
প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং রাষ্ট্রীয় মদতপুষ্ট সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিলেন। তিনি বৃহস্পতিবার ফিলিপিন্সের সেবুতে এডিএমএম-প্লাস (ADMM-Plus) ফোরামে বক্তব্য রাখার সময় এই কড়া বার্তা দেন। রাজনাথ বলেন, "এই অঞ্চলের নিরাপত্তা বাড়াতে এবং সন্ত্রাসবাদকে সমূলে উৎখাত করতে ভারত বদ্ধপরিকর।"
প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, "সন্ত্রাস দমনে ভারতের অভিজ্ঞতা শুধু ক্লাসরুম বা বইয়ের পাতায় আটকে নেই। বরং দশকের পর দশক ধরে সীমান্তে নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এই অভিজ্ঞতা তৈরি হয়েছে। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আমরা যে কৌশলই নিই না কেন, তা বাস্তবের মাটিতে পরীক্ষিত এবং সফল।"
রাজনাথ সিং 'অপারেশন সিন্দুর'-এর কথা উল্লেখ করে বলেন, "গত বছর অপারেশন সিন্দুরের সময় আমরা সন্ত্রাস দমনে ভারতের কড়া মনোভাবের একটা বড় উদাহরণ তুলে ধরেছিলাম। সেবার আমরা জঙ্গিদের বহু পরিকাঠামো ধ্বংস করে দিই। রাষ্ট্রীয় মদতপুষ্ট সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের অবস্থান যে কতটা কড়া, সেটাও স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছিল।"
প্রতিরক্ষামন্ত্রী এডিএমএম-প্লাস সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে সন্ত্রাস দমনের এই বাস্তব অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, "যৌথ সামরিক মহড়া, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং মজবুত গোয়েন্দা তথ্য আদানপ্রদানের মাধ্যমে আমরা নিজেদের আরও শক্তিশালী করে তুলতে পারি। আমরা এমন একটা ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল চাই, যা নিরাপদ ও স্থিতিশীল। যেখানে শান্তি ও স্থিতিশীলতা শুধু মুখের কথা নয়, বরং আমাদের সবার মিলিত চেষ্টার ফসল।"
রাজনাথ সিং বক্তব্যের শুরুতেই গত ২৩ অক্টোবর ফিলিপিন্সে বিমান দুর্ঘটনায় নিহতদের প্রতি শোক জানান। তিনি বলেন, "২৩ অক্টোবরের দুর্ভাগ্যজনক দুর্ঘটনায় ফিলিপিন্স বায়ুসেনার চারজন সাহসী পাইলটের অকাল মৃত্যুতে আমি গভীর শোক প্রকাশ করছি। এই শোকের মুহূর্তে ফিলিপিন্সের সশস্ত্র বাহিনী এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর পাশে ভারত পুরোপুরিভাবে রয়েছে।"
তিনি আরও বলেন, "আসিয়ান (ASEAN)-এর কেন্দ্রীয় ভূমিকাকে ভারত সবসময় গুরুত্ব দেয়। আমরা এমন একটা ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল চাই, যা সবার জন্য উন্মুক্ত এবং আন্তর্জাতিক নিয়মনীতির ওপর নির্ভরশীল। আসিয়ানের সঙ্গে আমাদের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত সম্পর্ক পারস্পরিক সম্মান, স্বার্থ এবং বাস্তব সহযোগিতার ওপর দাঁড়িয়ে আছে।"