
বেকার গ্র্যাজুয়েটদের জন্য বড় ঘোষণা নতুন সরকারের। বেকার গ্র্যাজুয়েটদের মাসে ৪,০০০ টাকা দেওয়ার একটি প্রকল্প শীঘ্রই শুরু হতে চলেছে। এর আগে, নতুন সরকার বেকার গ্র্যাজুয়েটদের মাসে ৪,০০০ টাকা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিল। গ্র্যাজুয়েটদের জন্য ৪,০০০ টাকা এবং দ্বাদশ শ্রেণি পাশ, ডিপ্লোমা বা আইটিআই পাশ করা প্রার্থীদের জন্য মাসে ২,৫০০ টাকা আর্থিক সাহায্যের কথা বলা হয়েছিল।
রাজ্য সরকার বেকার যুবকদের জন্য মাসে ৪,০০০ টাকা দেওয়ার এই যুবকল্যাণ প্রকল্পটি প্রস্তাব করেছে। এই প্রকল্পের অধীনে, রাজ্যের এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জে নাম নথিভুক্ত করা গ্র্যাজুয়েট, ডিপ্লোমা হোল্ডার, দ্বাদশ শ্রেণি পাশ এবং আইটিআই পাশ করা যুবকদের মাসিক ভাতা দেওয়া হয়। এই প্রকল্পটি বেকার বা চাকরিপ্রার্থীদের অস্থায়ী আর্থিক সাহায্য দেয়, যাতে তাঁরা চাকরি খোঁজা বা দক্ষতা বাড়ানোর সময় নিজেদের খরচ চালাতে পারেন।
পুরনো প্রকল্পে, দশম শ্রেণি পাশ না করা প্রার্থীরা মাসে ২০০ টাকা, দশম শ্রেণি পাশ করলে ৩০০ টাকা, দ্বাদশ শ্রেণি পাশ করলে ৪০০ টাকা এবং গ্র্যাজুয়েট বা পোস্ট-গ্র্যাজুয়েটরা মাসে ৬০০ টাকা ভাতা পান। আশা করা হচ্ছে, বর্তমান সরকার এই প্রকল্পকেই উন্নত করে ৪,০০০ টাকা ভাতা দেবে। পুরনো প্রকল্পে ভাতা পাওয়ার কিছু নির্দিষ্ট যোগ্যতা রয়েছে, যা ভবিষ্যতেও মানা হতে পারে। সেগুলি দেখে নিন।
বেকার যুবকদের ভাতা পাওয়ার জন্য কিছু শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: দশম শ্রেণি পাশ বা তার কম, দ্বাদশ শ্রেণি পাশ বা সমতুল (ডিপ্লোমা, প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ), এবং গ্র্যাজুয়েট বা পোস্ট-গ্র্যাজুয়েট (ইঞ্জিনিয়ারিং, ডাক্তারি, আইন ইত্যাদি পেশাগত ডিগ্রি বাদে)।
এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জে রেজিস্ট্রেশন: আবেদনকারীকে অন্তত পাঁচ বছর আগে এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জে নাম নথিভুক্ত করতে হবে।
বার্ষিক আয়: আবেদনকারীর পরিবারের বার্ষিক আয় ৭২,০০০ টাকার বেশি হওয়া চলবে না।
বয়সসীমা: সাধারণ প্রার্থীদের বয়স ৪০ বছরের মধ্যে হতে হবে। তফসিলি জাতি ও উপজাতির প্রার্থীদের ক্ষেত্রে বয়সের ঊর্ধ্বসীমা ৪৫ বছর।
আবেদনকারীকে অবশ্যই রাজ্যের কোনও স্কুল বা কলেজ থেকে পড়াশোনা শেষ করতে হবে। তাঁর বাবা-মা বা অভিভাবককে অন্তত ১৫ বছর রাজ্যে বসবাস করতে হবে। আবেদনকারী সরকারি, বেসরকারি বা স্ব-নিযুক্ত কোনও বেতনভোগী কাজে যুক্ত থাকতে পারবেন না। অন্য কোনও সরকারি বা বেসরকারি উৎস থেকে আর্থিক সাহায্য পেলে এই ভাতা পাওয়া যাবে না। আবেদনকারী কোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত ছাত্র হিসেবে পড়াশোনা করতে পারবেন না, তবে দূরশিক্ষা বা করেসপন্ডেন্স কোর্সের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য নয়।
এই ভাতা পাওয়ার জন্য কিছু জরুরি নথি জমা দিতে হবে। যেমন - আধার কার্ড, শিক্ষাগত যোগ্যতার মার্কশিট, এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ রেজিস্ট্রেশন কার্ড, ব্যাঙ্কের পাসবুক, পাসপোর্ট সাইজের ছবি, ঠিকানার প্রমাণ (রেশন কার্ড, ভোটার আইডি বা বিদ্যুৎ বিল), এবং তহসিল অফিস থেকে পাওয়া আয়ের শংসাপত্র। এছাড়াও আধার লিঙ্ক করা একটি মোবাইল নম্বরও প্রয়োজন।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: উপরে উল্লিখিত যোগ্যতা ও শর্তগুলি বর্তমানে চালু থাকা বেকার ভাতা প্রকল্পের নিয়ম। অভিনেতা বিজয়ের নেতৃত্বাধীন দল 'তামিলগা ভেট্রি কাজাগম' (TVK) তাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে এই ঘোষণা করেছিল। দায়িত্ব নেওয়ার পর এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক নির্দেশিকা প্রকাশ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।