
পশ্চিমবঙ্গে কমল ফুটলো! রাজ্যে বিজেপির বিপুল ভোটে জয়ের পরই রাজ্যবাসী ও দলীয় নেতা কর্মীদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় বলেন, ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। জনশক্তির জয় হয়েছে এবং বিজেপির সুশাসনের রাজনীতি বিজয়ী হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি মানুষের প্রতি আমি গভীর শ্রদ্ধা জানাই।
জনসাধারণ বিজেপিকে এক অভূতপূর্ব জনরায় প্রদান করেছেন; আমি তাঁদের এই আশ্বাস দিচ্ছি যে, পশ্চিমবঙ্গের মানুষের স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা পূরণে আমাদের দল সম্ভাব্য সবকিছুই করবে। আমরা এমন একটি সরকার উপহার দেব, যা সমাজের সর্বস্তরের মানুষের জন্য সুযোগ ও মর্যাদা নিশ্চিত করবে।
এদিন বিজেপির প্রধান মুখপাত্র অনিল বালুনি এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্টে লেখেন, "মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীজি আজ সন্ধ্যা ৬টায় নতুন দিল্লির বিজেপি সদর দফতরে আসবেন।"
প্রধানমন্ত্রীর এই ভাষণ এমন এক সময়ে, যখন বিজেপি পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় একক বৃহত্তম দল হওয়ার দিকে এগোচ্ছে। সরকার গড়ার জন্য প্রয়োজনীয় ১৪৮ আসনের ম্যাজিক ফিগার পার করে ফেলেছে তারা।
রাজ্যের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এটি একটি বড় পরিবর্তন। বিজেপি যেখানে ৩৩টি আসন জিতেছে এবং ১৭১টি আসনে এগিয়ে আছে, সেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) ১৩টি আসন জিতেছে এবং ৭০টি আসনে এগিয়ে। অর্থাৎ, তাদের মোট আসন সংখ্যা ৮৭-তে এসে দাঁড়িয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, মেদিনীপুরে শঙ্কর কুমার গুছাইত ১,৩৩,০৪১টি ভোট পেয়ে ৩৮,৭৪৭ ভোটের বড় ব্যবধানে জিতেছেন। আসানসোল দক্ষিণে অগ্নিমিত্রা পাল ১,১৯,৫৮২টি ভোট পেয়ে ৪০,৮৩৯ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন।
এর আগে, পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতা এবং বিজেপির অন্যতম প্রধান মুখ শুভেন্দু অধিকারী আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন, "বিজেপি ১৮০টির বেশি আসন নিয়ে সরকার গড়বে।"
তৃণমূলের খারাপ ফলকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, "Rone dijiye. Khatam poora khatam." (কাঁদতে দিন। পুরো শেষ)। তিনি আরও বলেন, "সমস্ত হিন্দু নরেন্দ্র মোদীর পক্ষে একজোট হয়েছে... চার রাউন্ড গণনার পরেই বিজেপি সরকার গড়ছে।"
শুভেন্দু অধিকারী হিন্দু প্রধান এলাকাগুলিতে বিজেপির দাপটের কথা তুলে ধরেন। তবে তিনি স্বীকার করেন যে মালদা, মুর্শিদাবাদ এবং উত্তর দিনাজপুরের মতো জায়গায় তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি রয়েছে, যেখানে কংগ্রেসকে মানুষ বেশি পছন্দ করেছে।
এদিকে, আসামেও বিজেপি তার দাপট বজায় রেখেছে। সেখানে ৮২টি আসনের মধ্যে ৩১টি আসনে জয়ী হয়েছে এবং ৫১টি আসনে এগিয়ে রয়েছে। পুদুচেরিতেও বিজেপি পরপর দ্বিতীয়বার সরকার গঠন করেছে, যা সারা ভারতে তাদের উপস্থিতি আরও মজবুত করল।
হিমন্ত বিশ্ব শর্মা মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর এটিই ছিল রাজ্যের প্রথম বিধানসভা নির্বাচন এবং ২০২১ সালের ভোটের তুলনায় দল এবার আরও ভালো ফল করেছে।
পুদুচেরির মুখ্যমন্ত্রী এন রঙ্গস্বামী থট্টনচাবাদী বিধানসভা কেন্দ্র থেকে ৪০০০-এর বেশি ভোটের ব্যবধানে জিতেছেন বলে নির্বাচন কমিশনের ট্রেন্ডে দেখা যাচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ৩০ সদস্যের বিধানসভায় এনডিএ জোট ৯টি আসনে জিতেছে। ফলে পুদুচেরিতে এন রঙ্গস্বামীর নেতৃত্বে ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স (NDA) সরকারই ফিরছে।
অন্যদিকে, কেরালায় বিজেপি তিনটি বিধানসভা কেন্দ্র - নেোম, কাঝকুট্টম এবং চাথান্নুর-এ জয় পেয়েছে বলে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে।