
কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগকে গণতন্ত্রের এক বড় বিজয় বলে অভিহিত করেছেন সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ পোস্ট করে তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্তটি দেশজুড়ে শান্তিপূর্ণ গণআন্দোলন এবং তরুণদের ধৈর্যের ফল। সোনম ওয়াংচুক লিখেছেন, “এটি গণতন্ত্রের বিজয়। এটি সরাসরি গণতন্ত্রের বিজয়, সরাসরি রাজপথ থেকে আসা বিজয়। এটি শান্তি, ধৈর্য এবং নিরন্তর সংগ্রামেরও বিজয়।” তিনি বলেন, গণতন্ত্রে জনগণের কণ্ঠস্বরই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, এবং যখন মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে তাঁদের মতামত প্রকাশ করে, তখন এর প্রভাব দৃশ্যমান হয়।
ওয়াংচুক দেশজুড়ে সিজেপি (ককরোচ জনতা পার্টি) এবং জেন জি পড়ুয়ার তাঁদের অধিকার এবং শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে ধারাবাহিক ও জোরাল আন্দোলনের জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি দেশজুড়ে সেইসব নাগরিকদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন, যারা নির্ভয়ে এই আন্দোলনকে সমর্থন করেছেন এবং তাঁদের আওয়াজ তুলেছেন। তিনি তাঁর বার্তাটি এই বলে শেষ করেন, “এখন সময় জবাবদিহিতার ঊর্ধ্বে উঠে সংস্কারের দিকে এগিয়ে যাওয়ার।” তাঁর মতে, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ কেবল প্রথম পদক্ষেপ। পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বাড়াতে, প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধ করতে এবং শিক্ষার্থীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে সরকারকে এখন সুনির্দিষ্ট সংস্কার বাস্তবায়ন করতে হবে।
IT'S A VICTORY OF DEMOCRACY
direct democracy... straight from the streets.
It's a victory of peace, patience & persévérance.
Congratulations CJP, Gen Z of the nation and thank you all citizens for shedding fear and the fear of fear and rising up from every corner of the nation.… pic.twitter.com/rSLOfvba2R— Sonam Wangchuk (@Wangchuk66) July 25, 2026
নিট-ইউজি বিতর্ক এবং দেশজুড়ে চলমান ছাত্র আন্দোলনের মধ্যেই ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ করেছেন। সোনম ওয়াংচুকের এই বিবৃতিটি আন্দোলনের সমর্থকদের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে, যারা শুরু থেকেই শিক্ষা ব্যবস্থায় জবাবদিহিতা এবং ব্যাপক সংস্কারের দাবি করে আসছেন।
সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, নৈতিক দায় স্বীকার করেই ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেছেন। তাঁকে বরখাস্ত করা হয়নি। এর মাধ্যমে বোঝা যায় যে সরকার তাঁকে সম্মানজনকভাবে সরে দাঁড়ানোর সুযোগ দিতে চেয়েছিল। ওড়িশায় বিজেপি নেতা ধর্মেন্দ্র ২০২১ সাল থেকে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছিলেন এবং ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর তাঁকে আবারও এই পদে নিয়োগ করা হয়েছিল।
ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগের ঘোষণা করার পরপরই দিল্লির যন্তর মন্তরে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দিতে থাকেন এবং বিষয়টিকে তাঁদের আন্দোলনের এযাবৎকালের সবচেয়ে বড় জয় হিসেবে অভিহিত করে উল্লাস প্রকাশ করেন। 'ককরোচ জনতা পার্টি' (সিজেপি)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এই ঘটনাকে "গণতন্ত্রের জয়" বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, কথিত 'নিট' (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘস্থায়ী আন্দোলন সরকারকে পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করেছে। মূল মঞ্চ থেকে সমর্থকদের উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার সময় দীপকে বলেন, এই ফলাফল শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক আন্দোলনের শক্তিকে তুলে ধরেছে এবং প্রমাণ করেছে যে সাধারণ নাগরিকরাও ক্ষমতায় থাকা ব্যক্তিদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে পারেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, "সকাল হয়ে গেছে মামু" (Subah ho gayi mamu), যার জবাবে উপস্থিত জনতা করতালিতে ফেটে পড়ে।