
মুম্বাইয়ের কোস্টাল রোডে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটল। মেরিন ড্রাইভ থেকে হাজি আলি যাওয়ার পথে লোটাস জেটির কাছে একটি বেপরোয়া গতির বিএমডব্লিউ গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সজোরে ধাক্কা মারে। এই ঘটনায় তিনজনের প্রাণ গেছে, আর একজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
নয়ার হাসপাতালের চিফ মেডিক্যাল অফিসার জানিয়েছেন, মৃতদের মধ্যে দুজনের নাম শানয় গজ্জল (২১) এবং ধৈর্য শেঠ (১৭)। এছাড়া ২৫ বছর বয়সী এক অজ্ঞাতপরিচয় যুবককে হাসপাতালে আনার পর চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।
বৃহন্মুম্বাই মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন (BMC) জানিয়েছে, ২০ বছর বয়সী আরও এক অজ্ঞাতপরিচয় যুবক ট্রমা ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছেন। তাঁর অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।
ভোরবেলায় লালা কলেজের কাছে দুর্ঘটনাটি ঘটে। গাড়িটি তখন মেরিন ড্রাইভ থেকে হাজি আলির দিকে ছুটছিল। কোস্টাল রোড কন্ট্রোল রুম জানিয়েছে, অতিরিক্ত গতির কারণেই গাড়িটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। প্রথমে চারজনকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল।
রবিবার ভোর ৫টা ২০ মিনিট। দ্রুতগতির কালো রঙের বিএমডাব্লিউ গাড়িটি উড়াল পুলের রেলিং ভেঙে প্রায় ৭৫ ফুট নিচে পড়ে যায়। শুধু তাই নয়, বিএমডাব্লিউ গাড়িতে এতোটাই জোরে আসছিল যে রেলিং ভাঙার পরে সেটি দুইবার
শূন্যে পাল্টিও খায়। দুর্ঘটনার এমনই একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। নিচে পড়ার পরে গাড়়িটি পুরোপুরি দুমড়়ে মুচড়ে যায়।
পুলিশ জানিয়েছে, গাড়িটিতে ৪জন সওয়ারি ছিল। গুজ্জর নামের এক যুবক গাড়িটি চালাচ্ছিল। গাড়িটি তার পরিবারের। দুর্ঘটনার সময় গাড়ির গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ২০০ কিলোমিটার। আর সেই কারণেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। প্রথমে একটি বিদ্যুতের খুঁটিতে ধাক্কা মারে। তারপরে রেলিং-এ ধাক্কা মেরে ভেঙে নিচে আছড়়ে পড়ে।
গাড়িটি মেরিন ড্রাইভের দিক থেকে হাজি আলির দিকে যাচ্ছিল। সেই সময় কোস্টাল রোডে লালা লাজপত রাই কলেজের কাছে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে গাড়িটি। গাড়়িতে থাকা চার যাত্রী গুজরাটের বাসিন্দা। তারা একটি ম্যানেজমেন্ট কলেজের ছাত্র। সকলেই জুহুর কাছে একটি পেয়িং গেস্ট হাউসে থাকত। চারজনই মেরিন ড্রাইভ গিয়েছিল। সেখান থেকেই রবিবার ভোরে ফিরছিল। তখনই দুর্ঘটনা ঘটে। কিন্তু কীভাবে দুর্ঘটনা ঘটে তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।