
এসআইআর মামলায় সুপ্রিম কোর্টের একাধিক নির্দেশ। তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক দাবিকে মান্যতা দিল শীর্ষ আদালত। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়ায় তথ্যগত অসঙ্গতির (লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি) তালিকা প্রকাশ করতে হবে নির্বাচন কমিশনকে। পঞ্চায়েত অফিস, ব্লক অফিস, মহকুমা অফিস ও ওয়ার্ড অফিসে টাঙাতে হবে তালিকা। শুনানিতে কারও কাছ থেকে নথি গ্রহণ করা হলে তার রশিদও দিতে হবে। এছাড়াও, শুনানিতে রাজনৈতিক দলগুলির বিএলএ-র দের উপস্থিত থাকার দাবিকেও মান্যতা দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছিলেন তৃণমূল সাংসদ দোলা সেন ও ডেরেক ও ব্রায়েন। তৃণমূলের তরফে এই প্রক্রিয়ায় আপত্তি জানিয়ে এবং স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেই সুপ্রিম কোর্টে মামলা করা হয়েছিল। তাদের অভিযোগ, অযথা হয়রানি করা হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। কোনও বিষয়ে নথি জমা দেওয়া হলেও রশিদ দেওয়া হচ্ছে না। এছাড়াও, এসআইআর শুনানিতে বিএলএ-দের যাতে রাখা হয় তারও দাবি জানায় তৃণমূল। শুনানির পরে বেশ কয়েকটি অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিয়েছে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ।
প্রথমত, আদালত উল্লেখ করেছে যে, বাবা-মায়ের নামের অমিল, বাবা-মায়ের সঙ্গে বয়সের ব্যবধান কম ইত্যাদির মতো অসঙ্গতির কারণে প্রায় ১.২৫ কোটি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। যে সব ভোটাররা শুনানিতে ডাক পাচ্ছেন, তাঁরা তাঁদের পক্ষ থেকে শুনানিতে সওয়াল করার জন্য কারও সাহায্য নিতে পারেন। আত্মীয়, বন্ধু, প্রতিবেশীদের, এমনকী বিএলএ-দেরও সাহায্য নিতে পারেন। অর্থাৎ, এবার থেকে বিএলএ-রা থাকতে পারবেন হিয়ারিং-এ। শুধু তাই নয়, ভোটারের হয়ে সওয়ালও করতে পারবেন। শীর্ষ আদালত বলেছে, ভোটারের অনুপস্থিতিতে প্রতিনিধি হিসাবে নথি ও আপত্তি জমা দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে বিএলএ অর্থাৎ রাজনৈতিক দলের বুথ স্তরের এজেন্টদের। বিএলএ-দের কাছে অথোরিটি লেটার থাকবে। অর্থাৎ তাঁর কাছে একটি অনুমতিপত্র থাকতে হবে এবং তাতে সংশ্লিষ্ট ভোটারের স্বাক্ষর বা আঙুলের ছাপ থাকতে হবে।
দ্বিতীয়ত, শুনানির জন্য পঞ্চায়েত ভবন এবং ব্লক অফিসে আলাদা কাউন্টার খুলতে হবে নথি বা আপত্তি জমা দেওয়ার জন্য। পর্যাপ্ত কর্মচারী নিয়োগ করতেও নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করার জন্য রাজ্যকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাজ্য যথাযথ আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে। তালিকা প্রকাশের ১০ দিনের মধ্যে আপত্তি দায়ের করতে হবে। নথি সন্তোষজনক না হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে শুনানির সুযোগ দেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ব্যক্তিগতভাবে বা অনুমোদিত প্রতিনিধির মাধ্যমে শুনানি করা যেতে পারে। যেখানে অনুমোদিত এজেন্ট উপস্থিত থাকতে পারবেন।
এছাড়াও আদালত নির্দেশ দিয়েছে যে, নথিপত্র গ্রহণের সময় অথবা নোটিশ পাওয়া ব্যক্তির শুনানির সময় আধিকারিকরা নথিপত্র গ্রহণ বা শুনানির রশিদও দেবেন। আদালত রাজ্য সরকারকে এই প্রক্রিয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনের পর্যাপ্ত লোকবল নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় যাতে কোনও আইনশৃঙ্খলার সমস্যা না হয় তা নিশ্চিত করবার রাজ্য পুলিশের ডিজি-কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।