
২০০৬ সালের নিঠারি সিরিয়াল কিলিং মামলার মূল অভিযুক্ত সুরেন্দ্র কোলি ২০২৫ সালে সুপ্রিম কোর্ট থেকে বেকসুর খালাস পান। কিন্তু বছর ঘুরতে না ঘুরলেই অস্বাভাবিক মৃত্যু হল সুরেন্দ্র কোহির। শুক্রবার হরিদ্বারের ভূপতওয়ালা এলাকা থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। সুরেন্দ্র আত্মঘাতী হয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
হরিদ্বার পুলিশ জানিয়েছে, কোলি শহরের কোতোয়ালি থানার অন্তর্গত ভূপতওয়ালা এলাকায় থাকছিলেন। গত কয়েকদিন ধরে ওই এলাকাতেই তিনি একটি চায়ের দোকান চালাচ্ছিলেন। হরিদ্বার সিটির সিও শিশুপাল সিং নেগি জানান, সপ্তর্ষি এলাকায় এক ব্যক্তি আত্মঘাতী হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া আধার কার্ড দেখে তাঁকে সুরেন্দ্র কোলি হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। ফরেনসিক বা এফএসএল (FSL) দল ঘটনাস্থল খতিয়ে দেখছে।
এএনআই-কে নেগি বলেন, "সপ্তর্ষি এলাকায় এক ব্যক্তি আত্মঘাতী হয়েছেন বলে আমরা খবর পাই। প্রাথমিক তদন্তে এটি আত্মহত্যার ঘটনা বলেই মনে হচ্ছে। তবে ঘটনাস্থল থেকে যে আধার কার্ডটি পাওয়া গেছে, তাতে সুরেন্দ্র কোলি নাম লেখা রয়েছে এবং ঠিকানাও মিলে যাচ্ছে। আমরা জানতে পেরেছি যে, আত্মঘাতী এই ব্যক্তিই নিঠারি কাণ্ডের অন্যতম অভিযুক্ত সুরেন্দ্র কোলি।" তিনি আরও বলেন, "আমরা শুনেছি তিনি এখানে একটি চায়ের দোকান চালাতেন এবং বেশ কিছুদিন ধরে এই এলাকাতেই থাকছিলেন। আমাদের এফএসএল দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে। তাদের কাজ শেষ হলে সুরতহাল ও ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া শুরু হবে। একটি বিশেষ প্যানেল এই ময়নাতদন্ত করবে।" পুলিশ খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং মৃতদেহটি উদ্ধার করে। পুরো ঘটনার তদন্ত চলছে।
২০০৬ সালের নিঠারি সিরিয়াল কিলিং মামলায় মূল অভিযুক্ত ছিলেন সুরেন্দ্র কোলি এবং ব্যবসায়ী মনিন্দর সিং পান্ধের। নয়ডায় পান্ধেরের বাড়ির পিছনের একটি নালা থেকে শিশুদের কঙ্কাল উদ্ধার হওয়ার পরেই এই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের কথা প্রকাশ্যে আসে। গত বছর সুপ্রিম কোর্ট নিঠারি হত্যা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত কোলিকে বেকসুর খালাস করে এবং তার সাজা বাতিল করে দেয়।