
শনিবার পুরীর পবিত্র তীর্থক্ষেত্রে 'সুবর্ণ বেশ' উপলক্ষে ভগবান জগন্নাথ, ভগবান বলরাম এবং মা সুভদ্রার কাছে প্রার্থনা জানালেন ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি। এই বিশেষ দিনে সিংহদ্বারের সামনে দাঁড়ানো রথের উপরেই দেবদেবীদের সোনার গয়নায় সাজানো হয়। এই প্রথাকে 'রাজরাজেশ্বর বেশ' নামেও ডাকা হয়।
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ একটি পোস্টে মুখ্যমন্ত্রী মাঝি জোর দিয়ে বলেন যে এই প্রথা রাজ্যের গৌরবময় ইতিহাসের এক জীবন্ত দলিল। তিনি লেখেন, "রথের উপর শ্রী জিইউ-এর এই दिव्य 'রাজরাজেশ্বর বেশ' বা 'সুবর্ণ বেশ' শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় ঐতিহ্য নয়, এটি ওড়িশাবাসীর গর্ব এবং গৌরবময় ইতিহাসের প্রতীক।"
এই ঐতিহ্যের ঐতিহাসিক তাৎপর্য তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী সূর্যবংশী রাজা গজপতি কপিলেন্দ্র দেবের অবদানের কথা স্মরণ করেন। তিনি আরও বলেন, "রাজ্য জয় করে ফেরার পর গজপতি কপিলেন্দ্র দেব সঙ্গে আনা সমস্ত সোনা মহাপ্রভুর চরণে উৎসর্গ করেছিলেন। সেই সোনা দিয়ে তৈরি গয়না দিয়ে শ্রী জিইউ-কে সাজানোর যে প্রথা শুরু হয়েছিল, তা আজও ওড়িশাবাসীর সমৃদ্ধ ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং গৌরবময় ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রেখেছে।"
মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের নাগরিকদের জন্য প্রার্থনা করে তাঁর বার্তা শেষ করেন। তিনি বলেন, "মহাপ্রভু শ্রী জগন্নাথের অশেষ কৃপা ও আশীর্বাদে প্রত্যেক ওড়িয়াবাসীর জীবন সুখ, সমৃদ্ধি ও শান্তিতে ভরে উঠুক। জয় জগন্নাথ!"
বার্ষিক রথযাত্রা উৎসবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রথা হলো এই সুবর্ণ বেশ। দেবদেবীদের এই সোনার সাজে দেখতে লক্ষ লক্ষ ভক্ত পুরীতে ভিড় জমান। রথযাত্রার সময় এই প্রথাটি বিশেষভাবে পালিত হয়, কারণ নয় দিনের যাত্রা শেষে মূল মন্দিরে ফেরার আগেই দেবদেবীদের সোনার গয়না পরানো হয়। তাঁদের হাত, বাহু এবং মুকুট খাঁটি সোনা দিয়ে তৈরি থাকে। ভগবান জগন্নাথের ডান হাতে থাকে সোনার চক্র এবং বাঁ হাতে রুপোর শঙ্খ। অন্যদিকে, ভগবান বলরামের বাঁ হাতে থাকে সোনার 'হল' (লাঙল) এবং ডান হাতে সোনার ‘গদা’।
জগন্নাথ রথযাত্রা ভারতের অন্যতম বড় এবং পবিত্র ধর্মীয় উৎসব, যা প্রতি বছর ওড়িশার পুরীতে পালিত হয়। এই উৎসবে ভগবান জগন্নাথ, তাঁর ভাই বলরাম এবং বোন সুভদ্রাকে জগন্নাথ মন্দির থেকে গুণ্ডিচা মন্দিরে বিশাল রথে করে নিয়ে যাওয়া হয়।
লক্ষ লক্ষ ভক্ত এই রথ টানেন, কারণ তাঁরা বিশ্বাস করেন যে এতে পুণ্যলাভ হয়। এই বছরের রথযাত্রা, যা ছিল ১৪৯তম, ১৬ জুলাই শুরু হয়েছিল এবং ২৪ জুলাই বহুড়া যাত্রার মাধ্যমে নয় দিনের উৎসব শেষ হয়। দেবদেবীরা ২৭ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে জগন্নাথ মন্দিরে আবার প্রবেশ করবেন বলে কথা আছে।