দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে যারা নষ্ট করছে, তাদের কাউকে ছাড়া হবে না। মঙ্গলবার ঠিক এই ভাষাতেই হুঁশিয়ারি দিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। নির্বাচন ভবনের (নির্বাচন সদন) বাইরে প্রায় ৩০০ জন সাংসদকে আটকে দেওয়া হয়। এই নিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারকে একহাত নেন রাহুল। তিনি বলেন, সাংসদদের সঙ্গে দেখা করতে ভয় পাচ্ছেন সিইসি।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাহুল প্রশ্ন তোলেন, সাংবিধানিক পদে বসে থাকা ব্যক্তিরা যদি নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলতে না চান, তাহলে ভারতের গণতন্ত্রের অবস্থা ঠিক কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে?
রাহুল বলেন, "একটু আগেই লোকসভা ও রাজ্যসভার প্রায় ৩০০ জন সাংসদ এখানে এসেছিলেন। আমরা নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং তাঁর দুই সহকর্মীর সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু পুলিশ আমাদের এখানেই আটকে দেয়। আমরা দেশের প্রতিনিধি, দেশের মানুষের কথা বলি। আমি জানি না কেন ৩০০ জন সাংসদকে এভাবে আটকে দেওয়া হল। তারপর আমাদের এখানে বসিয়ে রাখা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের অফিস এখান থেকে মাত্র ৫০ গজ দূরে, অথচ ওরা আমাদের যেতে দিচ্ছে না... আমরা কাউকে ছাড়ব না।"
শাসক দলকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে লোকসভার বিরোধী দলনেতা স্পষ্ট জানান, গণতন্ত্র বাঁচাতে বিরোধীরা আজ নির্বাচন কমিশনের দরজায় এসে দাঁড়িয়েছে।
"আমরা শুধু ওদের (বিজেপি) বিরোধিতাই করছি না, ওদের ধ্বংস করে দেব। বিজেপি কী বলছে, তা নিয়ে আমার কোনও মাথাব্যথা নেই। আমি এখানে ভারতের গণতন্ত্র বাঁচাতে দাঁড়িয়ে আছি। আমার সঙ্গে আরও ৩০০ জন সাংসদ এসেছেন, তাঁরাও গণতন্ত্র বাঁচাতে চান। অমিত শাহ, নরেন্দ্র মোদী, মোহন ভাগবত এবং জ্ঞানেশ কুমার দেশের গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছেন। গোটা দেশ এটা মানে। দেশের যুবসমাজ এটা বোঝে এবং একমত। এমনকি পুলিশ কর্মীরাও এটা মানেন। 'ভোট চুরি' করে নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহ এবং মোহন ভাগবত দেশটাকে হাইজ্যাক করেছেন। আর জ্ঞানেশ কুমার তাঁদের সাহায্য করেছেন। এদের সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমাদের দেশের সঙ্গে যা করা হয়েছে, তাকে দেশদ্রোহিতা বলে। কেউ পার পাবে না।"
মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনের অফিসের দিকে ইন্ডিয়া জোটের মিছিলকে কেন্দ্র করে ওই এলাকায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (বিএনএসএস) ১৬৩ ধারা অনুযায়ী ১৪৪-এর মতো নিষেধাজ্ঞা জারি ছিল। এর মধ্যেই কংগ্রেস কর্মীরা আকাশবাণী ভবনে ঢুকে পড়লে পুলিশ তাঁদের আটক করে। আর ঠিক তারপরেই এই কড়া মন্তব্য করেন রাহুল।
এর আগে কংগ্রেস কর্মীরা নির্বাচন কমিশনের গেট ভেঙে ঢোকার চেষ্টা করলে নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে তাঁদের তুমুল ধস্তাধস্তি হয়। সেই সময় মাত্র ১০০ মিটার দূরে আকাশবাণী চত্বরের ভেতরেই ধর্নায় বসেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী, কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবং অন্যান্য প্রবীণ সাংসদরা।
রাহুল গান্ধী এবং প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরাকে নির্বাচন কমিশনের অফিসে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সংসদ ভবন থেকে নির্বাচন সদন পর্যন্ত মিছিল করে এসেছিলেন ইন্ডিয়া জোটের সাংসদরা। বাধা পেয়ে তাঁরা নির্বাচন কমিশনের অফিসের বাইরেই ধর্নায় বসে পড়েন।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে মঙ্গলবার রাজধানী দিল্লির রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখায় বিরোধী ইন্ডিয়া জোট। নির্বাচন কমিশনের দিকে মিছিল করে যাওয়ার সময় তাঁরা লাগাতার স্লোগান দিতে থাকেন।