প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে খোলা চিঠি ২১৫ শিক্ষাবীদের, ভি কামাকোটিতে 'গোমূত্র বিশেষজ্ঞ' বলায় নিন্দার ঝড়

Published : Jul 30, 2026, 07:36 PM IST
priyanka gandhi priyanka gandhi open letter by 215 academics over v kamakoti gaumutra expert row

সংক্ষিপ্ত

পরীক্ষা সংক্রান্ত নতুন টাস্ক ফোর্সের সদস্য আইআইটি মাদ্রাসের পরিচালক ভি কামাকোঠিকে 'গোমূত্র বিশেষজ্ঞ' বলে কটাক্ষ করেছিলেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। তাঁর এই মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে তাঁকে খোলা চিঠি লিখেছিলেন দেশের ২১৫ শিক্ষাবীদ।

পরীক্ষা সংক্রান্ত নতুন টাস্ক ফোর্সের সদস্য আইআইটি মাদ্রাসের পরিচালক ভি কামাকোঠিকে 'গোমূত্র বিশেষজ্ঞ' বলে কটাক্ষ করেছিলেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। তাঁর এই মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে তাঁকে খোলা চিঠি লিখেছিলেন দেশের ২১৫ শিক্ষাবীদ। তাঁরা দেশেরই একজন বিশিষ্ট বিজ্ঞানীর শিক্ষাগত যোগ্যতা খাটো করার জন্য ওয়াইনাডের সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর তীব্র সামোলচনা করেছেন।

২১৫ বিশেষজ্ঞের খোলা চিঠি প্রিয়াঙ্কার উদ্দেশ্যেঃ

আইআইটি মাদ্রাজের ডিরেক্টর প্রফেসর ভি কামাকোঠিকে গোমূত্র বিশেষজ্ঞ হিসেবে কটাক্ষ করার নিন্দা করেছেন তাঁরা। চিঠিতে লিখেছেন,

বৈজ্ঞানিক মানসিকতা, পাণ্ডিত্য ও জন-আলোচনা বিষয়ক একটি খোলা চিঠি। কোনো পণ্ডিতের মতামতের মূল বিষয়বস্তু নিয়ে আলোচনার পরিবর্তে কেবল একটি বিশেষ তকমা বা লেবেল দিয়ে তাঁকে খারিজ করে দেওয়াটা সেই বৈজ্ঞানিক মানসিকতাকেই ক্ষুণ্ণ করার ঝুঁকি তৈরি করে, যা গড়ে তোলার জন্য আমাদের সংবিধান প্রত্যেক নাগরিককে আহ্বান জানায়। আমাদের বিজ্ঞানী, পণ্ডিত ও শিক্ষাবিদরা এটা জানার অধিকার রাখেন যে, কোনো অবজ্ঞাসূচক তকমা বা লেবেলের শিকার হওয়ার ভয় ছাড়াই তাঁরা জন-আলোচনায় অংশ নিতে পারেন। যখন জটিল বৈজ্ঞানিক প্রশ্নগুলো রাজনৈতিক উপহাসের বস্তুতে পরিণত হয়, তখন সমাজ একটি তথ্যভিত্তিক আলোচনার সুযোগ হারায়। গণতন্ত্রে মতভেদ থাকাটা অপরিহার্য; কিন্তু উপহাস বা ব্যঙ্গ কখনোই যুক্তিপূর্ণ আলোচনার বিকল্প হতে পারে না।

ভারতের সংসদের কাছে সর্বদা এমন একটি মঞ্চের প্রত্যাশা করা হয় যেখানে গভীর ও পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিভিন্ন ধারণার ওপর বিতর্ক হবে, মর্যাদাপূর্ণভাবে মতভেদ প্রকাশ করা হবে এবং কোনো ব্যক্তিকে ব্যঙ্গাত্মক বা বিকৃত ভাবমূর্তির (caricature) ভিত্তিতে নয়, বরং তাঁর যুক্তির জোরের ওপর ভিত্তি করে বিচার করা হবে। সেই চেতনা থেকেই আমরা আইআইটি মাদ্রাজ-এর অধিকর্তা অধ্যাপক ভি. কামাকোটিকে "গোমূত্র বিশেষজ্ঞ" হিসেবে অভিহিত করে আপনার করা মন্তব্যের বিষয়ে আমাদের হতাশা প্রকাশ করছি।

