Mumbai Rains: মুম্বইয়ে ভারী বৃষ্টি একদিকে যেমন গরম থেকে স্বস্তি দিয়েছে, তেমনই শহরের জল জমার পুরনো সমস্যাকে আবার সামনে এনেছে। মরশুমের প্রথম বৃষ্টিতেই যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে, সাবওয়ে ডুবে গেছে এবং সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার।
মুম্বইয়ে ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে তাপমাত্রা কমায় ভ্যাপসা গরম থেকে স্বস্তি মিলেছে। কিন্তু শহরের পরিকাঠামো এই বৃষ্টির চাপ সামলাতে পারেনি। এভারার্ড নগরের কাছে সায়ন সাবওয়েতে হাঁটুজল জমে যায়। এর ফলে নিত্যযাত্রীদের জল ভেঙেই যাতায়াত করতে হচ্ছে এবং ব্যাপক যানজট তৈরি হয়েছে। একই অবস্থা আন্ধেরি সাবওয়েতেও। সেখানে জলস্তর তিন থেকে চার ফুট পর্যন্ত উঠে যায় বলে খবর। কর্তৃপক্ষ যানবাহন চলাচলের জন্য সাময়িকভাবে রাস্তাটি বন্ধ করে দেয় এবং চালকদের কাছের গোখলে ব্রিজ ব্যবহার করার পরামর্শ দেয়। জল বের করার জন্য আপৎকালীন দল নামানো হলেও, এই ঘটনা মুম্বইয়ের বাসিন্দাদের বর্ষার চিরচেনা ভোগান্তির ছবিটা আবার তুলে ধরেছে।
25
শহরজুড়ে জল জমায় বিপর্যস্ত জনজীবন
শহরজুড়ে জল জমার কারণে পুরসভার প্রাক-বর্ষা প্রস্তুতির কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, বৃষ্টি শুরু হওয়ার পরেই ভান্ডুপ এবং আশপাশের এলাকা সহ বেশ কিছু নিচু জায়গা প্লাবিত হয়। নর্দমা উপচে নোংরা জল রাস্তায় উঠে আসায় দুর্গন্ধ ছড়ায় এবং যাতায়াত করা কঠিন হয়ে পড়ে।
35
অতিভারী বৃষ্টিতে ব্যাহত বিদ্যুৎ পরিষেবা
মুম্বই যখন জল জমার সমস্যায় ভুগছে, তখন পাশের ভিওয়ান্ডি এবং তার গ্রামীণ এলাকায় ২৩ জুন রাত থেকে টানা বৃষ্টি হয়েছে। এই বৃষ্টিতে আবহাওয়া ঠান্ডা হওয়ায় তীব্র গরম থেকে স্বস্তি মিলেছে। তবে, ভারী বৃষ্টির কারণে কাওয়াড়, দুমাদাপাড়া এবং কাছের গ্রামগুলিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়।
বাসিন্দারা জানিয়েছেন, প্রায় ১৬ ঘণ্টা ধরে বিদ্যুৎ না থাকায় মোবাইল চার্জ দেওয়া, পানীয় জলের সরবরাহ এবং দৈনন্দিন কাজকর্মে সমস্যা হয়। বিদ্যুৎ দফতরের কর্মীরা পরিষেবা স্বাভাবিক করার চেষ্টা করলেও, দীর্ঘক্ষণ বিদ্যুৎ না থাকায় অনেকেই হতাশ হন। এই পরিস্থিতি বর্ষার দ্বৈত প্রভাবকে তুলে ধরে— একদিকে আবহাওয়ায় স্বস্তি, অন্যদিকে শহর ও গ্রামের পরিকাঠামোর পরীক্ষা।
55
জমা জল নামাতে তৎপর প্রশাসন
এই সমালোচনার মধ্যেই প্রাক্তন কর্পোরেটর ক্যাপ্টেন মালিক জানিয়েছেন, ওয়ার্ড নম্বর ১৭০-এর একটি সাবওয়ে জরুরি ভিত্তিতে মেরামতির জন্য মেয়র রিতু তাওড়েকে মে ২০২৬-এ একটি লিখিত অনুরোধ জানানো হয়েছিল। চিঠিতে জলের লিকেজ এবং কাঠামোগত সমস্যার কথা বলা হয়েছিল, যার ফলে হাসপাতালগামী, ছাত্রছাত্রী, প্রবীণ নাগরিক এবং স্থানীয় বাসিন্দারা সমস্যায় পড়ছিলেন। সমালোচকদের মতে, সময়মতো ব্যবস্থা না নেওয়ায় বর্ষার প্রস্তুতিতে খামতি প্রকাশ পেয়েছে।