
NEET পেপার ফাঁস কাণ্ডে দিল্লির আন্দোলন আরও জটিল হচ্ছে। একদিকে ছাত্রছাত্রী এবং ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র মতো সংগঠনগুলো তাদের অবস্থানে অনড়, অন্যদিকে সরকার আলোচনার মাধ্যমে সমাধানসূত্র খোঁজার চেষ্টা করছে। সরকারি সূত্রে খবর, CJP নেতৃত্বকে ফের আলোচনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তাঁরা সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন। ফলে অচলাবস্থা অব্যাহত।
এর আগে, ২০ জুলাই CJP-র প্রতিনিধিরা কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডার সঙ্গে দেখা করেন। তাঁরা শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি জানান। CJP-র বক্তব্য, মন্ত্রী তাঁদের আশ্বাস দিয়েছিলেন যে এই বিষয়টি সঠিক জায়গায় আলোচনা করা হবে।
আন্দোলন শেষ করার জন্য আন্দোলনকারীরা তিনটি প্রধান শর্ত রেখেছে। এই তিনটি শর্ত নিয়ে ২০ জুলাই সংসদ অভিযান করা হয়েছিল। তারপর থেকে এখনও পর্যন্ত তারা এই শর্তে অনড় রয়েছে। শর্তগুলি দেখুন
CJP-র মুখপাত্র সৌরভ দাস এই শর্তগুলির কথা জানিয়ে বলেন: "প্রথমত, ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতে হবে। দ্বিতীয়ত, NEET পেপার ফাঁসের কারণে যে সমস্ত ছাত্রছাত্রী আত্মহত্যা করেছে, তাদের পরিবারকে ১ কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। তৃতীয়ত, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সমস্ত FIR তুলে নিতে হবে এবং সরকারপক্ষকে সার্বভৌম গ্যারান্টি দিতে হবে যে ভবিষ্যতে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের জন্য কারও বিরুদ্ধে FIR করা হবে না।"
সৌরভ দাস সাফ জানিয়ে দেন যে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে কোনও আপস করা হবে না। তিনি বলেন, "ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ নিয়ে কোনও কথাই হবে না। এটা না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে—যতদিন চলার চলুক।"
সৌরভ আরও জানান যে তিনি পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুকের সঙ্গে কথা বলেছেন। সোনম ওয়াংচুক অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন, এমনকি হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরেও। দু'জনেই একমত যে আন্দোলন অহিংস পথেই চলবে।
সৌরভ বলেন, "আজ আমি সোনম ওয়াংচুকের সঙ্গে বেশ কয়েকবার কথা বলেছি। আমাদের সিদ্ধান্ত, এই আন্দোলন শান্তিপূর্ণ থাকবে। উনিও প্রকাশ্যে সমস্ত আন্দোলনকারীকে শান্তি বজায় রাখার এবং সঠিক পথে বিক্ষোভ দেখানোর আবেদন জানিয়েছেন।"
আন্দোলনে গোলমাল পাকানোর আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন সৌরভ। তিনি বলেন, "অতীতেও এই দেশে শাসকদলের মদতপুষ্ট দুষ্কৃতীরা আন্দোলনে ঢুকে পুরো বিষয়টি ঘেঁটে দিয়েছে। শেষ পর্যন্ত দোষ দেওয়া হয়েছে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদেরই। এখানে যেন তেমনটা না হয়।"
এদিকে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও বৃহস্পতিবার একটি বিবৃতি দিয়েছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে তরুণদের ভবিষ্যৎ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। পেপার ফাঁসের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত এবং কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্ট তৈরি করা হবে বলেও তিনি ঘোষণা করেন।
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম X-এ (আগের টুইটার) একটি পোস্টে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, "ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করার চেষ্টাকারীদের ছাড়া হবে না।" তিনি আরও জানান যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এই বিষয়ে সমস্ত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মোদী লেখেন, "আমাদের তরুণদের কল্যাণ ও ভবিষ্যতের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর কিছুই নেই! পেপার ফাঁসের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে আমরা ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্ট তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও আধিকারিকদের এই বিষয়ে সমস্ত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি। ছাত্রছাত্রীদের স্বার্থ রক্ষার জন্য আমাদের ধারাবাহিক পদক্ষেপের এটি একটি অংশ। যারা আমাদের তরুণদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করার চেষ্টা করবে, তাদের ছাড়া হবে না।"