ব্যঙ্গ বা রাজনৈতিক বাগাড়ম্বর—যে উদ্দেশ্যেই এমনটা বলা হয়ে থাকুক না কেন, এই ধরনের আখ্যা বা চরিত্রায়ন এমন সব উদ্বেগের জন্ম দেয় যা কেবল একজন ব্যক্তির গণ্ডি ছাড়িয়ে অনেক দূর পর্যন্ত বিস্তৃত। অধ্যাপক কামাকোটি ভারতের অন্যতম প্রধান বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত প্রতিষ্ঠানের প্রধান। তিনি আইআইটি মাদ্রাজ থেকে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে এম.এস. ও পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তিনি ১৫০টিরও বেশি গবেষণাপত্র প্রকাশ করেছেন এবং ৫০টিরও বেশি গবেষণা ও উন্নয়ন (R&D) প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত থেকেছেন। তাঁর ঝুলিতে রয়েছে একাধিক সম্মাননা ও পুরস্কার, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ডিআরডিও (DRDO)-র 'অ্যাকাডেমিক এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড' এবং ইন্ডিয়ান ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড সেমিকন্ডাক্টর অ্যাসোসিয়েশনের 'টেকনো ভিশনারি অ্যাওয়ার্ড'। ভারতের প্রথম শিল্প-মানের (industry-grade) মাইক্রোপ্রসেসর তৈরির নেপথ্যে তিনি প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছেন। বলাই বাহুল্য, তিনি দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি-বিশেষজ্ঞদের অন্যতম। যেকোনো শিক্ষাবিদের মতোই তাঁরও অধিকার রয়েছে বিভিন্ন প্রকল্পনা বা হাইপোথিসিস (hypotheses) উপস্থাপন করার, প্রথাগত জ্ঞান নিয়ে আলোচনা করার এবং বৈজ্ঞানিক কথোপকথনে অংশ নেওয়ার।

কোনো পণ্ডিতের মতামতের মূল বিষয়বস্তু নিয়ে আলোচনার পরিবর্তে কেবল একটি তকমা দিয়ে তাঁকে খারিজ করে দেওয়াটা সেই বৈজ্ঞানিক মানসিকতাকেই ক্ষুণ্ণ করার ঝুঁকি তৈরি করে, যা গড়ে তোলার জন্য আমাদের সংবিধান প্রত্যেক নাগরিককে আহ্বান জানায়। বৈজ্ঞানিক মানসিকতা মানেই কেবল প্রথা-বহির্ভূত ধারণার প্রতি সংশয় পোষণ করা নয়; বরং কোনো দাবি গ্রহণ বা বর্জন করার আগে সেটিকে বস্তুনিষ্ঠভাবে যাচাই করার মানসিকতা থাকাও এর সমান গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ইতিহাস আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, অনেক ধারণা—যা একসময় অবিশ্বাস্য বা অবাস্তব বলে মনে করা হতো—পরবর্তীতে বৈজ্ঞানিক স্বীকৃতি পেয়েছে; আবার অনেক বহুল-গৃহীত বিশ্বাসও পরবর্তীকালে পরিত্যক্ত হয়েছে। সমানভাবে উদ্বেগজনক হলো এই ধরনের মন্তব্য ভারতের শিক্ষাবিদ ও গবেষক সম্প্রদায়ের কাছে যে বার্তা পৌঁছে দেয়। আমাদের বিজ্ঞানী, পণ্ডিত ও শিক্ষাবিদরা এটা জানার অধিকার রাখেন যে, কোনো অবজ্ঞাসূচক তকমা বা লেবেলের শিকার হওয়ার ভয় ছাড়াই তাঁরা জন-আলোচনায় অংশ নিতে পারেন। তাদের যুক্তির সমালোচনা করুন, তাদের প্রমাণের যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন তুলুন এবং প্রমাণের উচ্চতর মানদণ্ড দাবি করুন—কিন্তু জ্ঞানচর্চা বা পাণ্ডিত্যকে খাটো করবেন না। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় মতপার্থক্য অপরিহার্য। তবে যুক্তিপূর্ণ আলোচনার বিকল্প হিসেবে উপহাস বা ব্যঙ্গকে দাঁড় করানো যায় না। জাতীয় পর্যায়ের আলোচনার গুণমান নির্ধারণে জনপ্রতিনিধিরা অত্যন্ত প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করেন। যখন কোনো জটিল বৈজ্ঞানিক বিষয় রাজনৈতিক উপহাসের বস্তুতে পরিণত হয়, তখন সমাজ একটি সুচিন্তিত ও তথ্যভিত্তিক বিতর্কের সুযোগ হারায়। আমরা আশা করি, ভবিষ্যতে—বিশেষ করে সংসদে—যেসব বিতর্ক অনুষ্ঠিত হবে, তাতে এই মূল্যবোধগুলোর প্রতিফলন ঘটবে। আমাদের গণতন্ত্র এর চেয়ে কম কিছুর দাবিদার নয়।

এই চিঠিতে সই করেছেন অধ্যাপক জি. ডি. যাদব (প্রাক্তন উপাচার্য, আইসিটি মুম্বাই) এবং অধ্যাপক (শ্রীমতি) পঙ্কজ মিত্তাল (মহাসচিব, অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়ান ইউনিভার্সিটি)-সহ ২১৫ জন শিক্ষাবীদ।

PREV
Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

'তোমার মা ডাইনি, সে থাকলে বিয়ে হবে না'— ক্ষুদে প্রেমিকার চিঠিতে হাসির রোল নেটদুনিয়ায়, দেখুন ভাইরাল ভিডিও
টেটে তৃণমূলের পাপের কথা মনে করিয়ে অভিষেকের মাথানত করলেন তেজস্বী সূর্য, ভিডিও ভাইরাল