
ভারত ও আমেরিকার যৌথ সামরিক মহড়া ‘যুদ্ধ অভ্যাস ২০২৬’-এ আধুনিক ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহার বিশেষ নজর কেড়েছে। রাজস্থানের মহাজন ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে চলা এই মহড়ায় লোটারিং মিউনিশন বা আত্মঘাতী ড্রোনের ক্ষমতা প্রদর্শন করা হয়েছে। আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোনের ক্রমবর্ধমান গুরুত্বের কথা মাথায় রেখেই এই প্রযুক্তির উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। ‘যুদ্ধ অভ্যাস ২০২৬’ হল ভারত ও আমেরিকার যৌথ সামরিক মহড়ার ২২তম সংস্করণ। উত্তরাখণ্ডের আউলি এবং রাজস্থানের মহাজন—দুই ভিন্ন ভূখণ্ডে এই মহড়া চলছে। মহাজনে মূলত মরুভূমি ও সমতল এলাকায় যুদ্ধের পরিস্থিতিতে দুই দেশের সেনার যৌথ অপারেশনাল সক্ষমতা পরীক্ষা করা হচ্ছে।
SkyStriker হল একটি লোটারিং মিউনিশন। সাধারণ ড্রোনের মতো শুধু নজরদারি চালানো নয়, নির্দিষ্ট এলাকায় গিয়ে লক্ষ্য চিহ্নিত করে সেখানে আঘাত হানার জন্য এই ধরনের ড্রোন তৈরি করা হয়। লক্ষ্যবস্তুর কাছে পৌঁছে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত আকাশে ঘোরাফেরা করার ক্ষমতার জন্যই এগুলিকে ‘লোটারিং মিউনিশন’ বলা হয়। আধুনিক যুদ্ধে এই ধরনের ড্রোন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কম সময়ের মধ্যে লক্ষ্য শনাক্ত করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত হামলা চালানোর ক্ষেত্রে এগুলি সেনাবাহিনীকে অতিরিক্ত সুবিধা দিতে পারে।
মহাজন ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে ভারত ও আমেরিকার সেনা একাধিক আধুনিক অস্ত্র ও প্রযুক্তি নিয়ে যৌথ মহড়া চালাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ভারতীয় সেনার পিনাকা মাল্টি-ব্যারেল রকেট লঞ্চার, M777 আল্ট্রা-লাইট হাউইৎজার, ধনুষ আর্টিলারি সিস্টেম এবং AH-64E Apache অ্যাটাক হেলিকপ্টার। আমেরিকার পক্ষ থেকেও HIMARS-এর মতো অত্যাধুনিক ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়েছে।
এই মহড়ার অন্যতম লক্ষ্য হল দুই দেশের সেনার মধ্যে ‘ইন্টারঅপারেবিলিটি’ বা একসঙ্গে কাজ করার ক্ষমতা বাড়ানো। অর্থাৎ, যুদ্ধের পরিস্থিতিতে দুই দেশের সেনা, অস্ত্র ও প্রযুক্তি যাতে সমন্বয় করে দ্রুত অভিযান চালাতে পারে, সেই প্রস্তুতিই নেওয়া হচ্ছে।
ইউক্রেন-সহ সাম্প্রতিক যুদ্ধগুলিতে ড্রোন ও লোটারিং মিউনিশনের কার্যকারিতা সামনে এসেছে। ফলে ভারতীয় সেনাবাহিনীও যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন, স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা এবং অন্যান্য মানবহীন প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াচ্ছে। ‘যুদ্ধ অভ্যাস ২০২৬’-এর মতো মহড়ায় এই প্রযুক্তির ব্যবহার ভারত ও আমেরিকার সেনাকে ভবিষ্যতের প্রযুক্তিনির্ভর যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করতে সাহায্য করবে। একই সঙ্গে বাস্তব যুদ্ধের মতো পরিস্থিতিতে বিভিন্ন অস্ত্র ব্যবস্থা এবং সেনা ইউনিটের মধ্যে সমন্বয় কতটা কার্যকর হচ্ছে, তাও পরীক্ষা করা হচ্ছে।
‘যুদ্ধ অভ্যাস ২০২৬’ শুধু একটি সামরিক মহড়া নয়, ভারত-আমেরিকার ক্রমবর্ধমান প্রতিরক্ষা সহযোগিতারও গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। আউলিতে উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলের যুদ্ধ এবং মহাজনে মরুভূমি ও সমতল এলাকার যুদ্ধের অনুশীলন—দুই ধরনের পরিস্থিতিতে প্রশিক্ষণের ফলে দুই দেশের সেনার অভিজ্ঞতা আরও বাড়ছে। আধুনিক অস্ত্র, ড্রোন, সেন্সর এবং বিভিন্ন যুদ্ধ ব্যবস্থা একসঙ্গে ব্যবহার করে এই মহড়া ভবিষ্যতের বহুস্তরীয় যুদ্ধের জন্য ভারতীয় ও মার্কিন সেনার প্রস্তুতি আরও শক্তিশালী করছে।