
Election Commision of India: নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের জন্য যে বাছাই কমিটি, তাতে ভারতের প্রধান বিচারপতিকে (CJI) রাখতেই হবে, এমন আইন তৈরির জন্য সংসদকে কি নির্দেশ দেওয়া যায়? বুধবার এই বড় প্রশ্নটাই তুলল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court of India)। বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত এবং বিচারপতি সতীশ চন্দ্র শর্মার বেঞ্চ জানিয়েছে, 'আইন তৈরি করা সংসদের বিশেষ অধিকার। আদালত সংসদকে আইন তৈরির নির্দেশ দিতে পারে না।' শীর্ষ আদালত ২০২৩ সালের 'মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার (নিয়োগ, পরিষেবার শর্ত এবং পদের মেয়াদ) আইন' নিয়ে একগুচ্ছ আবেদনের শুনানি করছিল। এই নতুন আইনে নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগের প্যানেল থেকে প্রধান বিচারপতিকে বাদ দেওয়া হয়েছে, যা নিয়েই মূল বিতর্ক।
শুনানির সময় আবেদনকারীদের একজন আইনজীবী সওয়াল করেন, এই নতুন আইন আসলে বিচার বিভাগ বা সরকারের হাতেই সব ক্ষমতা তুলে দিচ্ছে। এটি সুপ্রিম কোর্টের সাংবিধানিক বেঞ্চের রায়ের পরিপন্থী। সেই রায়ে বলা হয়েছিল, প্রধানমন্ত্রী, লোকসভার বিরোধী দলনেতা এবং প্রধান বিচারপতির কমিটি নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ করবে। এর উত্তরে বেঞ্চ জানায়, যে রায়ের কথা বলা হচ্ছে, সেটি একটি অস্থায়ী ব্যবস্থা ছিল কারণ তখন কোনও নির্দিষ্ট আইন ছিল না। বিচারপতিরা প্রশ্ন করেন, ‘আদালত বলেছিল, যতক্ষণ না আইন তৈরি হচ্ছে, ততক্ষণ কিছু নিয়ম মানা উচিত। এখন যখন আইন তৈরি হয়ে গিয়েছে, তখন কি আপনারা বলতে পারেন যে সেই নিয়মগুলো মানা হচ্ছে না?’ আবেদনকারীদের দাবি, ২০২৩ সালের আইন এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে প্রধানমন্ত্রী পছন্দের প্রার্থীদেরই নিয়োগ করতে পারেন। এর ফলে নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ হবে। তাঁরা আরও বলেন, নিয়োগ প্রক্রিয়া শাসক দলের নিয়ন্ত্রণে থাকা উচিত নয়।
এই মামলার শুনানি বৃহস্পতিবারও চলবে। বুধবার মামলাটি শুনানির জন্য উঠলে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা বেঞ্চকে অনুরোধ করেন, মামলাটি যেন পরের সপ্তাহে শোনা হয়। তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্টের নয় বিচারপতির বেঞ্চে শবরীমালা মামলার শুনানি নিয়ে তিনি ব্যস্ত। কিন্তু বেঞ্চ মামলাটি স্থগিত রাখতে অস্বীকার করে। বিচারপতিরা বলেন, ‘এই মামলা অন্য যে কোনও মামলার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’ উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে এই নতুন আইনের অধীনে হওয়া দুই নির্বাচন কমিশনারের নিয়োগে স্থগিতাদেশ দিতে অস্বীকার করেছিল শীর্ষ আদালত।
অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্রেটিক রিফর্মস (ADR), জয়া ঠাকুর (মধ্যপ্রদেশ মহিলা কংগ্রেস কমিটির সাধারণ সম্পাদক), সঞ্জয় নারায়ণরাও মেশরাম, ধর্মেন্দ্র সিং কুশওয়াহা এবং আইনজীবী গোপাল সিং-এর মতো একাধিক আবেদনকারী এই আইনকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করেছেন। তাঁদের মূল আপত্তি, নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগের প্যানেল থেকে প্রধান বিচারপতিকে বাদ দেওয়া নিয়ে। আবেদনগুলিতে বলা হয়েছে, এই আইনের বিভিন্ন ধারা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের নীতির বিরোধী। কারণ এতে নির্বাচন কমিশনের (ECI) সদস্যদের নিয়োগের জন্য কোনও 'স্বাধীন ব্যবস্থা' নেই। আবেদনকারীরা আরও বলেন, এই আইন সুপ্রিম কোর্টের ২ মার্চ, ২০২৩-এর রায়ের বিরোধী। সেই রায়ে শীর্ষ আদালত স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিল, যতদিন না সংসদ আইন তৈরি করছে, ততদিন প্রধানমন্ত্রী, প্রধান বিচারপতি এবং লোকসভার বিরোধী দলনেতাকে নিয়ে গঠিত কমিটির পরামর্শেই নির্বাচন কমিশনের সদস্যদের নিয়োগ করতে হবে। তাঁদের মতে, প্রধান বিচারপতিকে প্রক্রিয়া থেকে বাদ দেওয়ায় সুপ্রিম কোর্টের সেই রায় দুর্বল হয়ে পড়েছে। কারণ এখন প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁর মনোনীত মন্ত্রী সহজেই বিরোধী দলনেতার মতামতকে অগ্রাহ্য করতে পারবেন। ফলে নিয়োগের ক্ষেত্রে সরকারের কথাই শেষ কথা হবে। আবেদনগুলিতে বিশেষ করে ২০২৩ সালের আইনের ৭ এবং ৮ নম্বর ধারাকে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে, যেখানে নির্বাচন কমিশনের সদস্যদের নিয়োগ পদ্ধতি উল্লেখ করা আছে। তাঁদের দাবি, নিয়োগ কমিটিতে প্রধানমন্ত্রী, লোকসভার বিরোধী দলনেতার পাশাপাশি একজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে (প্রধানমন্ত্রীর মনোনীত) রাখার বদলে প্রধান বিচারপতিকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য কেন্দ্রকে নির্দেশ দিক আদালত। এই নতুন আইনটি ১৯৯১ সালের 'নির্বাচন কমিশন (নির্বাচন কমিশনারদের চাকরির শর্ত এবং কার্য সম্পাদন) আইন'-এর পরিবর্তে আনা হয়েছে।
(শিরোনাম ছাড়া এই প্রতিবেদনটি এশিয়ানেট নিউজ বাংলারকর্মীরা সম্পাদনা করেননি এবং এটি একটি সিন্ডিকেটেড ফিড থেকে প্রকাশিত।)
আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।