
রবিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে ১৯৪২ সালের ৯ অগাস্ট শুরু হওয়া ভারত ছাড়ো আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী এবং মহাত্মা গান্ধীকে শ্রদ্ধা জানালেন। এক্স (X) পোস্টে মোদী লিখেছেন, "ঐতিহাসিক ভারত ছাড়ো আন্দোলনে যারা অংশ নিয়েছিলেন, তাঁদের সকলকে স্মরণ করছি। তাঁদের সাহস প্রত্যেক ভারতীয়র কাছে চিরকাল অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। মহাত্মা গান্ধীজির নেতৃত্বে ভারত ছাড়ো আন্দোলনের ডাক আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামে নতুন শক্তি জুগিয়েছিল এবং ঔপনিবেশিক শাসন থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য আমাদের জনগণের দৃঢ় সংকল্পকে তুলে ধরেছিল।"
ভারত ছাড়ো আন্দোলন, যা "ভারত ছোড়ো আন্দোলন" নামেও পরিচিত, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় মহাত্মা গান্ধী এবং ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের নেতৃত্বে শুরু হয়েছিল। ১৯৪২ সালের ৯ অগাস্ট এই আন্দোলনের মাধ্যমে ভারতে ব্রিটিশ শাসনের অবসানের দাবি জানানো হয়। এই আন্দোলনের গুরুত্ব ছিল অপরিসীম। কারণ এর ফলেই ব্রিটিশরা বুঝতে পারে যে, ভারতকে শাসন করা আর সম্ভব নয়। কীভাবে দেশ ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়া যায়, সেই পথ খুঁজতে তারা বাধ্য হয়।
মহাত্মা গান্ধী অহিংস পথে গণবিক্ষোভের ডাক দিয়েছিলেন এবং "সুশৃঙ্খলভাবে ব্রিটিশদের ভারত থেকে বিদায়"-এর দাবি জানান। নিজের ভাষণে তিনি বলেছিলেন, "প্রত্যেক ভারতীয়, যিনি স্বাধীনতা চান এবং তার জন্য সংগ্রাম করেন, তাকে নিজের পথপ্রদর্শক হতে হবে"—এই কথাগুলো মানুষকে দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল।
১৯৪২ সালের এই দিনেই গান্ধীজি দেশ থেকে ব্রিটিশদের তাড়ানোর জন্য সমস্ত ভারতীয়কে "করেঙ্গে ইয়া মরেঙ্গে" অর্থাৎ "করো অথবা মরো"-র ডাক দিয়েছিলেন। মুম্বাইয়ের গোয়ালিয়া ট্যাঙ্ক ময়দান থেকে এই আন্দোলন শুরু হয়েছিল। প্রতি বছর এই দিনটিকে "অগাস্ট ক্রান্তি দিবস" হিসেবে পালন করা হয়। বহু স্বাধীনতা সংগ্রামী দমন-পীড়ন এবং কারাবাসের শিকার হয়েছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত ১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীনতা অর্জন করতে সফল হয়।