ISRO-র ভবিষ্যৎ নিয়ে মিডিয়ায় যে ভুল খবর ছড়াচ্ছে, তা নিয়ে মুখ খুললেন ইন-স্পেসের চেয়ারম্যান পবন কে গোয়েঙ্কা। তিনি সাফ জানিয়েছেন, ISRO-র গুরুত্ব কমছে না, বরং মহাকাশ গবেষণায় তারাই ভারতের মূল ভিত্তি থাকবে।
মিডিয়ার একাংশে ছড়ানো 'বিভ্রান্তিকর খবর'-এর জবাবে ইন-স্পেস (IN-SPACe)-এর চেয়ারম্যান পবন কে গোয়েঙ্কা রবিবার সাফ জানিয়ে দিলেন, ইন্ডিয়ান স্পেস রিসার্চ অর্গানাইজেশন বা ISRO-র ভূমিকা কমার কোনও প্রশ্নই নেই। বরং ভারতের মহাকাশ গবেষণার মূল ভিত্তি হয়েই থাকবে ISRO।
পবন গোয়েঙ্কার সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট
এক্স (আগের টুইটার) হ্যান্ডেলে একটি পোস্টে গোয়েঙ্কা লেখেন, "ISRO-র ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে মিডিয়ায় কিছু বিভ্রান্তিকর খবর ছড়াচ্ছে। আমি দ্ব্যর্থহীনভাবে বলতে চাই: ISRO-র ভূমিকা কোনওভাবেই কমছে না। এটি ভারতের মহাকাশ ক্ষেত্রের মূল ভিত্তি হয়েই থাকবে।"
তিনি বলেন, ২০২০ সাল থেকে যে সংস্কার আনা হয়েছে, তার আসল উদ্দেশ্য হল ভারতের মহাকাশ ইকোসিস্টেমকে আরও বড় করা। এর জন্য ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল স্পেস প্রোমোশন অ্যান্ড অথরাইজেশন সেন্টার (IN-SPACe) বেসরকারি সংস্থাগুলোকে গবেষণায় অংশ নিতে সাহায্য করছে। অন্যদিকে, নিউস্পেস ইন্ডিয়া লিমিটেড (NSIL) ISRO-র তৈরি প্রযুক্তিকে বাণিজ্যিক রূপ দেওয়ার কাজ করছে।
গোয়েঙ্কার কথায়, "এর মূল ভাবনা হল, বেসরকারি সংস্থাগুলো ধীরে ধীরে পরিণত লঞ্চ ভেহিকেল, স্যাটেলাইট এবং অন্যান্য সিস্টেম তৈরি ও তার উৎপাদন বাড়াবে। আর ISRO পুরোপুরি মন দেবে সেই সব কাজে, যা একমাত্র তারই পক্ষে করা সম্ভব। যেমন - অত্যাধুনিক গবেষণা (R&D), সায়েন্টিফিক মিশন, স্ট্র্যাটেজিক মিশন, নতুন প্রযুক্তি এবং এমন পরিকাঠামো তৈরি করা যা বেসরকারি ক্ষেত্রের পক্ষে একা বানানো কঠিন।"
তিনি আরও জানান, ২০৩৫ সালের মধ্যে 'ভারতীয় অন্তরীক্ষ স্টেশন' তৈরি, ২০৪০ সালের মধ্যে চাঁদে মানুষ পাঠানো, পরবর্তী প্রজন্মের লঞ্চ সিস্টেম এবং চাঁদ ও অন্যান্য গ্রহে লাগাতার অভিযানের মতো বড় বড় মিশনের নেতৃত্ব দেবে ISRO-ই।
গোয়েঙ্কা যোগ করেন, "লক্ষ্যটা ISRO-কে ছোট করা নয়, বরং ভারতের মহাকাশ ইকোসিস্টেমকে আরও বড় করা, যেখানে ISRO প্রযুক্তির সীমানা ছাড়িয়ে যাবে।"
মহাকাশ গবেষণায় ভারতের অগ্রগতির কথা পবন গোয়েঙ্কার কথায়
অন্য একটি পোস্টে তিনি মহাকাশ ক্ষেত্রে সংস্কারের পাঁচ বছরের অগ্রগতির কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, "পাঁচ বছর আগে যখন ভারতের মহাকাশ ক্ষেত্র খুলে দেওয়া হয়েছিল, তখন আমাদের দুটো স্পষ্ট লক্ষ্য ছিল: ISRO নতুন দিগন্ত জয় করবে এবং আমাদের বেসরকারি শিল্প ক্ষেত্রকে বড় হওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে। আজ আমরা দুটোই সত্যি হতে দেখছি।"
ISRO-র EOS-05 মিশনকে একটি 'বড় সাফল্য' বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, "এটা তো সবে শুরু।" তিনি আরও জানান, "পাঁচ বছর আগে যেখানে হাতে গোনা কয়েকটি স্পেস স্টার্টআপ ছিল, আজ ভারতে সেই সংখ্যা ৪৫০-এর বেশি। ভারতের বেসরকারি শিল্প ইতিমধ্যেই কক্ষপথে রকেট পাঠিয়েছে।"
গোয়েঙ্কার মতে, ভারতের মহাকাশ ক্ষেত্রের সামনে পরবর্তী চ্যালেঞ্জ হল উৎপাদন বাড়ানো। ২০৩০ সালের মধ্যে বছরে ৫০টি উৎক্ষেপণের লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, "এত বড় লক্ষ্য একা কোনও একটি সংস্থার পক্ষে পূরণ করা সম্ভব নয়। সরকার এবং বেসরকারি শিল্পকে একসঙ্গে এই ভবিষ্যৎ গড়তে হবে।"
তিনি ব্যাখ্যা করেন, ISRO-র গবেষণা প্রযুক্তির সীমা বাড়াতে থাকবে, আর সেই গতিকে কাজে লাগিয়ে বেসরকারি শিল্প রকেট, স্যাটেলাইট এবং নতুন প্রযুক্তি তৈরি করবে। এভাবেই একটি সম্পূর্ণ মহাকাশ ইকোসিস্টেম তৈরি হবে এবং আমাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষা পূরণের ক্ষমতা বাড়বে।
সবশেষে তিনি বলেন, "আমাদের সামনে বিশাল সুযোগ: ভারতেই তৈরি করো, ভারত থেকেই উৎক্ষেপণ করো এবং ভারত থেকে গোটা বিশ্বকে পরিষেবা দাও। আমরা ভারতের মহাকাশ ক্ষেত্রকে আক্ষরিক এবং বাস্তবিক, উভয় অর্থেই এক নতুন কক্ষপথে নিয়ে যাওয়ার পথে অনেকটাই এগিয়েছি।"


