
Priyanka Kakkar Joins Congress: বড় ধাক্কা খেলেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল। এবার আর বিজেপি নয়, কেজরিওয়ালের দল ভাঙাল কংগ্রেস। আম আদমি পার্টির জাতীয় মুখপাত্র প্রিয়াঙ্কা কক্কর দল ছেড়ে যোগ দিলেন কংগ্রেসে। কেজরিওয়ালের সঙ্গে থেকে বিজেপি বিরোধিতা করা যাচ্ছে না, বলে তিনি দল ছাড়লেন বলে প্রিয়াঙ্কা জানালেন। কেজরিওয়ালের অত্যন্ত কাছের পাত্রী প্রিয়াঙ্কা কংগ্রেসে যোগ দিয়ে রাহুল গান্ধীর প্রশংসা করলেন। প্রিয়াঙ্কা কক্করের পাশাপাশি এদিন উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন বিধায়ক শ্যাম সুন্দর শর্মা এবং সাংবাদিক রজত রাকেশ ট্যান্ডনও কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন।
শীর্ষস্থানীয় কংগ্রেস নেতা রাজীব শুক্লা, পবন খেরা এবং দিল্লি কংগ্রেস সভাপতি দেবেন্দর যাদবের উপস্থিতিতে প্রিয়াঙ্কা সহ বিশিষ্টরা হাত শিবিরে নাম লেখান। দিল্লিতে ক্ষমতায় হাতছাড়া হওয়ার পর থেকে কেজরির দল ক্রমশ ভাঙন চলছে। রাঘব চাড্ডা, হরভজন সিং সহ সাত রাজ্যসভার সাংসদ আপ ছেড়ে পদ্ম শিবিরে নাম লেখান।
দেখুন ভিডিও
#WATCH | Delhi: Former AAP leader Priyanka Kakkar joins Congress Party pic.twitter.com/EQgPfzLtuX
— ANI (@ANI) October 3, 2026
দলবদলের পর আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে প্রিয়াঙ্কা কক্কর আম আদমি পার্টির বর্তমান কাজকর্মের ওপর তীব্র ক্ষোভ উগড়ে দেন। তিনি সরাসরি বলেন, "আর কত দিন সমর্থন করার অযোগ্য বিষয়কে চোখ বুজে সমর্থন করে যাব?" পেশায় আইনজীবী প্রিয়াঙ্কা ২০১৩ সালে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের সঙ্গে কথা বলে একদম সাধারণ কর্মী হিসেবে আপ-এ যোগ দিয়েছিলেন। এরপর নিজের কাজের জোরে উঠে এসে ২০২৩ সালের এপ্রিলে দলের জাতীয় মুখপাত্রের পদ পান। এর আগে ২০১৭ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত তেলেঙ্গানার রাজ্য পর্যবেক্ষক, দক্ষিণ দিল্লির আইনি প্রধান, রাঘব চাড্ডার লোকসভা ভোটের প্রচার এবং রাজ্যসভার সাংসদ সঞ্জয় সিংয়ের উপদেষ্টা হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি। এমনকি গত ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্তও তিনি বিভিন্ন টিভি বিতর্ক দলের মুখ হয়ে লড়াই চালিয়েছেন।
সাংবাদিক বৈঠকে প্রিয়াঙ্কা অভিযোগ করেন,"আম আদমি পার্টি তার শুরুর দিনের নীতি থেকে পুরোপুরি সরে এসেছে।"গাড়ি বা বাংলো না নেওয়ার যে আদর্শ নিয়ে আপ পথ চলা শুরু করেছিল, আজ তা অতীত। এখন দলের নেতারা যাতায়াতের জন্য প্রাইভেট হেলিকপ্টার ব্যবহার করছেন," বলে কটাক্ষ করেন তিনি। একইসঙ্গে তাঁর দাবি, আপ একসময় যোগ্য ও বুদ্ধিমান মানুষদের টেনে আনলেও পরে তাঁদের ধরে রাখতে পারেনি। বিশেষ করে পাঞ্জাবে বুথ স্তরে কাজের কোনো অভিজ্ঞতাই নেই, রাজস্থান থেকে আসা এমন নতুন মানুষদের জাঁকজমকপূর্ণ বাংলো, গাড়ি আর বড় বড় পদ দেওয়া নিয়ে তীব্র আপত্তি জানান তিনি।
কংগ্রেসে যোগ দেওয়া নিয়ে প্রিয়াঙ্কা বলেন,"আমি আমার ছোটবেলার সেই সবুজ, পরিষ্কার, প্রগতিশীল আর নিরাপদ দিল্লিকে ফেরত দেখতে চাই। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা থেকে বুঝেছি, একমাত্র কংগ্রেসই এই স্বপ্ন সত্যি করতে পারে।" কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর প্রশংসা করে তিনি বলেন,"গোটা প্রশাসনিক যন্ত্রকে কাজে লাগিয়ে রাহুল গান্ধীকে অপমান করার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু তিনি কোনোদিন দমে যাননি। ক্যামেরার সামনে নাটক করে চোখের জল না ফেলা একমাত্র নেতাই হলেন রাহুল গান্ধী।" তিনি আরও বলেন, সততাই হলো কংগ্রেসের আসল আত্মা, যা আজকাল অন্য দলগুলোতে দেখাই যায় না।
ভোট ভাগাভাগি রোখার ডাক
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিরোধীদের ভোট যাতে ভাগ না হয়ে যায়, সেই আহ্বান জানান প্রিয়াঙ্কা। দেশের গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার রক্ষায় রাহুল গান্ধীর 'ভোট চুরি' বিরোধী লড়াইকে সমর্থন জানিয়ে তিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং বিজেপির রাজনীতির বিরুদ্ধে একজোট হয়ে লড়ার ডাক দেন। প্রিয়াঙ্কা কক্করের এই দলবদলকে দিল্লি ও পাঞ্জাবের রাজনীতির ক্ষেত্রে আম আদমি পার্টির জন্য একটি বড় বিপর্যয় বলে মনে করা হচ্ছে।