
জেপি সাংসদ কঙ্গনা রানাউত তাঁর বয়স এবং পেশা নিয়ে কটাক্ষ করার পর এবার পাল্টা জবাব দিলেন ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস। বুধবার তিনি বলেন, তিনি কখনও নিজেকে সক্রিয় ছাত্র বলে দাবি করেননি। আর সংসদ সদস্যকে তো সার্চ ইঞ্জিনও তাঁর সম্পর্কে ভুল তথ্য দিচ্ছে। মান্ডির লোকসভা সাংসদ কঙ্গনা তাঁর একটি ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে সৌরভকে "২৮ বছরের বেকার ও অকর্মা" বলে কটাক্ষ করেছিলেন।
এই মন্তব্যের জবাবে সৌরভ দাস ANI-কে বলেন, "এমনকি গুগলও কঙ্গনাকে আমার ব্যাপারে ভুল তথ্য দিচ্ছে। আমার বয়স ২৭, ২৮ নয়। আর আমি ছাত্র নই, আমি একজন সাংবাদিক। আমি কখনও নিজেকে সক্রিয় ছাত্র বলে দাবি করিনি। আমি জীবনের ছাত্র। বয়স যাই হোক না কেন, প্রত্যেকেরই নিজের জীবন থেকে শেখা উচিৎ। জীবনের ছাত্র হওয়া উচিত। যদি কেউ জীবনের ছাত্র না হয়, তাহলে জ্ঞান আসবে না। কঙ্গনারও শেখা উচিত কীভাবে জীবনের ছাত্র হতে হয়।"
বিজেপি সাংসদ তাঁর ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে সৌরভকে আক্রমণ করে লিখেছিলেন, "এই ছাত্রটিকে নিয়ে গুগল করলাম, ওর বয়স ২৮। কীসের ভিত্তিতে ও নিজেকে ছাত্র বলে, আমার কোনও ধারণাই নেই! হ্যাঁ, আমি গত ২ বছর ধরে রাজনীতিতে আছি, কিন্তু আমি গত ২০ বছর ধরে জনসমক্ষে কাজ করছি। ওর বয়সে আমার দুটো জাতীয় পুরস্কার ছিল। হ্যাঁ, একজন নতুন সাংসদ হিসেবে আমি সব কাজ নিয়ে অভিভূত ছিলাম, কারণ আমি একজন চলচ্চিত্র নির্মাতা, শিল্পী, প্রযোজক, চিত্রনাট্যকার এবং উদ্যোক্তাও।" তিনি আরও যোগ করেন, "তুমি ছাত্র নও; তুমি শুধু অকর্মা। কিছু দক্ষতা শেখা দিয়ে শুরু করো। শুরু করার জন্য এটা একটা ভালো জায়গা।"
অভিনেত্রী-রাজনীতিবিদ সম্প্রতি নিট পরীক্ষার দুর্নীতি নিয়ে ছাত্র-বিক্ষোভেরও সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, বিক্ষোভের সময় "অশ্লীল ভাষা" ব্যবহার এবং ব্যক্তিগত আক্রমণ সমাজের কাছে "একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়"।
বিক্ষোভের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং তাঁর প্রয়াত মা-কেও গালিগালাজ করা হয়েছে। কঙ্গনা বলেন, "আমাদের ৭৫ বছর বয়সী প্রধানমন্ত্রীকে নিশানা করা হয়েছে এবং তাঁর প্রয়াত মাকে নিয়ে জঘন্য গালিগালাজ করা হয়েছে। আমরাও ছাত্র বিক্ষোভে অংশ নিয়েছি। কিন্তু এরা কেমন ছাত্র, আর কী ধরনের অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করছে? এরা কোন দিক থেকে ছাত্র? ভবিষ্যতে এদের যদি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী বা আইনি পরামর্শের দরকার হয়, এদের বাবা-মায়েরা কি সেই খরচ জোগাতে পারবেন? এদের নিজেদের সেই ক্ষমতা নেই। আমরা ষোল বছর বয়স থেকে নিজেদের ক্যারিয়ার তৈরি করেছি। আমরা কখনও বাবা-মায়ের উপর বোঝা ছিলাম না। সমাজ হিসেবে এটা আমাদের কাছে একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়।"
বিজেপি সাংসদ তাঁর ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে একাধিক পোস্ট শেয়ার করে বিক্ষোভের ভিডিওগুলিকে "puke-inducing" বা "বমি উদ্রেককারী" বলেও মন্তব্য করেন।