
লাদাখকে সাংবিধানিক সুরক্ষা দেওয়ার দাবিতে ২০২৫ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর বড়সড় আন্দোলন হয়েছিল। সেই আন্দোলনের জেরে হওয়া হিংসাত্মক সংঘর্ষে প্রাণ হারান চারজন স্থানীয় বাসিন্দা। বৃহস্পতিবার সেই ঘটনার প্রথম বর্ষপূর্তিতে 'শহিদ দিবস' পালন করছে গোটা লেহ। আর সেই কারণেই আজ লেহ জুড়ে সর্বাত্মক বনধ চলছে। বনধের জেরে লেহ শহর ও আশেপাশের এলাকার সমস্ত বাজার, দোকানপাট এবং ব্যবসা কেন্দ্র পুরোপুরি বন্ধ। নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে রাস্তায় সেভাবে বাস বা গাড়িও নামেনি।
২০২৫ সালের ২৪ সেপ্টেম্বরের সেই মর্মান্তিক ঘটনার আজ এক বছর পূর্ণ হলো। লাদাখকে রাজ্যের মর্যাদা দেওয়া এবং ষষ্ঠ তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করার দাবিতে সেসময় পথে নেমেছিলেন মানুষ। বিক্ষোভ চলাকালীন একটি রাজনৈতিক দলের অফিসে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এরপর পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে এবং পুলিশের গুলিতে চারজনের মৃত্যু হয়। এদিন লেহ-তে আয়োজিত এক সমাবেশে পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক বলেন, "এক বছর কেটে গেলেও সত্যিটা চেপে রাখা হয়েছে, কিছুই সামনে আসেনি। এখানকার মানুষের ধারণা, এর অনেক আগে থেকেই বৌদ্ধ ও মুসলিমদের মধ্যে দাঙ্গা লাগানোর চেষ্টা চলছিল। সেই ছকেই তিনজন মুসলিমকে ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল, তাঁরা গুলি চালানোর নির্দেশ দেবেন আর দোষটা বৌদ্ধদের ঘাড়ে চাপবে যে তাঁরাই মানুষকে মরতে দিয়েছেন। কিন্তু ওঁদের চরিত্র দেখুন, ওঁরা সেই নির্দেশ দিতে অস্বীকার করেন। বুকে গুলি চালানোর মতো কোনও পরিস্থিতিই তখন ছিল না। তদন্ত কমিশনের রিপোর্ট সামনে এলেই সব পরিষ্কার হয়ে যাবে। সরকারের উচিত অবিলম্বে সেই রিপোর্ট প্রকাশ করা।"
সোনম আরও বলেন, "এই ঘটনার সঠিক তদন্ত হওয়া দরকার। সরকার যদি তদন্ত কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশ না করে, তাহলে আমরা 'পিপলস ট্রাইব্যুনাল' বা জনতা আদালত গড়ার দাবি তুলব। দেশের বিচারব্যবস্থায় যাঁদের বিবেক এখনও বেঁচে আছে, সেইসব বর্তমান ও অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের কাছে আমরা আবেদন জানাব। তাঁরাই এই ট্রাইব্যুনাল গঠন করে মানুষের কথা শুনবেন এবং রায় দেবেন, যদি এভাবেই সত্যিটা চেপে রাখা হয়। লাদাখ সবসময় দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশের সীমান্ত রক্ষা করেছে। আমরা এখনও আশা করি, সরকার এই শহিদদের এবং লাদাখকে সুবিচার দেবে। শহিদদের সুবিচার পেতেই হবে। লাদাখকেও সুবিচার পেতে হবে।"
এর আগে লাদাখের মুখ্যসচিব আশিস কুন্দ্রা জানিয়েছিলেন, লাদাখে একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল স্তরের পর্ষদ গঠনের দিকে এগোচ্ছে সরকার। এই পর্ষদের সদস্যরা সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হবেন এবং তাঁদের হাতে আইন প্রণয়ন ও আর্থিক ক্ষমতা থাকবে। গত ৯ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের সঙ্গে লাদাখের সাব-কমিটির একটি বৈঠক হয়। সেখানে অ্যাপেক্স বডি এবং কার্গিল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্সের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।
আশিস কুন্দ্রা বলেন, "স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকে আয়োজিত ওই বৈঠকে লাদাখের সাংবিধানিক সুরক্ষা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আগের বৈঠকের সূত্র ধরেই, বিশেষ করে ৩৭১ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীনে স্থানীয় মানুষের স্বার্থ রক্ষায় একটি বিশেষ বিধান যুক্ত করার বিষয়ে জোর দেওয়া হয়েছে।"
তিনি আরও জানান, "আমরা এমন একটি পর্ষদ গঠনের সিদ্ধান্ত নিতে চলেছি, যার সদস্যরা সরাসরি নির্বাচিত হবেন এবং তাঁদের হাতে আইনি ও আর্থিক ক্ষমতা থাকবে। আগামী অক্টোবরে আমাদের পরবর্তী বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। আশা করছি, ততদিনে সংবিধান সংশোধনী বিলের একটি খসড়া তৈরি হয়ে যাবে।" এর থেকেই স্পষ্ট যে, কেন্দ্র সরকার লাদাখকে অতিরিক্ত সুরক্ষা দিতে সাংবিধানিক পদক্ষেপের কথা ভাবছে।