LK Advani: শতবর্ষে লালকৃষ্ণ আডবাণী: শুভেচ্ছা জানালেন নরেন্দ্র মোদী ও নিতীন নবীন

Published : Nov 08, 2026, 04:24 PM IST
LK Advani Enters 100th Year PM Modi and BJP President Nitin Nabin Says His Vision

সংক্ষিপ্ত

লালকৃষ্ণ আডবাণীরর জন্মদিনে তাঁকে শুভেচ্ছা জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও বিজেপি সভাপতি নিতীন নবীন। আডবাণী কী করে তাঁদের অনুপ্রেঢ়ণা দিয়েছিলেন সেই কথাই স্মরণ করলেন তাঁরা।

১৯২৭ সালের ৮ নভেম্বর করাচিতে (বর্তমান পাকিস্তান) জন্মগ্রহণ করা লালকৃষ্ণ আডবাণী ১৯৪২ সালে স্বয়ংসেবক হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘে (আরএসএস) যোগ দেন। ভারতীয় রাজনীতিতে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। ১৯৮৬ থেকে ১৯৯০, ১৯৯৩ থেকে ১৯৯৮ এবং ২০০৪ থেকে ২০০৫ পর্যন্ত তিনটি পৃথক মেয়াদে তিনি বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮০ সালে দলের প্রতিষ্ঠার পর থেকে তিনিই দলের ইতিহাসে দীর্ঘতম সময় ধরে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। এলকে আডবাণী প্রথমে ১৯৯৯ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং পরে ২০০২ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ীর নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকারে উপপ্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দেশের প্রতি তাঁর অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ, এই বছরের মার্চ মাসে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু আডবাণীকে ভারতের সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার ভারতরত্ন প্রদান করেন।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর শ্রদ্ধা

প্রবীণ বিজেপি নেতা লালকৃষ্ণ আডবাণী ১০০ বছরে পা দিলেন। এই উপলক্ষে রবিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর 'ভারতের প্রতি চিরস্থায়ী অবদান' নিয়ে একটি আবেগঘন প্রবন্ধ লিখেছেন। দেশভাগ, জরুরি অবস্থা, রথযাত্রা থেকে শুরু করে বিজেপি গঠনে তাঁর ভূমিকার কথা স্মরণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

এক্স-এ প্রবন্ধটি শেয়ার করে প্রধানমন্ত্রী মোদী লিখেছেন, ১৯৪৭ সালে একজন তরুণ হিসাবে আডবাণী সিন্ধ প্রদেশে নিজের জগৎ ফেলে আসার বেদনা অনুভব করেছিলেন। তবুও তিনি 'বিনা তিক্ততায়' নিজের জীবন পুনর্গঠন করেছিলেন। তাঁর সেই গুণটিই জনসংঘকে শক্তিশালী করতে এবং বিজেপি গঠনে কাজ করেছিল বলে তিনি জানান। প্রবন্ধটি বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকেও প্রকাশিত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, "বিজেপি সভাপতি হিসেবে তাঁর মেয়াদে ১৯৮৯ সালে কংগ্রেসের আসন সংখ্যা ৪০০ থেকে ২০০-র নিচে নেমে আসে। ১৯৯৬ সালে বিজেপি প্রথমবার একক বৃহত্তম দল হয়ে ওঠে। আডবাণীজি প্রজন্মের পর প্রজন্ম কার্যকর্তাদের লালন-পালন করেছেন। 'নেশন ফার্স্ট' বা 'সবার আগে দেশ' নীতির ওপর ভিত্তি করে দলকে একটি সুস্পষ্ট ভিত্তি দিয়েছেন।"

আডবাণীর দু'টি গুণ তাঁকে আলাদা করে তুলেছিল বলে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর আদর্শগত স্পষ্টতা ও বুদ্ধিবৃত্তিক তীক্ষ্ণতা এবং "যেভাবে তিনি দীর্ঘকাল ধরে ভারতীয় রাজনীতির একটি বড় অংশের ছদ্ম-ধর্মনিরপেক্ষতার মুখোশ খুলে দিয়েছিলেন।"

আরএসএস প্রচারক হিসাবে প্রথম রাজস্থানে কাজ শুরু করেছিলেন আডবাণী। পরে তিনি রাজধানীতে চলে আসেন এবং প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ শুরু করেন। প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, "ইতিহাস সাক্ষী যে, দু'জন শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক নেতার কয়েক দশক ধরে একসঙ্গে কাজ করা, একে অপরের প্রতিযোগী না হয়ে সহযোগিতা করা বিরল। আডবাণীজি এবং অটলজি এক অসাধারণ উদাহরণ স্থাপন করেছেন। তাঁরা একসঙ্গে ভারতীয় রাজনীতির গতিপথ বদলে দিয়েছিলেন।"

