মেয়ের মতোই পুড়িয়ে মারা হোক ধর্ষকদের, দাবি হায়দরাবাদের নির্যাতিতার মায়ের

Published : Nov 30, 2019, 03:14 PM ISTUpdated : Dec 01, 2019, 10:27 AM IST
মেয়ের মতোই পুড়িয়ে মারা হোক ধর্ষকদের, দাবি হায়দরাবাদের নির্যাতিতার মায়ের

সংক্ষিপ্ত

হায়দরাবাদে পশু চিকিৎসকে গণধর্ষণ করে পুড়িয়ে হত্যা বিক্ষোভে উত্তাল হায়দ্রবাদ পুলিশের ভূমিকায় ক্ষুব্ধ নির্যাতিতার পরিবার দোষীদের পুড়িয়ে মারার দাবি জানালেন নির্যাতিতার মা  

তাঁর মেয়েকে যেভাবে পুড়িয়ে মারা হয়েছে, ঠিক সেভাবেই প্রকাশ্যে পুড়িয়ে মারা হোক চার অভিযুক্তকে। এমনই দাবি করলেন হায়দরাবাদের নির্যাতিতা পশু চিকিৎসকের মা। তাঁর আরও অভিযোগ, পুলিশ যদি অভিযোগ নেওয়ার সময় তাঁদের এক থানা থেকে আর এক থানায় না ঘোরাত, তাহলে হয়ত অকালে তাঁদের মেয়েকে হারাতে হত না। 

হায়দরাবাদে গণধর্ষণের পরে সাতাশ বছর বয়সি তরুণী পশু চিকিৎসককে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে তেলেঙ্গানা। গোটা দেশেও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। বলিউড তারকা থেকে শুরু করে রাজনীতিবিদ, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সরব সবাই। এই পরিস্থিতির মধ্যেই সাইবারাবাদ পুলিশের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ এনেছে নির্যাতিতার পরিবার। 

আরও পড়ুন - ধর্ষণের মতো জঘন্য ঘটনাতেও ধর্মের তাস, ধিকৃত 'গর্বিত হিন্দু' অভিনেত্রী

নির্যাতিতার মায়ের অভিযোগ, ঘটনার দিন রাত ৯.২২-এ প্রথমবার নিজের বোনকে ফোন করে বিপদের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন নির্যাতিতা। জানিয়েছিলেন যে তাঁর স্কুটিটি কয়েকজন ট্রাক চালক সারিয়ে দেওয়ার নামে সরিয়ে নিয়েছে। তাঁর খুব ভয় করছে বলেও বোনকে জানিয়েছিলেন নির্যাতিতা। দিদির বিপদ হতে পারে তা আঁচ করেই আধ ঘণ্টার মধ্যে রাত দশটা নাগাদ ওই টোল প্লাজায় পৌঁছন নির্যাতিতার বোন। সেখানে দিদিকে দেখতে না পেয়ে নির্যাতিতাকে ফোন করেন তিনি। কিন্তু ফোন সুইচড অফ ছিল। সঙ্গে সঙ্গে গোটা ঘটনার কথা ফোনে বাবা- মাকে জানান নির্যাতিতার বোন। তাঁরা তাঁকে দ্রুত পুলিশে অভিযোগ জানাতে বলেন। 

আরও পড়ুন- ধর্ষণের পর জীবন্ত দগ্ধ হায়দ্রাবাদের পশু চিকিৎসক, চাপে তেলেঙ্গানা সরকার

আরও পড়ুন- হায়দরাবাদে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় নির্যাতিতার দিকে আঙুল, বিতর্কে তেলেঙ্গানার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নির্যাতিতার মায়ের বয়ান অনুযায়ী, 'আমার ছোট মেয়ে প্রথমে আরজিআইএ পুলিশ স্টেশনে যায়। সিসিটিভি-র ছবি দেখে পুলিশ জানায়, আমার বড় মেয়েকে গাচিবউলির দিকে যেতে দেখা গিয়েছিল। কিন্তু সেখান থেকে ওকে ফিরতে দেখা যায়নি। এর পর আরজিআইএ থানার পুলিশ আমাদের শামসাবাদ পুলিশ স্টেশনে যাওয়ার পরামর্শ দেয়। তাদের যুক্তি ছিল, ওই এলাকাটি তাদের আওতায় পরে না। পুলিশ উল্টে আমাদেরই প্রশ্ন করে। ওরা যেভাবে বিষয়টিকে হাল্কাভাবে নিচ্ছিল, তা মেনে নেওয়া যায় না।'

শেষ পর্যন্ত গড়িমসির পরে চারজন কনস্টেবলকে ওই পশু চিকিৎসকের পরিবারের সঙ্গে দেওয়া হয় নির্যাতিতার খোঁজ করা জন্য। ভোর চারটে পর্যন্ত তাঁরা তল্লাশি চালালেও নির্যাতিতার সন্ধান মেলেনি। নির্যাতিতার বোনের অভিযোগ, এক থানা থেকে অন্য থানায় ঘুরতে দিয়ে তাঁদের দুই থেকে তিন ঘণ্টা নষ্ট হয়। ওই সময়টুকু নষ্ট না হলে তাঁর দিদিকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা যেত বলেই মনে করছেন নির্যাতিতার বোন। 

আরও পড়ুন- হায়দরাবাদে গণধর্ষণকাণ্ডে গ্রেফতার ৪, সামসাবাদে ঘটনাস্থলের কাছেই উদ্ধার আরও এক মহিলার অগ্নিদগ্ধ দেহ

নিহত পশু চিকিৎসকের মা বলেন, 'আমার মেয়ে একেবারেই নিষ্পাপ ছিল। আমি চাই দোষীদেরকেও পুড়িয়ে মারা হোক। আমরা প্রথমে জানতেই পারিনি যে ও আমাদের ছোট মেয়েকে ফোন করে স্কুটার খোয়া যাওয়ার কথা জানিয়েছিল।'

সাইবারাবাদের পুলিশ কমিশনার ভি সি সজ্জনার অবশ্য দাবি করেছেন নির্যাতিতার বোন আরজিআইএ পুলিশ স্টেশনে পৌঁছনোর পরেই পুলিশ দ্রুত তৎপর হয়। আশপাশের থানাগুলিকেও সতর্ক করা হয়। যদিও তিনি আশ্বস্ত করেছেন, কোনও পুলিশকর্মীর বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশ অবশ্য আরও জানিয়েছে, মেহবুবনগরের একটি ফাস্ট ট্র্যাক আদালতে এই মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির আবেদন জানানো হচ্ছে। অভিযুক্তদের ফাঁসির সাজার জন্যও পুলিশ সওয়াল করবে বলে জানানো হয়েছে। 
 

PREV
click me!

Recommended Stories

বন্ধ হয়ে যাবে রেশন-সারের ভর্তুকি? তেমনই ইঙ্গিত Finance Commission report-এ
Lucky Oberoi Killing CCTV Video: মাথায় কালো হুডি পরে এসে আপ নেতাকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা, ভাইরাল সিসিটিভি ফুটেজ