
শুক্রবার লোকসভায় মহিলা সংরক্ষণ বিল পাশ না হওয়ার পর বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী বলেন, বিরোধীরা 'সংবিধানের উপর এই হামলা রুখে দিয়েছে'। রাহুলের মতে, এই বিলটা মহিলা সংরক্ষণের জন্য আনা হয়নি, বরং এটা ছিল 'ভারতের রাজনৈতিক কাঠামো বদলে দেওয়ার একটা উপায়'।
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি বলেন, 'আমরা সংবিধানের উপর এই হামলা রুখে দিয়েছি। আমরা পরিষ্কার বলেছি, এটা মহিলা সংরক্ষণ বিল নয়, এটা ভারতের রাজনৈতিক কাঠামো বদলানোর একটা উপায়।' তিনি আরও যোগ করেন যে, বিরোধীরা নিজেদের অবস্থানে অনড় এবং অবিলম্বে মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর করার মতো কোনও বিল এলে তারা সমর্থন করবে। রাহুল বলেন, 'আমি প্রধানমন্ত্রী মোদীকে বলতে চাই, আপনি যদি মহিলা সংরক্ষণ বিল চান, তাহলে ২০২৩-এর বিল আনুন এবং আজই কার্যকর করুন... আমরা আপনাকে ১০০ শতাংশ সমর্থন দেব।'
২০২৯ সালের সাধারণ নির্বাচন থেকে মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর করার জন্য আনা সংবিধান সংশোধনী বিলটি শুক্রবার লোকসভায় পাশ হয়নি। বিরোধী দলগুলি এর বিরুদ্ধে ভোট দেয়। সংবিধান সংশোধনী বিল পাশ করার জন্য উপস্থিত ও ভোটদানকারী সদস্যদের দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন প্রয়োজন হয়। বিতর্কের পর ভোটাভুটিতে বিলের পক্ষে ২৯৮ জন এবং বিপক্ষে ২৩০ জন সদস্য ভোট দেন। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা ভোটের ফল ঘোষণা করে বলেন, 'দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় সংবিধান (১৩১তম সংশোধনী) বিলটি পাশ হয়নি।'
এই প্রসঙ্গে কংগ্রেস সাংসদ মাল্লু রবি বলেন, 'মোদী-বিজেপি সরকার জেনেশুনেই এই বিলটি এনেছিল, কারণ তারা জানত যে তাদের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই... সীমানা নির্ধারণ (delimitation) নিয়ে আমাদের অনেক সন্দেহ আছে, আর সেই কারণেই আমরা বিলের বিরোধিতা করেছি।'
কংগ্রেসের আরেক সাংসদ ধরমবীর গান্ধী বলেন, 'সীমানা নির্ধারণ এবং জনগণনার আড়ালে আনা মহিলা সংরক্ষণ বিলের ক্ষেত্রে এনডিএ পরাজিত হয়েছে। তারা মহিলা সংরক্ষণের ছাতা ব্যবহার করে নিজেদের সীমানা নির্ধারণের এজেন্ডা পূরণ করতে চেয়েছিল...'
লোকসভায় সংবিধান সংশোধনী বিলটি পাশ না হওয়ায় সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু জানান, সরকার বাকি দুটি বিল নিয়ে আর এগোতে চায় না।
সাধারণত, সংবিধান সংশোধনী বিল পেশ করার প্রস্তাব সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় পাশ হয়। কিন্তু বিলের গুরুত্বপূর্ণ ধারাগুলি পাশ করাতে এবং বিলটিকে চূড়ান্তভাবে পাশ করাতে হলে শুধু সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা যথেষ্ট নয়। এর জন্য প্রয়োজন হয় কক্ষের মোট সদস্যের সংখ্যাগরিষ্ঠতা এবং একইসঙ্গে উপস্থিত ও ভোটদানকারী সদস্যদের অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন। (ANI)