১৯৬৭ সালে দিল্লি মেট্রোপলিটন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান হন আডবাণী। ১৯৭০ সালে তাঁর সংসদীয় জীবন শুরু হয়। তিনি উভয় কক্ষে বিরোধী দলনেতা হিসেবে কাজ করেন এবং পরে শাসক দলের আসনেও বসেন।

প্রধানমন্ত্রী মোদী লিখেছেন, "আডবাণীজি যখন দিল্লিতে আসেন, তখন শহরটি দেশভাগের ভয়াবহতা থেকে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছিল। তিনি নিজেকে জনসংঘকে শক্তিশালী করার কাজে নিয়োজিত করেছিলেন। ১৯৬৭ সালে আডবাণীজি দিল্লি মেট্রোপলিটন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান হন, যেখানে তিনি প্রয়াত বিজয় কুমার মালহোত্রাজির (যিনি চিফ এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলর হয়েছিলেন) সঙ্গে কাজ করেছিলেন। ১৯৭০ সালে আডবাণীজির সংসদীয় জীবন শুরু হয়। তাঁর বক্তব্য সমস্ত রাজনৈতিক মহলে প্রশংসিত হয়েছিল। তিনি একজন সাংসদ এবং পরে উভয় কক্ষে বিরোধী দলনেতা ও শাসক দলের আসনেও নিজের ছাপ রেখেছিলেন। সংসদীয় কাজ থাকা সত্ত্বেও তিনি প্রায়শই ভারতজুড়ে ঘুরে মানুষের সঙ্গে দেখা করতেন।"

১৯৯১ সালের লোকসভা নির্বাচনের কথা স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। সেই সময় আডবাণী গান্ধীনগর সহ দু'টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। দেশভাগের পর তাঁর বাবা কচ্ছে বসতি স্থাপন করেছিলেন এবং আডবাণী নিজে আগে গুজরাট থেকে রাজ্যসভায় ছিলেন। সেই হিসেবে এটাকে "এক ধরনের ঘরে ফেরা" বলে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। তিনি জানান, আডবাণীর মনোনয়নপত্র তৈরিতে ও প্রচারে তিনি সাহায্য করেছিলেন। গান্ধীনগরের ভোটার হিসেবে তিনি অনেকবার আডবাণীকে ভোট দিয়েছেন বলেও জানান।

জরুরি অবস্থাকে আডবাণীর জীবনের একটি "জলবিভাজিকা" বলে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, "গণতন্ত্র রক্ষার" ক্ষেত্রে তিনি একেবারে সামনের সারিতে ছিলেন।

তিনি বলেন, "তাঁর অভিজ্ঞতাগুলি তাঁর বই 'আ প্রিজনার্স স্ক্র্যাপ-বুক'-এ স্থান পেয়েছে। সেই বইটির একটি অংশ, যার শিরোনাম 'আ টেল অব টু ইমার্জেন্সিজ', ১৯৭৫ সালের জুন থেকে ভারতে শুরু হওয়া ঘটনাগুলি এবং ১৯৩৩ সালে নাৎসি জার্মানির ঘটনাগুলির মধ্যে আশ্চর্যজনক মিল সুন্দরভাবে ব্যাখ্যা করেছে।"

আডবাণীকে একজন "তেজস্বী বিরোধী নেতা কিন্তু সমানে চমৎকার প্রশাসক" হিসাবে বর্ণনা করে প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন যে, "উপ-প্রধানমন্ত্রী এবং ভারতের অন্যতম দীর্ঘ মেয়াদী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসাবে তিনি ভারতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছিলেন। আমাদের নিরাপত্তা বাহিনীর জীবনযাত্রার উন্নতিতে তাঁর কাজ আজও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে তাঁর আপসহীন অবস্থানের ফলে ভারত একটি কঠোর সন্ত্রাসবিরোধী আইন পেয়েছিল।"

সোমনাথ থেকে অযোধ্যা রথযাত্রার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী মোদী একে একটি "আইকনিক মুহূর্ত" বলে বর্ণনা করেছেন যা "ভারতীয় সমাজের গতিপথকে আরও ভালো করে দিয়েছিল।"

তিনি বলেন, "আমি নিজেকে ভাগ্যবান মনে করি যে, ধারণা তৈরির পর্যায় থেকে শুরু করে বাস্তবায়ন পর্যন্ত আমি এই যাত্রায় যুক্ত থাকার সুযোগ পেয়েছিলাম। যাত্রা শুরু হওয়ার সময় সোমনাথে উপস্থিত থাকাটা বিশেষ ছিল। একটি যাত্রায় অনেক পরিশ্রম, দীর্ঘ সময়, অবিরাম ভ্রমণ, শারীরিক সহ্যশক্তি এবং ক্লান্তির মধ্যেও মনোযোগ ধরে রাখার ক্ষমতা প্রয়োজন। আডবাণীজি এই সহ্যশক্তির মূর্ত প্রতীক ছিলেন।"

