
ছাত্র বিক্ষোভে পুলিশি পদক্ষেপের অভিযোগ তুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নিশানা করে কংগ্রেস ও অন্যান্য বিরোধী দলগুলো তাদের প্রতিবাদ জারি রেখেছে।
কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্রকে বৃহস্পতিবার প্রশ্ন করা হয়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কি আজ সংসদে থাকা উচিত? সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে জবাবে তিনি বলেন, "হ্যাঁ, ওঁর আসা উচিত।" শাসক দল ও বিরোধীদের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনার আবহে প্রিয়াঙ্কার এই মন্তব্য বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। কংগ্রেস নেতারা সংসদে ওঠা বিভিন্ন ইস্যুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জবাব চাইছেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার সংসদের মকর দ্বারে বিরোধী সাংসদরা বিক্ষোভ শুরু করেন। ছাত্র বিক্ষোভকারীদের উপর পুলিশি পদক্ষেপ এবং অযোধ্যার রাম মন্দিরের অনুদান নয়ছয়ের অভিযোগ তুলে এই প্রতিবাদ হয়। সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ 'ইন্ডিয়া' জোটের বেশ কয়েকটি দলের সাংসদরা মকর দ্বারে জড়ো হন। তাঁদের হাতে প্ল্যাকার্ড ছিল, যেখানে ২০ জুলাই দিল্লির যন্তর মন্তরে ছাত্র বিক্ষোভকারীদের উপর পুলিশি পদক্ষেপের নির্দেশ কে দিয়েছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। সাংসদরা ছাত্রদের উপর বলপ্রয়োগ এবং অযোধ্যার শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরে অনুদানে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে কেন্দ্রের জবাবদিহি চেয়ে স্লোগানও দেন।
এই বিক্ষোভ এমন এক সময়ে হল, যখন রাজ্যসভায় পাবলিক এক্সামিনেশনস (প্রিভেনশন অফ আনফেয়ার মিনস) অ্যামেন্ডমেন্ট বিল, ২০২৬ নিয়ে আলোচনা ও পাশের কথা রয়েছে।
কংগ্রেসের রাজ্যসভা সাংসদ সৈয়দ নাসির হুসেন বলেন, ২০ জুলাইয়ের বিক্ষোভে ছাত্রদের উপর পুলিশি পদক্ষেপের বিষয়টি তুলে ধরাই এই প্রতিবাদের লক্ষ্য। তিনি কেন্দ্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন যে, বিক্ষোভকারীদের দেওয়া আশ্বাস তারা রাখেনি। তিনি বলেন, "এই বিক্ষোভ প্রতিদিন চলছে। ছাত্রদের সঙ্গে যে ব্যবহার করা হয়েছে, এবং পরে যখন সরকারের সঙ্গে তাদের আলোচনা হয়, তখন কিছু প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। বলা হয়েছিল, কাউকে গ্রেপ্তার করা হবে না, কোনও এফআইআর হবে না এবং সরকার কাউকে হেনস্থা করবে না।"
তিনি জানান, বিরোধীরা সরকারের কাছে তিনটি দাবি রেখেছিল: কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, পুলিশি পদক্ষেপ নিয়ে সংসদে বিবৃতি এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ক্ষমা। হুসেন বলেন, "তিনটি দাবি ছিল। এক, প্রধান পদত্যাগ করুন। দুই, পুলিশি অত্যাচার নিয়ে সংসদে বিবৃতি দিন, যা তাঁরা দেননি। তিন, প্রধানমন্ত্রী ক্ষমা চান। এর মধ্যে দুটি দাবি এখনও পূরণ হয়নি।"
বিতর্কে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে হুসেন বলেন, দিল্লি পুলিশ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনেই কাজ করে। তাই পুলিশি পদক্ষেপ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকেই জবাব দিতে হবে। তিনি প্রশ্ন করেন, "দিল্লি পুলিশ কার অধীনে? তারা কার তত্ত্বাবধানে কাজ করে? কার কাছ থেকে নির্দেশ নেয়?... যে মন্ত্রক অমিত শাহজির অধীনে, যে পুলিশ তাঁর অধীনে— সেই নির্দেশ কি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেন, নাকি রেলমন্ত্রী?"