
Meerut Horror: প্রথমে মনে করা হয়েছিল সাপের কামড়ে মৃত্যুর একটা স্বাভাবিক কেস। কিন্তু তদন্ত এগোতেই একের পর এক সন্দেহ, অসঙ্গতি, গরমিল ধরা পড়ে। তারপর যা ঘটল তা এক কথায় অবিশ্বাস্য। উত্তরপ্রদেশের মিরাটে সামনে এল এমনই এক শিউরে ওঠার মতো খুনের ঘটনা। প্রথমে যা সাপের কামড়ে দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু বলে মনে করা হচ্ছিল, তদন্তে উঠে এসেছে ভয়ঙ্কর ষড়যন্ত্রের অভিযোগ। পুলিশের দাবি, স্ত্রীর প্রেমিকের সঙ্গে যোগসাজশে রীতিমত ঠান্ডা মাথায় পরিকল্পনা করেই স্বামীকে খুন করা হয়েছে। অভিযোগ, ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করার পর বিছানায় একটি বিষধর সাপ ছেড়ে দেওয়া হয়। সেই সাপের ছোবলেই মৃত্যু হয় ওই ব্যক্তির।
মৃতের নাম অতুল পানওয়ার (৩৫ বছর)। তিনি উত্তরপ্রদেশের মিরাট জেলার ভানদোরা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। হস্তিনাপুর এলাকায় স্ত্রী দামিনীর সঙ্গে একটি স্কুল পরিচালনা করতেন। ২০১৯ সালে প্রেম করে বিয়ে করেছিলেন দু'জনে।
মিরাট পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, দামিনীর সঙ্গে তুষার নামে এক ভ্যানচালকের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। অভিযোগ, অতুলকে সরিয়ে দিতে তুষার, সোনু ও উদয় নামে আরও দুই সহযোগীর সঙ্গে পরিকল্পনা করেন দামিনী। পুলিশের দাবি, ঘটনার রাতে অতুলের দুধে অতিরিক্ত মাত্রায় ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দেন তাঁর স্ত্রী। অতুল গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে পড়লে অভিযুক্তরা সাপুড়েদের সাহায্যে একটি বিষধর 'ক্রেইট' সাপ তাঁর বিছানায় ছেড়ে দেয়। সাপের ছোবলেই অতুলের মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ। পরদিন সকালে দামিনী স্বামীকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে দাবি করেন, সাপের কামড়ে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই অতুলের মৃত্যু হয়েছে বলে চিকিৎসকেরা জানান।
পুলিশের অনুমান, অতুলের নামে থাকা ২০ লক্ষ টাকার জীবনবিমার অর্থ হাতিয়ে নেওয়াই এই হত্যার অন্যতম উদ্দেশ্য হতে পারে। তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, এটি অতুলকে খুনের প্রথম চেষ্টা ছিল না। প্রায় ২০ দিন আগে তাঁর মোটরবাইকে গাড়ির ধাক্কা মেরে দুর্ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। তবে সে সময় হেলমেট পরা থাকায় তিনি প্রাণে বেঁচে যান।
পুলিশের হাতে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ
জিজ্ঞাসাবাদে তুষার অপরাধের কথা স্বীকার করেছে বলে দাবি পুলিশের। অভিযুক্তদের মোবাইল ফোন থেকে সাপের ছবি উদ্ধার হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে। পাশাপাশি কল রেকর্ড, ফরেনসিক রিপোর্ট এবং অন্যান্য ডিজিটাল প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে। ঘটনায় জড়িত সকলকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। উদ্ধার হওয়া সাপকেও পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। পুলিশ এই ঘটনাকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে তদন্ত করছে। তবে তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।