বিহার রাজ্যে আডবাণীর গ্রেফতারি এবং গুজরাটে চিমনভাই প্যাটেল সরকারের ওপর থেকে বিজেপির সমর্থন প্রত্যাহারের কথাও স্মরণ করেন তিনি। তিনি বলেন, এটি একটি বার্তা দিয়েছিল যে আদর্শ এবং রাম মন্দিরের প্রশ্নে কোনও আপস করা হবে না।

তিনি লিখেছেন, "আমাদের অনেক প্রবীণ নেতা এবং কার্যকর্তা শপথ নিয়েছিলেন যে, যাই হোক না কেন, একটি রাম মন্দির তৈরি হবেই। এবং বহু বছর পর ভারতের মানুষের আশীর্বাদে অযোধ্যায় প্রভু শ্রী রামের একটি বিশাল মন্দির বাস্তব রূপ পেয়েছে।"

আডবাণীর সরলতার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী মোদী স্মরণ করেন যে নবনির্মাণ আন্দোলনের পর তিনি একজন সাধারণ কার্যকর্তা হিসেবে বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে এক মাস জুনাগড়ে ছিলেন। তিনি আডবাণীকে একজন "আগ্রহী পাঠক" বলে বর্ণনা করেছেন, যিনি খবরের কাগজ খুঁটিয়ে পড়েন। এছাড়া তিনি একজন উৎসাহী চলচ্চিত্র সমালোচক এবং সিনেমা ও থিয়েটারের ভক্ত। তাঁর 'মাই কান্ট্রি মাই লাইফ' বইটিতে তাঁর ইতিহাসবোধ প্রতিফলিত হয়েছে।

তিনি বলেন, "আডবাণীজি সবসময় সিন্ধি সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁর আরেকটি উদ্যোগ ছিল লেহ-এর কাছে সিন্ধু দর্শন পূজার জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি। আমি নিজেও আডবাণীজি এবং জর্জ ফার্নান্ডেজজির সঙ্গে একটি পূজায় অংশ নিয়েছিলাম।"

প্রধানমন্ত্রী মোদী আডবাণীর স্ত্রী কমলা আডবাণীর প্রতিও শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন, যাকে তিনি "তাঁর জনজীবনের অবিরাম শক্তির উৎস এবং সমর্থন" হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীনের শ্রদ্ধা

প্রবীণ বিজেপি নেতা লালকৃষ্ণ আডবাণীর শতবর্ষে পা রাখা উপলক্ষে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানালেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন। তিনি বলেন, আডবাণীর ভিশন এবং আদর্শ 'বিকশিত ভারত' গড়ার পথে আজও সবাইকে অনুপ্রাণিত করে।

রবিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি মনে করিয়ে দেন, বিজেপির জন্য একটি শক্তিশালী ক্যাডার ভিত্তিক নেতৃত্ব তৈরিতে এলকে আডবাণীর বিরাট ভূমিকা ছিল।

নবীন আরও বলেন, দলের সংগঠন ও দেশ, উভয় ক্ষেত্রেই নেতাদের একটি উল্লেখযোগ্য প্রজন্ম তৈরি করার কৃতিত্ব আডবাণীর।

"তিনি বিজেপির জন্য একটি শক্তিশালী ক্যাডার ভিত্তিক নেতৃত্ব তৈরি করেছিলেন। সেই দল আজ দেশকে পথ দেখাচ্ছে। সংগঠন ও দেশ, উভয় ক্ষেত্রেই তিনি নেতাদের একটি উল্লেখযোগ্য প্রজন্ম তৈরি করেছেন। তাছাড়া, তিনি যে আদর্শগুলি তুলে ধরেছিলেন, তা আজ বাস্তবায়িত হয়েছে, অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রী তা পূরণ করেছেন। আজও, যখন আমরা বিকশিত ভারতের পথে এগিয়ে যাচ্ছি, তখন আডবাণীর চিন্তাভাবনা এবং ভিশন আমাদের সবাইকে অনুপ্রাণিত করে চলেছে..." এর আগে, রবিবার সকাল ১০টা থেকে ১০টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত প্রাক্তন উপপ্রধানমন্ত্রী এলকে আডবাণীর ৯৯তম জন্মদিন উপলক্ষে একটি যজ্ঞের আয়োজন করেছিল ভারতীয় জনতা পার্টি। বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন-সহ দলের শীর্ষ নেতারা এই যজ্ঞ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

PREV
Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

PM Modi: মাওবাদীদের গুঁড়িয়ে বস্তারেই জওয়ানদের সঙ্গে দীপাবলী সেলিব্রেশন মোদীর, কী জানালেন প্রধানমন্ত্রী?
IndiGo Hijack Threat: বেঙ্গালুরু থেকে লখনউগামী ইন্ডিগো বিমানে হাইজ্যাকের হুমকি, জরুরি অবতরণ