
পরিবেশকর্মী সোনাম ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি জে আংমো শনিবার দিল্লির সফদরজং হাসপাতালের ডাক্তারদের কাছে একটি জরুরি আবেদন করেছেন। তিনি অনুরোধ করেছেন, তাঁর স্বামীর উপর যেন কোনওরকম মুখে খাওয়ার বা শিরায় দেওয়ার মতো চিকিৎসা না করা হয়। এই ধরনের কোনও চিকিৎসার জন্য তাঁর, পরিবারের এবং গত ২০ দিন ধরে সোনামের স্বাস্থ্যের উপর নজর রাখা ডাক্তারদের অনুমতি নিতে হবে।
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম X-এ একটি পোস্টে গীতাঞ্জলি বলেন, "আমি দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে আছি, যেখানে @Wangchuk66-কে ভর্তি করা হয়েছে। আমার, ওঁর পরিবারের এবং গত ২০ দিন ধরে ওঁর স্বাস্থ্যের খেয়াল রাখা ডাক্তারদের অনুমতি ছাড়া যেন মুখে বা শিরায় কোনও ওষুধ না দেওয়া হয়।"
I am at Safdarjung hospital in Delhi where @Wangchuk66 has been admitted. Nothing should be administered to him orally or intravenous without take consent from me, his family and his doctors who have been monitoring his health for the past 20 days.
— Gitanjali J Angmo (@GitanjaliAngmo) July 18, 2026
শনিবার সকালে দিল্লি পুলিশ জন্তর মন্তরের বিক্ষোভস্থল থেকে সোনাম ওয়াংচুককে তুলে নিয়ে যাওয়ার পরেই তাঁর স্ত্রী এই বিবৃতি দেন। ওয়াংচুককে সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। জানা গেছে, ওয়াংচুক এখন সচেতন আছেন এবং তাঁর শারীরিক প্যারামিটার স্থিতিশীল। তাঁকে হাসপাতালের এমার্জেন্সি ওয়ার্ডে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
এদিকে, ওয়াংচুককে হাসপাতালে পাঠানোর পরেই দিল্লি পুলিশ জন্তর মন্তরের বিক্ষোভস্থল খালি করে দেয়।
এলাকাটি প্রচুর পুলিশ দিয়ে ঘিরে ফেলা হয় এবং বিক্ষোভকারীদের সেখান থেকে চলে যেতে বলা হয়। নয়া দিল্লির ডেপুটি কমিশনার অফ পুলিশ (DCP) এক্স-এ একটি পোস্টে জানান, দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশ এবং ওয়াংচুকের স্বাস্থ্যের অবনতির কারণে ডাক্তারদের পরামর্শেই তাঁকে হাসপাতালে সরানো হয়েছে।
ডিসিপি বলেন, "মাননীয় হাইকোর্টের আদেশ এবং স্বাস্থ্যের অবনতির কারণে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের পরামর্শে শ্রী সোনাম ওয়াংচুককে জরুরি চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। হাইকোর্টের আদেশ পালন করার সময় বিক্ষোভকারীরা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে, যার ফলে সামান্য উত্তেজনা তৈরি হয়। তবে পুলিশ সর্বোচ্চ সংযম দেখিয়েছে এবং নিরাপদে কাজটি সম্পন্ন করেছে।"
পরে ডিসিপি (নয়া দিল্লি) শচীন শর্মা সাংবাদিকদের জানান, ওয়াংচুককে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার জন্য একটি উপযুক্ত সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং তিনি চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।
পুলিশের এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছেন একাধিক বিরোধী নেতা। আপ নেতা মণীশ সিসোদিয়া, সঞ্জয় সিং এবং সৌরভ ভরদ্বাজ অভিযোগ করেছেন যে সরকার শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে দমনপীড়ন চালাচ্ছে। তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী সাগরিকা ঘোষ এবং সমাজবাদী পার্টির সাংসদ ডিম্পল যাদবও এই ঘটনার নিন্দা করেছেন।
অন্যদিকে, ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অভিজিৎতিপকে অভিযোগ করেছেন যে পুলিশ জোর করে ওয়াংচুককে তুলে নিয়ে গেছে। তিনি আরও দাবি করেন, বিক্ষোভস্থলে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাঁকে হেনস্থা করা হয়।
CJP-র প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাসও অভিযোগ করেন যে দিল্লি পুলিশতিপকেকে আটকে দেয় এবং বিক্ষোভস্থলে থাকা ছাত্রদের উপর লাঠিচার্জ করা হয়। যদিও এই অভিযোগগুলির বিষয়ে পুলিশের তরফে তাৎক্ষণিকভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
দেশজুড়ে পরীক্ষা সংক্রান্ত অনিয়ম, বিশেষ করে NEET পেপার ফাঁসের বিতর্কের জেরে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে ওয়াংচুক অনশন করছিলেন। তিনি এবং তাঁর সমর্থকরা ২০ জুলাই তাঁদের দাবিদাওয়া নিয়ে সংসদ পর্যন্ত মিছিল করার কথাও ঘোষণা করেছিলেন।
বৃহস্পতিবার দিল্লি হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল যে অনশন চলাকালীন ওয়াংচুকের স্বাস্থ্যের উপর প্রতিদিন নজর রাখতে হবে। আদালত মন্তব্য করে, "প্রত্যেক নাগরিকের জীবন মূল্যবান এবং সরকারি কর্তৃপক্ষের উচিত তা বাঁচানোর জন্য সমস্ত রকম চেষ্টা করা।" আদালত আরও নির্দেশ দেয়, সরকারি ডাক্তারদের মতামতের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে।