Mumbai Howrah Mail Power Bank Blast: মুম্বই-হাওড়া মেল ট্রেনে পাওয়ার ব্যাঙ্ক বিস্ফোরণ, ধোঁয়ায় ঢাকল কামরা

Published : Oct 25, 2026, 06:06 PM IST
Mumbai-Howrah Mail Power Bank Blast

সংক্ষিপ্ত

Mumbai-Howrah Mail Power Bank Blast: চলন্ত ট্রেনে নিঝুম রাতে হঠাৎই বিকট আওয়াজ। আর তার কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই পুরো বাতানুকূল (AC) কামরা ভরে গেল গাঢ় কালো ধোঁয়ায়। স্বয়ংক্রিয় অগ্নিনির্বাপক অ্যালার্ম বেজে উঠতেই তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ল ঘুমন্ত যাত্রীদের মধ্যে।

Mumbai-Howrah Mail Power Bank Blast:চলন্ত ট্রেনে নিঝুম রাতে হঠাৎই বিকট আওয়াজ। আর তার কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই পুরো বাতানুকূল (AC) কামরা ভরে গেল গাঢ় কালো ধোঁয়ায়। স্বয়ংক্রিয় অগ্নিনির্বাপক অ্যালার্ম বেজে উঠতেই তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ল ঘুমন্ত যাত্রীদের মধ্যে। জীবন বাঁচাতে ছোটাছুটি শুরু করে দিলেন অনেকেই। শনিবার ভোরে ওড়িশার বন্ধমুণ্ডা স্টেশনের কাছে মুম্বই-হাওড়া মেল ট্রেনে ঘটল এই ভয়াবহ বিপত্তি। মূলত একটি চার্জে বসানো পাওয়ার ব্যাঙ্ক বিস্ফোরণের থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয় বলে জানা গিয়েছে। তবে রেলের নিরাপত্তারক্ষী ও কর্মীদের তৎপরতায় অল্পের জন্য বড়সড় কোনো বিপর্যয় ঘটেনি।

ঠিক কী ঘটেছিল

ঘটনাটি ঘটেছে ১২৮০৯ ডাউন মুম্বই-হাওড়া মেল ট্রেনে। রেল সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার ভোররাত ৩টে ৩৮ মিনিট নাগাদ ট্রেনটি যখন চক্রধরপুর ডিভিশনের অন্তর্গত বন্ধমুণ্ডা ইলেকট্রিক শেডের কাছাকাছি ডাউন লাইন দিয়ে যাচ্ছিল, ঠিক তখনই ঘটনাটি ঘটে। ইঞ্জিন থেকে ১৪ নম্বর কামরা, অর্থাৎ B-3 এসি থার্ড টায়ার কোচের ৬ নম্বর বার্থে ঘটে এই দুর্ঘটনা। ওই বার্থের এক যাত্রী রাতের বেলা নিজের পাওয়ার ব্যাঙ্কটি ট্রেনের চার্জিং সকেটে প্লাগ-ইন করে চার্জে বসিয়ে রেখে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। রাতভর বিদ্যুৎ সংযোগ চালু থাকায় বা যান্ত্রিক কোনো গোলযোগের কারণে পাওয়ার ব্যাঙ্কটি মাত্রাতিরিক্ত গরম হয়ে হঠাৎ বিস্ফোরণ ঘটায়।

বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে ওঠে কামরা

বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে ওঠে পুরো কামরা। মুহূর্তের মধ্যে পাওয়ার ব্যাঙ্কে আগুন ধরে যায় এবং সেখান থেকে নির্গত বিষাক্ত ধোঁয়া দ্রুত কামড়ার মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। বাতানুকূল কামরার স্বয়ংক্রিয় সেন্সর ধোঁয়া শনাক্ত করার সঙ্গেই সজোরে 'ফায়ার অ্যালার্ম' বেজে ওঠে এবং ট্রেনটি স্বয়ংক্রিয়ভাবেই বন্ধমুণ্ডার কাছে দাঁড়িয়ে পড়ে। ভোরের অন্ধকারে ট্রেনের ভেতর হঠাৎ এমন ধোঁয়া ও সতর্কঘণ্টা বাজায় চরম বিভ্রান্তি ও ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয় যাত্রীদের মনে। প্রাথমিকভাবে শিকল টেনে ট্রেন থামানো হয়েছে বলে মনে করা হলেও, পরে রেল কর্তপক্ষ পরীক্ষার পর নিশ্চিত করে যে শিকল টানা হয়নি, বরং 'ফায়ার সিকিউরিটি সিস্টেম' বা অগ্নি নির্বাপণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা সক্রিয় হওয়ার কারণেই ট্রেনটি থেমে যায়।

আরপিএফ-এর বড় পদক্ষেপ

খবর পাওয়া মাত্রই তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে ছুটে যান ট্রেনে থাকা রেলওয়ে প্রটেকশন ফোর্স (RPF) এবং বাণিজ্যিক শাখার কর্মীরা। অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র নিয়ে এসে তাঁরা দ্রুত পদক্ষেপ করেন এবং খুব অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনেন। কামরা থেকে ধোঁয়া বের করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা হয়। স্বস্তির বিষয়, এই মর্মান্তিক ঘটনায় কোনো যাত্রী আহত বা হতাহত হননি।

যাত্রীকে সব ধরনের সাহায্য

দুর্ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট যাত্রীকে প্রয়োজনীয় সমস্ত রকম সাহায্য করেন ট্রেনের অন-ডিউটি টিকিট পরীক্ষক (TTI)। ওই যাত্রীর বার্থটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তাঁকে দ্রুত অন্য একটি ফাঁকা বার্থে স্থানান্তরিত করা হয়। পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হওয়ার পর, ৩টে ৫৩ মিনিট নাগাদ অর্থাৎ প্রায় ১৫ মিনিট থেমে যাওয়ার পর, ফের মুম্বই-হাওড়া মেল আবার তার গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।

পাওয়ার ব্যাঙ্ক নিয়ে রেলের অনুরোধ

চক্রধরপুর রেল ডিভিশনের সিনিয়র ডিভিশনাল কমার্শিয়াল ম্যানেজার (Sr. DCM) আদিত্য চৌধুরী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, যাত্রীটি গভীর রাতে ডিভাইসটি চার্জে দিয়ে ঘুমিয়ে পড়ার ফলেই এই বিপত্তি ঘটেছে। যাত্রীদের নিরাপত্তা জোরদার করতে এবং ভবিষ্যতে এই ধরণের বিপজ্জনক ঘটনার পুনরাবৃত্তি এড়াতে রেল কর্তৃপক্ষের তরফে একটি বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, পূর্বসতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে এখন থেকে দেশের প্রতিটি মেল ও এক্সপ্রেস ট্রেনে গভীর রাতে সমস্ত চার্জিং পয়েন্ট বন্ধ রাখার নিয়ম কড়াকড়িভাবে কার্যকর করা হবে। একই সঙ্গে রেলের তরফে যাত্রীদের অনুরোধ করা হয়েছে, তাঁরা যেন রাতে ঘুমানোর সময় পাওয়ার ব্যাঙ্ক বা মোবাইল ফোন চার্জে বসিয়ে রাখা থেকে বিরত থাকেন।

PREV
Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

Bullet Train: মাটির ১০০ ফুট নিচে স্টেশন, সমুদ্রের তলায় ৭ কিমি টানেল! দেশের প্রথম বুলেট ট্রেন নিয়ে বড় আপডেট
সন্ত্রাসবাদকে রাষ্ট্রনীতির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা যায় না, কড়া বার্তা জয়শঙ্করের