
'প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সন্ত্রাসবাদী'। মঙ্গলবার কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে তামিলনাড়ুতে এমনটাই বলেছেন। তিনি বিজেপি আর এআইএডিএমকে জোটের সমালোচনা করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীকেই কাঠগড়ায় তুলেছেন।
চেন্নাইয়ে একটি সাংবাদিক সম্মেলনে মল্লিকার্জুন খাড়গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে এআইএডিএমকে-র হাত মেলানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনা করেন। সেখানেই খাড়়গে বলেন, 'তারা (AIADMK) কীভাবে মোদীর সঙ্গে যোগ দিতে পারে? তিনি একজন সন্ত্রাসবাদী। তিনি সমতায় বিশ্বাস করেন না। তাঁর দলও সমতায় বিশ্বাস করে না। ন্যায় বিচারে বিশ্বাস করে না। তাদের সঙ্গে যোগ দেওয়ার অর্থই হল গণতন্ত্রকে দুর্বল করা। '
তবে খাড়গে এখানেই থেমে থাকেননি। তিনি কেন মোদীকে সন্ত্রাসবাদী বলেছেন,তার ব্যাখ্যা চাইলে খাড়গে অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি বিজেপির সঙ্গে আঁতাত করে কাজ করেন। আর সেই কারণেই প্রধানমন্ত্রী বিরোধীদের সর্বদাই সন্ত্রস্ত করে রাখেন। তাই তিনি মোদীদের সন্ত্রাসবাদী বলেছেন। তিনি আরও বলেন, 'আমি এটা স্পষ্ট করতে চাই যে প্রধানমন্ত্রী সবসময়ই হুমকি দেন। আমি আপনাদের বলছি যে আয়কর বিভাগ, ইডি ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান তাঁর হাতে। '
তবে খাড়গের এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্ক তৈরি হতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তামিলনাড়ুর ভেলাচেরিতে একটি নির্বাচনী জনসভায় ভাষণ দিতে গিয়ে মল্লিকার্জুন খাড়গে অভিযোগ করেন যে, সংবিধান (১৩১তম সংশোধনী) বিল, ২০২৬ নিয়ে আলোচনার জন্য কেন্দ্র কোনো সর্বদলীয় বৈঠক ডাকতে অস্বীকার করেছে।
তিনি বলেন, "বিজেপি সরকার ২০১১ সালের আদমশুমারির ভিত্তিতে আসন পুনর্বিন্যাসের সঙ্গে মহিলাদের সংরক্ষণের বিষয়টিকে জুড়ে দিয়ে একটি বিপজ্জনক খেলা খেলার চেষ্টা করেছিল। এর অর্থ হলো তামিলনাড়ুর মতো রাজ্যগুলোকে শাস্তি দেওয়া, যারা সফলভাবে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সক্ষম হয়েছে। বিরোধী পক্ষ ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়িয়েছিল; দিল্লিতে কংগ্রেস সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছিল এবং ডিএমকে, টিএমসি ও এসপি—সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এই বিলটিকে পরাজিত করতে সহায়তা করেছিল।"
"তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রীই প্রথম ব্যক্তি যিনি এই বিলের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন যে এটি জনবিরোধী এবং দক্ষিণ-বিরোধী একটি পদক্ষেপ; তাই তিনি বিলটির কপি ছিঁড়ে ফেলেছিলেন এবং পুড়িয়ে দিয়েছিলেন। এটি দেশের প্রতিটি নাগরিকের বিজয়। এটি যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো এবং ন্যায়বিচারের বিজয়। আমরা পঞ্চায়েত ও স্থানীয় সংস্থাগুলোতে মহিলাদের ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ প্রদান করেছি। এটি কংগ্রেসের কৃতিত্ব, প্রধানমন্ত্রী মোদীর নয়," তিনি আরও যোগ করেন। তিনি আসন পুনর্বিন্যাসের এই প্রক্রিয়াকে দেশের সঙ্গে এক ধরণের "প্রতারণা" হিসেবে অভিহিত করেন।