
Sheikh Hasina News: ২০০৪ সালের ৫ অগাস্ট গণ-আন্দোলনের জেরে ঢাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন। সেই ঘটনার ঠিক দু'বছর পর ৫ অগাস্টেই প্রথমবার প্রকাশ্যে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হতে চলেছেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ঢাকা ছাড়ার পর তিনি প্রথমবার কোনও অনুষ্ঠানে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হতে চলেছেন। নয়াদিল্লিতে ফরেন করেসপন্ডেন্টস' ক্লাব অব সাউথ এশিয়া আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যোগ দিতে চলেছেন হাসিনা। তিনি এই অনুষ্ঠানে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং বাংলাদেশে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলবেন বলে জানা গিয়েছে। ৫ অগাস্ট সন্ধ্যা ছটা থেকে সাড়ে সাতটা পর্যন্ত নয়াদিল্লির মথুরা রোডে অবস্থিত স্যার মার্ক টালি অডিটোরিয়ামে এই অনুষ্ঠান হওয়ার কথা।
২০২৪ সালে বাংলাদেশে সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের সদস্যদের কোটা ব্যবস্থা নিয়ে শুরু হওয়া ছাত্র আন্দোলন পরবর্তীকালে দেশব্যাপী সরকারবিরোধী গণআন্দোলনে রূপ নেয়। আন্দোলনের এক পর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা ঢাকায় বিভিন্ন সরকারি ভবনে হামলা ও ভাঙচুর চালালে হাসিনা ঢাকা ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেন। নয়াদিল্লিতে আসার পর থেকে হাসিনা প্রকাশ্যে কোনও অনুষ্ঠানে যোগ দেননি এবং সংবাদমাধ্যমের সঙ্গেও আনুষ্ঠানিকভাবে কথা বলেননি। ফলে আসন্ন এই বক্তব্যই দায়িত্ব ছাড়ার পর তাঁর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশ্য উপস্থিতি হতে চলেছে। এই অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্রে হাসিনার পাশাপাশি বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা, কূটনীতিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের অংশগ্রহণের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন হাসিনার ছেলে ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর প্রাক্তন তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়, বাংলাদেশের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এবং বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ-এর মহাসচিব মাহাম্মদ আলি সিদ্দিক। এছাড়া থাকবেন বাংলাদেশের প্রাক্তন ক্রিকেটার ও প্রাক্তন সংসদ সদস্য শাকিব আল হাসান, প্রাক্তন কূটনীতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক আমিনুল হক পলাশ, রাজনৈতিক ও সন্ত্রাসবিরোধী বিশ্লেষক আবু ওবাইদা আরিন এবং বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ইউএসএ-এর পরিচালক শাহ মহম্মদ বখতিয়ার।
হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে পরিবর্তন এসেছে। মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের মেয়াদ চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে শেষ হয়। এরপর বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় এসেছে। নতুন সরকার আওয়ামী লিগ সরকারের একাধিক নেতার বিরুদ্ধে আইনি কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। একই সঙ্গে আদালতের কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত দেশের সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় আওয়ামী লিগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে।
আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।