Neeraj Sharma Murder Case: জয়পুরের নীরজ শর্মা খুনকাণ্ডে তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সামনে আসছে নতুন নতুন তথ্য। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, সরকারি চাকরি পাওয়ার উদ্দেশ্য এই অপরাধের সম্ভাব্য কারণ ছিল কি না।
যে কোনও ক্রাইম থ্রিলারকেই হার মানাবে রাজস্থানের নীরজ শর্মা খুনের ঘটনা। জয়পুরের বাসিন্দা নীরজ শর্মা। একটি চাকরির লোভে তাঁর মেয়েই খুন করেছিল তাঁকে। তদন্তে নেমে এমনই তথ্য হাতে পেয়েছে। তবে এই ঘটনার পরতে পরতে রয়েছে রহস্য আর প্রতিহিংসার আগুনের কাহিনি।
28
নতুন মোড়
তদন্তে নেমে পুলিশের হাতে যে যে তথ্য এসেছে তাতে সন্দেহের অন্যদিকে মোড় নিচ্ছে। কারণ নিহত নীরজ শর্মার ভাইয়ের অভিযোগ শুধু বোন নয় বোনের স্বামী অর্থাৎ নীরজের স্বামীকেও তাঁর মেয়ে আয়ুষী খুন করেছে। পুলিশের কাছে তেমনই সন্দেহ প্রকাশ করেছেন নীরজের ভাই রাকেশ শর্মা। পুলিশ সূত্রের খবর, তদন্তকারীরা গোটা বিষয়টাই খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
38
নীরজ হত্যাকাণ্ড
গত ৩ জুলাই নিজের মা নীরজকেই সুপারি কিলার দিয়ে হত্যা করেছিল আয়ুষী। গাড়ি চাপা দিয়ে খুন করেছিল। এর জন্য কয়েক মাস ধরেই পরিকল্পনা করেছিল আয়ুয়ী। তদন্তকারী সূত্রের খবর আয়ুষীর বাবার মৃত্যুর পরে তাঁর চাকরি পেয়েছিলেন নীরজ। কিন্তু সেই চাকরির লোভেই মাকে পরিকল্পনা করে ঠান্ডা মাথায় খুন করেছিল আয়ুষী।
বছর খানেক আগে হঠাৎ করেই মৃত্যু হয় আয়ুষীর বাবা বিজয় শর্মার। তিনি সরকারি কর্মী ছিলেন। রাজস্থান সরকারের ক্লার্ক পদে কর্মরত ছিলেন। বাবার মৃত্যুর পরেই সেই চাকরি পাওয়ার জন্য মরিয়া চেষ্টা করেছিলেন আয়ুষী। তাঁর মাও প্রথমে আপত্তি করেনি। কিন্তু তাতে বাধ সেধেছিল আয়ুষীর মামা রাকেশ। দিদিকে বুঝিয়েছিল আয়ুষী চাকরি পেলেও সে মেয়ে। বিয়ে করে চলে যাবে। কিন্তু তখন এক মানসিক ভারসাম্যহীন ছেলেকে নিয়ে অথৈ জলে পড়তে হবে নীরজকে। ভাইয়ের কথা শুনেই স্বামীর চাকরি নিয়েছিল নীরজ। তাতেই মায়ের সঙ্গে প্রায় যোগাযোগ ছিন্ন করে দেয় আয়ুষী।
58
বাবাকেও খুন করেছিল মেয়ে!
রাকেশ দাবি করেছিল চাকরি নিয়েই মায়ের প্রতি আয়ুষির আক্রোশের সূত্রপাত। মামা রাকেশের অভিযোগ, অসুস্থ বাবা বিজয়কে সুস্থ করে তোলার নাম করে তুতো ভাই বলরামের সঙ্গে মিলে বাড়ি থেকে নিয়ে যান আয়ুষি। এরপর প্রায় তিন মাস পরিবারের কেউ বিজয়ের খোঁজ পাননি, জিজ্ঞাসা করলে আয়ুষি শুধু বলতেন বাবা ভাল আছেন। তিন মাস পর হঠাৎই জয়পুরের এক হাসপাতালে বাবাকে ভর্তি করার খবর দেন তিনি। আত্মীয়েরা সেখানে পৌঁছে চিকিৎসকের কাছে জানতে পারেন, বিজয়ের শরীরের ৯০ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত। এর পরই আয়ুষি বাবাকে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যান, আর কয়েক দিনের মধ্যেই মৃত্যু হয় বিজয়ের। কীভাবে তাঁর শরীরের এই ক্ষতি হয়েছিল, তার উত্তর আজও মেলেনি বলে দাবি রাকেশের।
68
বাবার মৃত্যুর পর একের পর এক অভিযোগ
রাকেশের দাবি, বিজয়ের শেষকৃত্য গ্রামেই সারেন আয়ুষি ও তুতো ভাই বলরাম, এবং বাবার মৃত্যুর পর পরিবারকে জানান যে তাঁর চাকরির জন্য নিজেই আবেদন করবেন। মৃত্যুর আগে মা নীরজের সঙ্গে বচসার সময় ফিডিং টিউব খুলে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ, পাশাপাশি হোয়াট্সঅ্যাপ স্টেটাসেও ইঙ্গিতপূর্ণ বার্তা লেখেন তিনি।
78
চিকিৎসার তথ্য গোপন, স্বীকারোক্তিতে চাঞ্চল্য
অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বাবার মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের ঘটনা বাড়ির কাউকে জানতে দেননি আয়ুষি, তা প্রকাশ্যে আসে ২০২৫ সালে হাসপাতালে ভর্তির সময়। জেরায় আয়ুষি জানান, মাকে তিনি পছন্দ করতেন না এবং প্রতিবন্ধী ভাইকেই বেশি স্নেহ করতেন বলে তাঁর ধারণা ছিল। তদন্তকারীদের দাবি, বলরামকে সঙ্গে নিয়ে মাকে খুনের ছক কষার কথাও স্বীকার করেছেন আয়ুষি।
88
শুধু চাকরির জন্য মা-বাবাকে খুন!
এখন প্রশ্ন শুধু একটা চাকরির জন্যই মা আর বাবাকে খুন করল তাদের মেয়ে? এক সাইকোলজিস্ট জানিয়েছেন , আয়ুষীর মত মানুষ পরিশ্রম ও অপেক্ষা না করেই সুন্দর জীবন পেতে চায়। স্বাধীনভাবে বাঁচতে চায়। আর সেই কারণেই খুন করতেও পিছপা হয় না। যদিও এখনও সব কিছু স্পষ্ট নয়। তদন্ত করছে পুলিশ। গ্রেফতার করা হয়েছে আয়ুষী ও তার সাগরেদদের।