NEET পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস নিয়ে সরকার সংসদে আলোচনার জন্য তৈরি, কিন্তু বিরোধীরাই শর্ত চাপিয়ে অধিবেশন অচল করছে, অভিযোগ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজুর। অন্যদিকে, বিরোধীরা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছে এবং সংসদ চত্বরে দু'পক্ষের মধ্যে সংঘাতের পরিস্থিতিও তৈরি হয়।

অবশেষে নিট বিতর্ক নিয়ে আলোচনায় রাজি এনডিএ সরকার। তবে রেখেছে একটি শর্ত। কেন্দ্রীয় সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু বৃহস্পতিবার বিরোধীদের কাছে আবেদন করেছেন, তাঁরা যেন সংসদের বাদল অধিবেশন অচল না করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, নিট (NEET) এবং অন্যান্য পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে সরকার বিস্তারিত আলোচনার জন্য তৈরি। যদিও বিরোধীরা এই ইস্যুতে সরকারকে লাগাতার নিশানা করে চলেছে।

কিরেন রিজিজুর বার্তা

দিল্লিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় রিজিজু বলেন, সরকার বিতর্কের জন্য প্রস্তুত। সংসদীয় অধিবেশন বন্ধ না করে বিরোধীদের আলোচনায় অংশ নেওয়ার জন্য তিনি আহ্বান জানান। রিজিজু বলেন, "আপনারা যদি আলোচনা চান, তাহলে ইতিবাচক ভূমিকা নিন। আর যদি সংসদীয় বিতর্ক এড়াতে চান, তাহলে একের পর এক শর্ত চাপাতে থাকবেন।" তিনি আরও বলেন, বিতর্কের সময় বিরোধীরা তাদের সমস্ত দাবি, পরামর্শ এবং প্রশ্ন তুলতে পারে। কিন্তু তার জন্য সংসদ অচল করা উচিত নয়। রিজিজু বলেন, "আমরা খোলা মনে বিরোধী দলগুলোকে আবেদন করছি, সংসদ অচল করবেন না। এই বাদল অধিবেশনে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিল এবং কাজ রয়েছে। আমরা সেগুলো সরিয়ে রেখে প্রথমে নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস এবং দেশের অন্যান্য পরীক্ষা নিয়ে আলোচনা শুরু করতে রাজি। বিভিন্ন রাজ্যে প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে। তাই এটা সকলের জন্য উদ্বেগের বিষয়, কোনও একটি দল বা রাজ্যের নয়।"

বিজেপিকে নিশানা কংগ্রেসের

সরকারের এই মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় কংগ্রেস সাংসদ গুরজিৎ সিং আউজলা অভিযোগ করেন, কেন্দ্র ছাত্রছাত্রীদের উদ্বেগ দূর করতে ব্যর্থ। তিনি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন। আউজলা বলেন, "পরিস্থিতি এমন যে না কৃষকরা খুশি, না যুবসমাজ। এতগুলো প্রশ্ন ফাঁসের পর এখন সরকারের ঘুম ভেঙেছে। বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী হলেন ছায়া প্রধানমন্ত্রী, কিন্তু আপনারা তাঁকে কথা বলতে দেন না। তিনি যা বলেছিলেন, তা যদি আপনারা শুনতেন, তাহলে আজ এই পরিস্থিতি তৈরি হতো না। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত এবং সরকারের ছাত্রছাত্রীদের কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত।"

সংসদীয় মন্ত্রীর অভিযোগ

এর আগে, কিরেন রিজিজু অভিযোগ করেছিলেন যে বিরোধীরাই নিট প্রশ্নফাঁস নিয়ে আলোচনা থেকে পালাচ্ছে। তিনি বলেন, ইন্ডিয়া জোটের নেতারা সংসদে বিতর্কে রাজি হওয়ার পরেও নতুন করে শর্ত চাপাতে শুরু করেন। রিজিজু জানান, তিনি একটি গঠনমূলক বিতর্কের জন্য সব দলের বিরোধী নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। কিন্তু তাঁর দাবি, সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বিরোধীরা অধিবেশন বন্ধ করার জন্য নানা "অজুহাত" দিতে শুরু করে। রিজিজু বলেন, "আজ আমরা নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস নিয়ে আলোচনা শুরু করার আশা করেছিলাম। গতকাল আমরা বিরোধী দলের বেশ কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলেছিলাম এবং সবাই একটি সমাধানের বিষয়ে একমত হয়েছিলেন। কিন্তু সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে তাঁরা আবার শর্ত চাপাতে শুরু করেন। যদিও প্রধানমন্ত্রী আজ স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে ছাত্রছাত্রী ও যুবকদের জীবন ও নিরাপত্তা রক্ষার জন্য সম্পূর্ণ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং কোনও শিথিলতা বা আপস করা হবে না।" এর আগে এদিন সংসদ চত্বরে তুমুল উত্তেজনা ছড়ায়। মকর দ্বারের কাছে এনডিএ এবং ইন্ডিয়া জোটের সাংসদদের মধ্যে সরাসরি সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়। নিট প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের বিরুদ্ধে বিরোধীরা বিক্ষোভ দেখালে, এনডিএ সাংসদরাও পাল্টা বিক্ষোভ দেখান। তাঁদের অভিযোগ, বিরোধীরা আলোচনায় বাধা দিচ্ছে এবং ভুল তথ্য ছড়াচ্ছে।

উত্তাল সংসদ

সিপিআই(এম) সাংসদ জন ব্রিটাসকে বিজেপি নেতা অরুণ সিংয়ের হাত থেকে একটি পোস্টার কেড়ে নিতে দেখা গেলে উত্তেজনা আরও বাড়ে। দুই শিবিরের সাংসদরা মুখোমুখি দাঁড়িয়ে পড়লে, সংসদের নিরাপত্তা কর্মীরা মানবশৃঙ্খল তৈরি করে তাঁদের আলাদা করেন। এই সময় কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা এবং বিজেপি নেতাদের মধ্যে স্লোগান বিনিময়ও হয়। এই সংঘর্ষের বিষয়ে বিজেপি সাংসদ সম্বিত পাত্র কংগ্রেসকে আলোচনা এড়ানোর জন্য অভিযুক্ত করেন। তিনি বলেন, গত তিন দিন ধরে বিজেপির সিনিয়র নেতারা ছাত্র সংগঠন এবং সমাজকর্মী সোনাম ওয়াংচুকের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।