ্যমন্ত্রীর অবস্থান অত্যন্ত আপত্তিকর এবং দুর্ভাগ্যজনক। মহিলা সুরক্ষা প্রকল্পটি সামাজিক সুরক্ষা পেনশন কাঠামোরই একটি অংশ। প্রকল্প চালু হওয়ার পরেই আবেদনপত্র চাওয়া হয়েছিল। ৩০ থেকে ৬০ বছর বয়সী মহিলা এবং রূপান্তরকামীরা, যাঁরা অন্য কোনও সরকারি সুবিধা পান না, তাঁরাই এই প্রকল্পের জন্য আবেদন করতে পারতেন। মুখ্যমন্ত্রী এখন বলছেন, সঠিক যাচাইকরণ হয়নি। এটা একেবারেই সত্যি নয়। কে-স্মার্ট (K-SMART) প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে যাচাই করা হয়েছিল। যোগ্য আবেদনকারীরা সমস্ত প্রয়োজনীয় নথি জমা দিয়েছিলেন এবং বিভিন্ন সরকারি দফতরের সমন্বয়ের মাধ্যমে সুবিধাভোগীদের চিহ্নিত করা হয়েছিল। যাঁদের আবেদন চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে, শুধু তাঁরাই এই সুবিধা পেয়েছেন। পুরো প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ ছিল এবং মুখ্যমন্ত্রী নিজেও তা ভালো করেই জানেন।”
এই জনকল্যাণমূলক প্রকল্পটি চালিয়ে নিয়ে যেতে সরকারের অনীহা কেন, সেই প্রশ্ন তুলে বিরোধী দলনেতা অভিযোগ করেন যে, মুখ্যমন্ত্রী অসহায় মহিলাদের আর্থিক সুরক্ষা দেওয়ার এই প্রকল্পটিকে ইচ্ছাকৃতভাবে বন্ধ করার চেষ্টা করছেন। তিনি আরও বলেন, “দেখে মনে হচ্ছে, প্রকল্পটি ইচ্ছাকৃতভাবে বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। সেই কারণেই মুখ্যমন্ত্রী বলছেন যে খেয়ালখুশি মতো টাকা বিতরণ করা হয়েছে। একজন মুখ্যমন্ত্রীর মুখে এই ধরনের কথা মানায় না। প্রকল্পটি ফেব্রুয়ারি মাস থেকে চালু রয়েছে। তাহলে এটা চালিয়ে নিয়ে যেতে অনীহা কেন? মুখ্যমন্ত্রী এখনও স্পষ্ট আশ্বাস দেননি যে প্রকল্পটি চালু থাকবে। একজন মুখ্যমন্ত্রীর কি এই অবস্থান নেওয়া উচিত? সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করা তাঁর দায়িত্ব। কিন্তু কোনও এক কারণে তিনি প্রকল্পটি চালিয়ে যেতে রাজি নন বলেই মনে হচ্ছে।”
প্রকল্পের পক্ষে সওয়াল করে বিজয়ন আরও বলেন যে, জনকল্যাণমূলক প্রকল্পে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সুবিধাভোগীর সংখ্যা বাড়তেই থাকে। তাঁর দাবি, লক্ষ লক্ষ আবেদনপত্রের যাচাই প্রক্রিয়া শেষ হয়ে গেলেও বর্তমান সরকার সেগুলিকে ফেলে রেখেছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, "বর্তমানে প্রায় ১.৬ মিলিয়ন সুবিধাভোগী এই প্রকল্পের আওতায় রয়েছেন। এই ধরনের প্রকল্পে সবাই একবারে আবেদন করেন না। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সুবিধাভোগীর সংখ্যা বাড়াটাই স্বাভাবিক। পাঁচ লক্ষেরও বেশি আবেদনপত্রের যাচাই প্রক্রিয়া শেষ হয়ে গিয়েছে, কিন্তু সরকার পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে। সেই আবেদনপত্রগুলি সরকারের কাছেই পড়ে আছে।"
দেরি নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, "এত দেরি কেন? শুধুমাত্র মালাপ্পুরম জেলা থেকেই আট লক্ষের বেশি আবেদন জমা পড়েছে। এটা কি রাজনীতির কারণে, নাকি বেশি যোগ্য মানুষ আবেদন করেছেন বলেই? পূর্ববর্তী সরকার অসহায় মহিলাদের আর্থিক সুরক্ষা দেওয়ার জন্য এই প্রকল্প চালু করেছিল। এর প্রতি মুখ্যমন্ত্রীর এই বিদ্বেষমূলক মনোভাব অযৌক্তিক। গরিব মহিলাদের প্রতি এত কঠোর মনোভাব কেন? আমি আশা করি সরকার তার মনোভাব বদলাবে। এখনও আমাদের সেই আশা আছে বলেই আমরা এই মুহূর্তে এর থেকে বড় কোনও পদক্ষেপ নিচ্ছি না। তবে সরকারের এই অবস্থানের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি," যোগ করেন বিজয়ন।
এর আগে কেরল বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী ভি ডি সতীশন অভিযোগ করেন যে, এলডিএফ সরকার তাদের কার্যকালের একেবারে শেষ মুহূর্তে এসে ইস্তাহারের প্রতিশ্রুতি পূরণ করার কথা ভেবেছে। নির্বাচনের আগে কোনও পরিকল্পনা ছাড়াই এই ধরনের জনকল্যাণমূলক প্রকল্প ঘোষণা করা হয়েছিল। পূর্ববর্তী সরকারের কাজের সময়ের দিকে ইঙ্গিত করে সতীশন বলেন, "এলডিএফ ১২০ মাস ক্ষমতায় ছিল, কিন্তু তারা তাদের ইস্তাহারের প্রতিশ্রুতি ঘোষণা করল ১২০তম মাসে এসে। ইস্তাহারের প্রতিশ্রুতি কি সরকারে আসার সময় পূরণ করার জন্য, নাকি ক্ষমতা ছাড়ার সময়? এভাবেই কি ইস্তাহারকে সম্মান জানানো উচিত? আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি দেখুন। প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকেই আমরা আমাদের প্রথম প্রতিশ্রুতি পূরণ করেছি এবং কেএসআরটিসি-তে মহিলাদের জন্য বিনামূল্যে যাতায়াতের ব্যবস্থা করেছি।" (এএনআই)