
Mahua Moitra Hate Speech Case: 'আপনি সংসদের একজন। রাজনীতিতে এসেছেন। আর এখন ডিমকে ভয় পাচ্ছেন? আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামীরা বুক পেতে গুলি খেয়েছেন। এ ধরনের আবেদন এই আদালতে আসাই উচিত নয়।' নদিয়া জেলার কৃষ্ণনগর লোকসভা কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress) সাংসদ মহুয়া মৈত্রকে ঠিক এই ভাষাতেই ভর্ৎসনা করল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। ঘৃণাসূচক ভাষণের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সশরীরে হাজির হওয়ার জন্য কৃষ্ণনগরের সাংসদকে নির্দেশ দেয় কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়া হতে পারে, এই আশঙ্কার কথা জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হন মহুয়া। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট সেই আবেদনে সাড়া দিতে অস্বীকার করল।
সুপ্রিম কোর্টে মহুয়ার আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণন (Gopal Sankarnarayanan) বলেন, ‘পুলিশের নোটিশ অনুযায়ী তাঁকে নিজের লোকসভা কেন্দ্রের একটি থানায় সশরীরে হাজির হতে বলা হয়েছে। গতবার সেখানে গেলে প্রথমে মহুয়া মৈত্রকে ডিম ছোড়ার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। দ্বিতীয়বার সত্যিই তাঁর দিকে ডিম ছোড়া হয়।’ মহুয়ার আইনজীবী আদালতে যুক্তি দেন, পুলিশের সামনে ভার্চুয়ালি হাজির হওয়ার আইনি অধিকার তাঁর মক্কেলের আছে। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত (Justice Dipankar Datta) ও বিচারপতি শীল নাগুর বেঞ্চ (Justice Sheel Nagu) কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে হস্তক্ষেপ করতে রাজি হয়নি। এরপর মহুয়ার আইনজীবী আবেদনটি প্রত্যাহার করে নেন। ফলে আবেদনটি প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে খারিজ করে দেয় শীর্ষ আদালত।
এর আগে ২১ জুলাই কলকাতা হাইকোর্ট মহুয়াকে ঘৃণাসূচক বক্তব্যের মামলায় ৫ অক্টোবর পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন সুরক্ষা দেয়। কৃষ্ণনগরের সাংসদের দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং সাজানো অভিযোগের উপর দাঁড়িয়ে রয়েছে। নদিয়া জেলায় দায়ের হওয়া মামলায় পুলিশি হয়রানি থেকে সুরক্ষা এবং মামলার কার্যক্রম বাতিলের আবেদন জানিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন মহুয়া। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য তাঁকে তদন্তে সহযোগিতা করার নির্দেশ দেন এবং তদন্তকারী আধিকারিকের সামনে হাজির হয়ে জিজ্ঞাসাবাদে যোগ দিতে বলেন। একইসঙ্গে কলকাতা হাইকোর্ট নির্দেশ দেয়, আদালতের আরোপিত শর্ত মেনে তদন্তে সহযোগিতা করলে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত মহুয়া বিরুদ্ধে কোনও জোরপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না। ১ অক্টোবর কলকাতা হাইকোর্টে এই মামলার পরবর্তী শুনানি।
আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।