
নিজের মেয়ের সঙ্গে ঘরের ভিতরে কর্মচারীকে দেখে মাথায় আগুন! রাগের বশে ওই কর্মচারীকে আটকে রেখে ক্রিকেট ব্যাট ও লোহার রড দিয়ে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠল এক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত হয়ে মৃত্যু হল ২২ বছরের যুবকের। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে কর্নাটকের বেঙ্গালুরুর ইয়েলাহাঙ্কা এলাকায়। ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মৃত যুবকের নাম কিরণ। তিনি কেরলের পালাক্কাড় জেলার বাসিন্দা। অভিযুক্ত ব্যবসায়ীর নাম আনন্দরাজ। ৪৫ বছর বয়সি ওই ব্যবসায়ী বেঙ্গালুরুতে সুইট কর্ন তৈরির মেশিন ও ঠেলাগাড়ি তৈরির কারখানা চালান। সেই কারখানাতেই বেশ কয়েক বছর ধরে কাজ করতেন কিরণ।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, আনন্দরাজের ১৯ বছরের মেয়ের সঙ্গে কিরণের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। ওই তরুণী অন্য শহরে পড়াশোনা করেন। ছুটিতে বাড়িতে এসেছিলেন তিনি। অভিযোগ, ঘটনার দিন সকালে স্ত্রীকে নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন আনন্দরাজ। মেয়েকে জানিয়েছিলেন, তাঁরা সারাদিনের জন্য বাইরে যাচ্ছেন। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই স্ত্রীকে নিয়ে বাড়ি ফিরে আসেন তিনি। তখনই বাড়ির একটি ঘরে মেয়ের সঙ্গে কিরণকে দেখতে পান বলে অভিযোগ। এরপরই পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে। পুলিশ সূত্রে খবর, মেয়েকে তার মায়ের সঙ্গে চিক্কাবল্লাপুরে এক আত্মীয়ের বাড়িতে পাঠিয়ে দেন আনন্দরাজ। অন্যদিকে, কিরণকে বাড়ির ভিতরে আটকে রেখে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, কিরণকে ক্রিকেট ব্যাট এবং লোহার পাইপ দিয়ে বারবার আঘাত করা হয়েছিল। তাঁর হাত, পা ও পেটে গুরুতর চোট লাগে। একসময় সংজ্ঞা হারিয়ে ফেলেন তিনি। এরপর অভিযুক্ত আনন্দরাজ নিজেই তাঁকে অটোরিকশায় করে হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
এই ঘটনায় নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে মৃতের পরিবারের এক আত্মীয়ের অভিযোগে। কিরণের মামাতো ভাই প্রসাদের দাবি, এই খুন কোনও আকস্মিক ঘটনা নয়। বরং আগে থেকেই পরিকল্পনা করে তাঁকে খুন করা হয়েছে। প্রসাদের অভিযোগ, ঘটনার আগে কিরণের ভাইকে ডেলিভারির কাজে উত্তরপ্রদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল। যাতে ঘটনার সময় কিরণের পাশে কেউ না থাকে এবং কেউ বাধা দিতে না পারে, সেই উদ্দেশ্যেই এমনটা করা হয়েছিল বলে দাবি পরিবারের।
বেঙ্গালুরু পুলিশের নর্থ ইস্ট ডিভিশনের ডেপুটি কমিশনার জি কে মিথুন কুমার জানিয়েছেন, অভিযুক্ত আনন্দরাজকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে পরিকল্পিতভাবে খুনের বিষয়টি উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনার সময় সেখানে অন্য কেউ উপস্থিত ছিলেন কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইয়েলাহাঙ্কা থানায় খুনের মামলা রুজু হয়েছে। গোটা ঘটনার তদন্ত চলছে।