অপারেশন সিঁদুরের সময় ভারতীয় বিমান বাহিনীর রাফাল যুদ্ধবিমান থেকে SCALP মিসাইল ছোড়া হয়েছিল। পাকিস্তানের সেনা ঘাঁটিতে হামলা চালাতে ব্যবহার করা হয়েছিল ব্রহ্মস সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইলও।

ভারত ও ফ্রান্স একটি বড় প্রতিরক্ষা চুক্তির জন্য আলোচনা করছে, যার আওতায় ভারতীয় বিমান বাহিনী (IAF) বিপুল সংখ্যক SCALP ক্রুজ মিসাইল (SCALP cruise missiles) কিনবে। গত বছর অপারেশন সিঁদুরের সময় পাকিস্তানের অভ্যন্তরে জইশ-ই-মহম্মদ এবং লস্কর-ই-তইবার ঘাঁটি ধ্বংস করতে এই মিসাইল ব্যবহার করা হয়েছিল। প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের মতে, ফ্রান্স থেকে SCALP মিসাইল কেনার বিষয়ে আলোচনা চলছে এবং শীঘ্রই একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

অপারেশন সিঁদুরে ব্যবহার

অপারেশন সিঁদুরের সময় ভারতীয় বিমান বাহিনীর রাফাল যুদ্ধবিমান থেকে SCALP মিসাইল ছোড়া হয়েছিল। পাকিস্তানের সেনা ঘাঁটিতে হামলা চালাতে ব্যবহার করা হয়েছিল ব্রহ্মস সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইলও। পাকিস্তানের মুরিদকে এবং বাহাওয়ালপুর জেলায় অবস্থিত জঙ্গি ঘাঁটিগুলিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছিল, যেগুলি সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে যায়। আক্রমণগুলি অত্যন্ত নির্ভুল ছিল এবং সমস্ত লক্ষ্যবস্তু সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করা হয়েছিল। ভারতীয় বিমান বাহিনী রাফাল বহরের জন্যই এই ক্রুজ মিসাইল কিনছে।

১১৪টি রাফাল আসবে?

এছাড়াও, ভারতীয় বিমান বাহিনী তাদের রাফাল যুদ্ধবিমানের জন্য বিপুল সংখ্যক মেটিওর এয়ার-টু-এয়ার মিসাইল কেনার প্রক্রিয়া জোরকদমে চলছে। এই মিসাইল ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য অর্ডার করা ২৬টি রাফাল এম বিমানে লাগানো হবে। যা আগামী তিন থেকে চার বছরের মধ্যে সরবরাহ করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। অপারেশন সিঁদুরের সময় রাফাল বিমানের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স এবং এই অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে ভারতীয় বিমান বাহিনী এখন আরও ১১৪টি রাফাল যুদ্ধবিমান কেনার প্রস্তাব নিয়ে এগিয়ে চলেছে। এই প্রস্তাবটি আগামী দিনে প্রতিরক্ষা অধিগ্রহণ কাউন্সিল (DAC) থেকে অনুমোদন পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। আগামী বছরগুলিতে রাফাল বিমান ভারতীয় বিমান বাহিনীর মেরুদণ্ড হয়ে উঠবে এবং আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে তাদের সংখ্যা প্রায় ২০০-এ পৌঁছবে বলে আশা করা হচ্ছে।

স্ক্যাল্প মিসাইল কী, এর ক্ষমতা কতটা?

স্ক্যাল্প মিসাইল, যা স্টর্ম শ্যাডো নামেও পরিচিত। এটি হল একটি দূরপাল্লার এযার টু গ্রাউন্ট ক্রুজ মিসাইল, যা ইউরোপীয় প্রতিরক্ষা গোষ্ঠী এমবিডিএ দ্বারা তৈরি করা হয়েছে। এটি সুরক্ষিত বাঙ্কার এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো-সহ স্থির লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। স্ক্যাল্পের ন্যূনতম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াসহ নির্ভুল আঘাত হানার সক্ষমতাও রয়েছে। এর ওজন প্রায় ১,৩০০ কেজি এবং দৈর্ঘ্য প্রায় ৫.১০ মিটার। এর সুবিন্যস্ত নকশা এটিকে দূরপাল্লার অভিযানের জন্য কার্যকর করে তোলে। SCALP-এর সক্ষমতার একটি প্রধান উপাদান হল এর অত্যাধুনিক নেভিগেশন সিস্টেম। মিসাইলটি উন্নত নেভিগেশন প্রযুক্তি ব্যবহার করে, যা আইএনএস, জিপিএস এবং ভূখণ্ড-নির্ভর রেফারেন্সিংয়ের সমন্বয়ে কাজ করে। এটি শত্রুর রাডার এড়ানোর জন্য নীচু দিয়ে পূর্ব-পরিকল্পিত পথে এগিয়ে যায়। চূড়ান্ত পর্যায়ে, স্বয়ংক্রিয় লক্ষ্যবস্তু শনাক্তকরণ ক্ষমতাসম্পন্ন একটি ইমেজিং ইনফ্রারেড সিকার নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে উচ্চ নির্ভুল আঘাতের নিশ্চয়তা দেয়।