
উত্তরাখণ্ডের গ্লোবাল ইনভেস্টর সামিট নিয়ে এবার বিজেপি সরকারকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। রবিবার তিনি বলেন, বিনিয়োগের নামে পুরোটাই ভাঁওতাবাজি। এটা বিজেপির 'ডাবল ইঞ্জিন' মডেলের আরও একটা বড় উদাহরণ।
কংগ্রেস নেতা এক্স (X) হ্যান্ডেলে একটি পোস্টে লেখেন, এই সামিট নিয়ে প্রচুর হইচই করা হয়েছিল। ৩.৫৬ লক্ষ কোটি টাকার ১,৭৭৯টি মউ (MoU) সইয়ের ঘোষণাও হয়। তাঁর অভিযোগ, রোড শোয়ের নামে জনগণের প্রায় ১০০ কোটি টাকা ওড়ানো হয়েছে। এরপর সরকারের তরফ থেকে দাবি করা হয়, ১ লক্ষ কোটি টাকার বিনিয়োগ নাকি বাস্তবে রূপ পেয়েছে।
রাহুল একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালের তদন্তের কথা তুলে ধরে দাবি করেন, আটার কল, সার ও বীজের দোকান এবং ছোট ছোট ক্লিনিককেও 'বিনিয়োগকারী' হিসেবে দেখানো হয়েছে। মজার ব্যাপার হল, এদের অনেকেই এই বিষয়ে কিছুই জানে না।
তাঁর আরও দাবি, মোট বিনিয়োগের ৩৫ শতাংশ অর্থাৎ ৩৫,২৭৯ কোটি টাকা এসেছে সরকারি বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলোর থেকে। এমনকি সিএসআর (CSR) ফান্ড আর অনুদানে চলা একটা স্কুলকেও ২৪.৪৯ কোটি টাকার 'বিনিয়োগকারী' হিসেবে তালিকায় রাখা হয়েছে।
এখানেই শেষ নয়। রাহুলের অভিযোগ, ১,২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে এমন এক কোম্পানির গত চার বছরে কোনও আয়ই নেই। খাতায় কলমে তাদের কোনও কর্মীও নেই। দুবাই আর লন্ডনে রোড শো করে ২৭,৯৭৫ কোটি টাকার বিনিয়োগ আসার দাবি করা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে যারা বিনিয়োগ করেছে, সেই তালিকায় এই দুই শহরের কোনও কোম্পানির নামই নেই।
কংগ্রেস নেতার আরও অভিযোগ, সামিট শুরুর ঠিক সাত দিন আগে, ২০২৩ সালের ১ ডিসেম্বর 'বিনিয়োগ'-এর সংজ্ঞাই বদলে দেওয়া হয়। রাহুল বলেন, "আগে নিয়ম বদলাও, তারপর পরিসংখ্যান দেখাও—এটা তারই একটা দারুণ উদাহরণ। মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামির উচিত ৩,৩০০ বিনিয়োগকারীর তালিকা সবার সামনে আনা।"
শেষে তিনি যোগ করেন, "বিনিয়োগ আছে শুধু খাতায় কলমে, চাকরি আছে শুধু স্লোগানে। আর উত্তরাখণ্ডের তরুণদের কপালে জুটছে শুধু প্রশ্নপত্র ফাঁস।"