
ভারতীয় নৌবাহিনীর শক্তি বৃদ্ধির পথে আরও এক গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। প্রথম চেষ্টাতেই ভারতের দেশীয় বিমানবাহী রণতরী INS Vikrant-এর ডেকে সফলভাবে অবতরণ করল ফরাসি প্রযুক্তিতে তৈরি রাফাল মেরিন যুদ্ধবিমান। বৃহস্পতিবার এই ঐতিহাসিক পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। এই সাফল্য ভারতীয় নৌবাহিনীর হাতে অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে। বিমানবাহী রণতরীর ডেকে যুদ্ধবিমানের অবতরণ অত্যন্ত কঠিন একটি প্রক্রিয়া। কারণ, সমুদ্রের মাঝে চলন্ত রণতরীর সীমিত জায়গার মধ্যে যুদ্ধবিমানকে অবতরণ করতে হয়। বিশেষ প্রযুক্তির সাহায্যে বিমানকে থামানো হয়।
বর্তমানে এই যুদ্ধবিমানকে ভারতীয় নৌবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে পরীক্ষা চলছে। সূত্র জানিয়েছে, আইএনএস বিক্রান্ত থেকে পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় পরিবর্তনগুলো যাচাই করতে ভারতীয় নৌবাহিনী গোয়ায় রাফাল মেরিনের ফ্লাইট ট্রায়াল করছে।
ভারত ও ফ্রান্সের মধ্যে ২৬টি রাফাল মেরিন যুদ্ধবিমান কেনার চুক্তি হয়েছে। ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে প্রায় ৬৩,০০০ কোটি টাকার এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী, ২২টি সিঙ্গল-সিট এবং ৪টি ডাবল-সিট যুদ্ধবিমান কেনার কথা রয়েছে। ৬৩,০০০ কোটি টাকার এই চুক্তিতে ভারতে রাফাল বিমানের কাঠামো (ফিউজলেজ) তৈরির কারখানা স্থাপন এবং বিমানটির ইঞ্জিন, সেন্সর ও অস্ত্রের রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত ও ওভারহলের সুবিধা গড়ে তোলার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই যুদ্ধবিমানগুলি INS Vikrant এবং INS Vikramaditya থেকে পরিচালনার জন্য ব্যবহার করা হবে। ২০৩০ সালের মধ্যে বিমান সরবরাহ সম্পূর্ণ হওয়ার কথা।
রাফাল মেরিন বিশেষভাবে বিমানবাহী রণতরী থেকে পরিচালনার উপযোগী করে তৈরি। এর বিশেষ ল্যান্ডিং গিয়ার, ভাঁজ করা যায় এমন ডানা এবং অত্যাধুনিক যুদ্ধপ্রযুক্তি রয়েছে। এই যুদ্ধবিমান ভারতীয় নৌবাহিনীর সমুদ্রভিত্তিক বিমান প্রতিরক্ষা, নজরদারি এবং আক্রমণাত্মক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে। বর্তমানে ভারতীয় নৌবাহিনীর বিমানবাহী রণতরীগুলিতে রুশ প্রযুক্তির MiG-29K যুদ্ধবিমান ব্যবহার করা হয়। রাফাল মেরিন যুক্ত হলে নৌবাহিনীর হাতে আরও একটি আধুনিক যুদ্ধবিমান পরিচালনার সুযোগ তৈরি হবে। INS Vikrant-এর মতো দেশীয় বিমানবাহী রণতরী থেকে রাফাল মেরিন পরিচালনার সক্ষমতা ভারতের সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।