
Bhagwant Mann পঞ্জাবের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়াল মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান -কে ঘিরে বিতর্ক। মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান মদ্যপান করে উল্টোপাল্টা কথা বলছেন, অভব্য আচরণ করছেন। এমন বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে পঞ্জাবের কংগ্রেস বিধায়কেরা এদিন নাটকীয়ভাবে বিধানসভা থেকে ওয়াকআউট করলেন। বিধানসভা কক্ষে মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্তের আচরণ নিয়েই সরব হয় বিরোধী শিবির। বিধানসভায় অধিবেশন চলাকালীন কংগ্রেস বিধায়কেরা অভিযোগ তোলেন, মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান নাকি মদ্যপ অবস্থায় কক্ষে উপস্থিত থেকে অস্বাভাবিক আচরণ করেন। বিরোধী বিধায়কদের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী এতটা মত্ত অবস্থায় ছিলেন যে তিনি স্বাভাবিকভাবে সরকারি কাজ পরিচালনা করার মতো অবস্থায় ছিলেন না।
মুখ্যমন্ত্রী মানের বিরুদ্ধে ওঠা বিস্ফোরক অভিযোগ ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পঞ্জাবের বিধানসভা কক্ষ। বিরোধী দলের নেতারা সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে 'দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ'-এর অভিযোগ তুলে সরব হন। তাঁদের বক্তব্য, রাজ্যের সর্বোচ্চ পদে থেকে এই ধরনের আচরণ একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। এই ইস্যুতেই প্রতিবাদ জানাতে কংগ্রেস বিধায়কেরা ওয়াকআউটের পথ বেছে নেন।
এই ঘটনায় কিছু সময়ের জন্য বিধানসভার স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে হস্তক্ষেপ করতে হয় নিরাপত্তারক্ষী ও মার্শালদের। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ওয়াকআউট ছিল প্রতীকী প্রতিবাদ, যার মাধ্যমে তাঁরা বিষয়টির গুরুত্ব তুলে ধরতে চেয়েছেন। উল্লেখযোগ্যভাবে, এর আগেও মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান মত্ত অবস্থায় কথা বলছেন, ব্যক্তিগত আচরণ ও প্রশাসনিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিরোধীরা। এবার বিধানসভা কক্ষে সরাসরি এই অভিযোগ ওঠায় তা রাজনৈতিকভাবে আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কংগ্রেসের দাবি, পাঞ্জাবের মানুষ আরও দায়িত্বশীল ও সংযত নেতৃত্বের দাবি রাখে। এই ইস্যুকে সামনে রেখে আগামী দিনে আম আদমি সরকারকে আরও চাপে রাখার কৌশল নিতে পারে বিরোধীরা বলেই মনে করা হচ্ছে। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে এখনও পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রী বা তাঁর দলের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাঞ্জাবের রাজনৈতিক সংঘাত যে আরও তীব্র হতে চলেছে, তা স্পষ্ট।
আগামী বছর পঞ্জাবে বিধানসভা নির্বাচন। ২০২২ সালে কংগ্রেসকে হারিয়ে প্রথমবার পঞ্চনদের দেশে ক্ষমতায় এসেছিল অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আপ। কিন্তু ক্ষমতায় এসে আম জনতার প্রত্যাশা পূরণ করতে ব্যর্থ হয় ভগবন্ত মানের আপ সরকার। পঞ্জাবের আইনশৃঙ্খলা থেকে অর্থনীতিতে বড় প্রশ্ন ওঠে। দিল্লির ক্ষমতা হাতছাড়া হওয়া থেকে রাঘব চাড্ডার মত দল ছাড়ার ঘটনায় পঞ্জাবে বেশ দুর্বল হয়ে পড়েছে আপ সরকার। ২০২২ সালে পঞ্জাব বিধানসভা নির্বাতনে ১১৭টি আসনের মধ্যে আপ পায় ৯২টি আসন, সেখানে কংগ্রেস মাত্র ১৮টি-তে জিতে ক্ষমতা হারিয়েছিল।