Silent Diwali: একটাও বাজি না ফাটিয়ে শব্দহীন দীপাবলি উৎসব পালন, জানেন ভারতের এই আজব গ্রামের কথা?

Published : Nov 07, 2026, 12:32 PM IST

Silent Diwali: দীপাবলি মানে শুধু আলোর উৎসব নয়, শব্দেরও। এই উৎসবে প্রদীপ জ্বালানোর পাশাপাশি প্রচুর বাজি ফাটিয়ে আনন্দে মাতেন সবাই। তবে এমন একটা গ্রাম রয়েছে যেখানে কোনও বাজির আওয়াজ ছাড়াই চুপচাপ উৎসব পালন করা হয়।

PREV
15
আজব দীপাবলি উদযাপন

দীপাবলির কথা বললেই প্রথমে বাজির কথা মনে পড়ে। আলোর এই উৎসবে পরিবারের ছোট-বড় সবাই মিলে বাড়ির উঠোনে বাজি ফাটায়। বিশেষ করে লক্ষ্মী বোম, অ্যাটম বোম, থাউজেন্ড ওয়ালা আর রকেটের মতো বিকট শব্দের বাজি ফাটিয়েই বেশি আনন্দ পান মানুষ... আওয়াজ যত বেশি, বাজি তত ভালো বলে মনে করা হয়। বাড়ি প্রদীপে সাজানো আর পুজো করার মতোই বাজি ফাটানোও দীপাবলির প্রধান অংশ... এটা ছাড়া উৎসব ভাবাই যায় না। তবে ভারতের একটি গ্রামে বাজি না ফাটিয়েই দীপাবলি উদযাপন করা হয়। গ্রামটা কোথায়? সেখানকার মানুষ বাজি ফাটান না কেন? এই নীরব দীপাবলির পিছনের গল্পটাই বা কী? আসুন, এই দারুণ অজানা বিষয়গুলো জেনে নিই।

25
শব্দহীন দীপাবলি উদযাপিত হয় কোন গ্রামে?

তামিলনাড়ুর ধর্মপুরী জেলার বল্লেনাহল্লি গ্রামে দীপাবলি খুব অদ্ভুতভাবে পালিত হয়। দেশের অন্যান্য মানুষের মতোই এই গ্রামবাসীরাও ফুল আর প্রদীপ দিয়ে বাড়ি সাজান। কিন্তু একটা বাজি পর্যন্ত ফাটান না… একদম শান্তভাবে উৎসব পালন করেন। গত ৫০ বছর ধরে তারা এভাবেই বাজির শব্দ ছাড়াই নীরব দীপাবলি পালন করে আসছেন। তবে গ্রামবাসীদের এভাবে চুপচাপ দীপাবলি পালনের পেছনে রয়েছে পরিবেশ রক্ষার এক দারুণ চেষ্টা। বাজির ব্যবহার না করে সবাই একজোট হয়ে পরিবেশ সচেতনতা এবং পশুপ্রেমের বার্তা দিচ্ছেন।

35
বাদুড়দের জন্যই নো-ক্র্যাকার ফেস্টিভ্যাল

বল্লেনাহল্লি গ্রামে মানুষের পাশাপাশি কয়েকশো বছর ধরে প্রচুর বাদুড় বাস করছে। গ্রামের গাছে গাছে শুধু বাদুড় আর বাদুড়... এদের সঙ্গে গ্রামবাসীদের সম্পর্ক বহু প্রজন্মের। মানুষ বিশ্বাস করেন, এই বাদুড়রা গ্রাম রক্ষা করে আর এদের ঈশ্বরের রূপ মনে করা হয়। তাই তাদের সুরক্ষায় নিজেদের আনন্দ বিসর্জন দিয়ে বাজি ছাড়াই দীপাবলি পালন করেন তারা।

45
দীপাবলিতে পরিবেশ রক্ষার বার্তা

আগে এই গ্রামবাসীরাও অন্য সবার মতো দীপাবলিতে বাজি ফাটাতেন। কিন্তু একবার বাজির আওয়াজে বাদুড়রা ভয়ে গ্রাম ছেড়ে পালায়... এরপর গ্রামে নাকি অনেক বিপদ নেমে আসে। মানুষ যখন দুর্দশায়, তখন বেশ কিছুদিন পর বাদুড়রা আবার ফিরে আসে... আর তারপর নাকি মানুষের সব সমস্যা দূর হয়ে যায়। ফলে এই বাদুড়দের গ্রামের রক্ষক মানতে শুরু করেন তারা। তাই গ্রামবাসীরা ঠিক করেছেন, এই বাদুড়দের আর কখনও ক্ষতি হতে দেবেন না। এই কারণেই বাজির শব্দ ছাড়াই দীপাবলি উদযাপন করেন তারা।

55
কোনও শুভ অনুষ্ঠানে হয় না বাজি ফাটানো

মজার বিষয় হলো, শুধু দীপাবলি নয়, নববর্ষ, বিয়ে বা অন্য কোনও শুভ অনুষ্ঠানেও বল্লেনাহল্লি গ্রামে বাজি ফাটানো নিষেধ। বাদুড়ের ক্ষতি হতে পারে এমন যে কোনও কাজেরই তীব্র বিরোধিতা করেন গ্রামবাসীরা... এদের বাঁচাতে কড়া নিয়ম চালু করা হয়েছে। সাধারণ পাখিদের জন্য নিজেদের ঐতিহ্যও বদলে ফেলেছেন বল্লেনাহল্লির মানুষ... পশুপ্রেমের এক অনন্য নজির গড়েছেন।

Read more Photos on
click me!

Recommended Stories